
জনগণের অধিকার ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জুলাই শেষ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
আজ শনিবার রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক প্রদর্শনী শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
জুলাই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই শেষ হবে সেদিনই, যেদিন জনগণের অধিকার নিশ্চিত হবে। যে জন্য এই আন্দোলন হয়েছিল, যে প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আন্দোলন হয়েছিল, তা যখন পূরণ হবে, সেদিনই জুলাই সার্থক হবে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংস্কারের জন্য গঠিত ঐকমত্য কমিশন মাসের পর মাস আলোচনা করে একটি চার্টার তৈরি করেছে। ছোট ছোট বিষয়ে ৩১টি দল একমত হলেও নিজেদের স্বার্থের বিষয় সামনে এলে মতভেদ তৈরি হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, এসব মতভেদের বড় অংশ বর্তমান সরকারি দলের পক্ষ থেকেই এসেছে।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা যে দু-একটি বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছি, এটা আমাদের দলের প্রোটেকশনের জন্য নয়, জনগণের প্রোটেকশনের জন্য। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কীভাবে নির্ধারিত হবে, নির্বাচন কমিশন কীভাবে গঠিত হবে—এসব বিষয়ে আমাদের অবস্থান ছিল, কোনো দলীয় লোক বা দলীয় কর্তৃত্বের মাধ্যমে এগুলো গঠিত হতে পারবে না। নির্দলীয় কমিশনের মাধ্যমে এগুলো হতে হবে।’
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, বিএনপিও গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছিল এবং জনগণকে বলেছিল, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ‘হ্যাঁ’ বললে সেই রায় বাস্তবায়ন করতে সবাই বাধ্য থাকবে। কিন্তু নির্বাচন ও সরকার গঠনের পর সেই অবস্থান পরিবর্তন করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘তাঁরা ক্ষমতায় গেলেন, প্রতারণার সুযোগ পেয়ে গেলেন—এবার তাঁদের মানসিকতা বদলে গেল। দুইটা শপথ নেওয়ার কথা, একটা নিলেন, আরেকটা নিলেন না। তাঁরা বলছেন, এটা সংবিধানে নেই। সংবিধানে তো ২৬ সালের নির্বাচনও নেই। এটা তো জাতির প্রয়োজনে। উইল অব দ্য পিপল ইজ দ্য সুপ্রিম ল—জনগণের অভিপ্রায় হচ্ছে সবচেয়ে বড় আইন।’
বর্তমান সরকার গঠনের পরও নতুন বন্দোবস্তের পরিবর্তে একই ধরনের দুর্নীতি ও দলীয়করণ চলছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘এতগুলো মানুষ পঙ্গু হলো, এতগুলো মানুষ আহত হলো, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সবাই আন্দোলনে এল। এগুলোর জন্য কি শুধু একই তরিকার এক দলকে সরিয়ে একই তরিকার আরেক দলকে বসানোর জন্য সবকিছু তৈরি হয়েছিল?’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংসদে আমরা প্রতিকার পাইনি, ন্যায়বিচার পাইনি। আপনাদের অধিকার সংসদে তাঁরা মেনে নেয়নি। এখন আপনাদের সঙ্গে নিয়েই সেই অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে আন্দোলন করব। সেই আন্দোলনে আমরা আছি।’
‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, এটি কোনো সরকারের সফলতার চিত্র তুলে ধরার আয়োজন নয়। বরং যুগে যুগে যারা ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচারী ও কর্তৃত্ববাদী ছিল, তাদের শাসনামলে জনগণ কীভাবে নিগৃহীত ও অত্যাচারিত হয়েছে, তা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা কী, জাতির প্রত্যাশা কী, শহীদদের প্রত্যাশা কী, শহীদ পরিবারের প্রত্যাশা কী—এগুলো তুলে ধরার জন্য মূলত আমাদের এই আয়োজন।’
প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ থাকলেও জিয়াউর রহমানের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা না থাকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘উনি তো অটোক্রেট শাসক ছিলেন না। যারা কর্তৃত্ববাদী ছিল, যারা আগ্রাসী ছিল, তাদের আমরা এখানে দেখিয়েছি। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে। আবার যারা মুক্তি দিয়েছেন, ন্যায্যতার ভিত্তিতে যাদের অবদান রয়েছে, সেটাও আমাদের ডকুমেন্টারিতে তুলে ধরা হয়েছে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘ইতিহাসে যার যে কল্যাণকর অবদান রয়েছে, তার প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধাশীল। এ বিষয়ে আমরা নির্মোহ ও বাস্তববাদী থাকার চেষ্টা করেছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘নিউটনের আপেল যেমন গাছ থেকে পড়ে, তেমনি গণ-অভ্যুত্থান কোনো নিয়ন্ত্রণের আড়ালে পড়ে যায়নি। এটিকে পাকতে হয়েছে। এটি ৩৬ দিনের আন্দোলনের ফসল নয়; ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল হিসেবে এই আন্দোলন অর্জিত হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
ভারতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি হয়ত ভারতকে ভয় পাচ্ছে। তারা সবার আগে বাংলাদেশ বললেও আমরা দেখছি, যদি ভয় না পেত, তাহলে এটা তো আমাদের ইতিহাসের অংশ। এটা তো ভারত করেছে। যেটা ইতিহাসের অংশ, সেটা কেন থাকবে না?
৬ ঘণ্টা আগে
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতার জন্য ভারতীয় হাইকমিশনকে তলব করে সরকারের কঠোর প্রতিবাদ জানানো উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। আজ শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই
১ দিন আগে
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনার মতো একজন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামির বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা এবং সেই ষড়যন্ত্র বন্ধে বাংলাদেশের কূটনৈতিক আহ্বানকে ভারত সরকার আমলে না নিয়ে তাঁকে আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখা আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন।
১ দিন আগে