Ajker Patrika

স্থানীয় নির্বাচনে সততা ও দেশপ্রেম দেখে প্রার্থী বাছাই করব: শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
স্থানীয় নির্বাচনে সততা ও দেশপ্রেম দেখে প্রার্থী বাছাই করব: শফিকুর রহমান
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা

আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির লড়াই আমরা চালিয়ে যাব, কেউ থামাতে পারবে না। আমাদের প্রথম লড়াই ছিল জাতীয় নির্বাচন। এখন আমাদের দ্বিতীয় লড়াইটা শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। এই লড়াইয়ের একটা জায়গাও যেন এবার খালি না থাকে। যারা জনগণের কাছে প্রিয় হবে, আমরা তাদেরকেই জনগণের হাতে তুলে দিব। স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমরা শুধু দুইটা জিনিস দেখব। একটা তার মাঝে দেশপ্রেম আছে, আরেকটা হলো সেই মানুষটা সৎ-স্বচ্ছ, অসৎ নয়।’

আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত দলীয় এক শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন। সিলেটের সব উপজেলা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যকে নিয়ে এই শিক্ষাশিবিরের আয়োজন করে জেলা জামায়াত।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে যারা জীবনবাজি রেখে আমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল, সমাজের সে সমস্ত জায়গাগুলো থেকে ভালো লোকদের বের করে তাদের হাতে ওই জায়গাগুলোকে (স্থানীয় সরকারের) তুলে দিতে চাই। আমাদের এই জায়গায় অনেক কনসিডারেট ও সেক্রিফাইসিং হতে হবে।’

জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘নির্বাচনে আমাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়নি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের হক কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এটি আমাদের কাছে পরিষ্কার। ১০-১২ হাজার পর্যন্ত ভোটের ব্যবধানে যাদেরকে হারানো হয়েছে, এটা ইচ্ছাকৃত। দু-এক জায়গায় ঘোষণা দিয়েও তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিছু স্পর্শকাতর জায়গায় ইচ্ছাকৃতভাবে হারানো হয়েছে। যেখানেই যাচ্ছি, লোকে আমাদের বলে—আপনারা হারেননি, আপনাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে আমাদের তিনটি লাভ হয়েছে। এক. এই প্রথম জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বে একটা অর্থবহ ঐক্য হয়েছে। এর আগে আমরা অন্যের নেতৃত্বে ঐক্য করেছিলাম। এবার আমাদের নেতৃত্বে হয়েছে। দুই. এই প্রথম আল্লাহ আমাদের প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। তৃতীয় লাভ হলো—এবার আমরা ছয়টা শক্তির বিরুদ্ধে সমান্তরালে লড়াই করেছি। আমি তাদের নাম বলছি না, আপনারা সকলেই তা জানেন। ছয় শক্তির সম্মিলিত শক্তি কতটুকু, তা আমরা বুঝে গেছি।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই ছয় শক্তি নিয়ে তারা আমাদের সঙ্গে পারত না, যদি অন্য কিছুর আশ্রয় না নিত। এই অন্য কিছুর আশ্রয়ের কথা এখন কেবল আমরা বলছি না, টিআইবি বলেছে, সুজনও এ কথা বলছে, আরও অনেকে বলতে শুরু করেছে। এই সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের আবার লড়তে হবে। এখন থেকেই আমাদের কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।’

জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এ শিক্ষাশিবিরে শফিকুর রহমান আরও বলেন, ঢাকার বস্তিগুলোতে গিয়ে বড় বড় ওয়াদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব বস্তিতে টাকা, ওয়াদা, সন্ত্রাস কোনো কিছুই কাজ করেনি। ফলাফলে তা দেখা গেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত