রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেশ চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর এক সময়কার ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বর্তমানে প্রধান নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেওয়া ‘জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’ গঠনের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জনসমর্থন পাবে এবং জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে তাঁরা ক্ষমতায় ফিরবেন।
সম্প্রতি দলের প্রধান কার্যালয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ৬০ বছর বয়সী এই নেতা বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি যদি আমার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নিয়েই সরকার গঠন করি, তাহলে বিরোধী দলে বসার জন্য কে থাকবে? একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী বিরোধী দল অপরিহার্য।’
তারেক রহমান আরও যোগ করেন, ‘সংসদে জামায়াত কতটি আসন পাবে, তা আমি জানি না, তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, তবে আমি আশা করি, তারা একটি গঠনমূলক এবং দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।’
উল্লেখ্য, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত চারদলীয় জোট ক্ষমতায় ছিল। তবে এবারের নির্বাচনে তারাই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।
দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে গত ডিসেম্বরে লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার এক ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং দীর্ঘকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করছে।
বিএনপি হাইকমান্ডের মতে, দলটি ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রার্থী দিয়েছে এবং বাকি আসনগুলো সমমনা ছোট দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ জরিপ অনুযায়ী, তাঁরা দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত। তারেক রহমান নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা উল্লেখ না করলেও বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন জনগণ আমাদের দেবে।’
নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের মিত্র শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দেওয়ায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, সে বিষয়েও দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তারেক রহমান। শেখ হাসিনাকে গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গণহত্যা ও দমনপীড়নের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের শীতলতাকে কাজে লাগিয়ে চীন যখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, তখন তারেক রহমান তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য ১৭ কোটি মানুষের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করা। বিশেষ করে ২০২৪ সালের অস্থিরতায় আমাদের তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) খাত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুতরাং যারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে সহায়তা করবে, তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব হবে। আমরা কোনো নির্দিষ্ট বলয়ের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।’
মিয়ানমারে দমনপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, ‘রোহিঙ্গারা আমাদের মেহমান, কিন্তু তাদের চূড়ান্ত গন্তব্য তাদের নিজ ভূমি। আমরা চাই, তারা মর্যাদার সঙ্গে ফিরে যাক।’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত মিয়ানমারে তাদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত না হচ্ছে, ততক্ষণ বাংলাদেশ তাদের মানবিক আশ্রয় দিয়ে যাবে।
অধিকাংশ জনমত জরিপে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের আভাস মিলছে, তবু মাঠ পর্যায়ের বিশ্লেষকেরা বলছেন, পথ খুব একটা সহজ হবে না। জামায়াতে ইসলামী যেমন শক্তিশালী অবস্থানে ফিরছে, তেমনি ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গঠিত নতুন দল তরুণ ভোটারদের মধ্যে বড় প্রভাব ফেলছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ থাকায় লড়াইটি মূলত দক্ষিণপন্থী এবং নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক শক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ এবং বৈদেশিক সম্পর্কের নতুন দিকনির্দেশনা দেবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল অস্ত্রের মজুত করছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এই অস্ত্র নির্বাচনী সহিংসতায় ব্যবহার করা হতে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ...
১ ঘণ্টা আগে
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানবিক দিকগুলো নিয়ে তৈরি হয়েছে তথ্যচিত্র ‘সবার আগে হাসিমুখ’। মানুষ ও প্রাণীর প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যানের সহমর্মিতার বিভিন্ন দিক এতে তুলে ধরা হয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারে অবস্থিত স্টার সিনেপ্লেক্সে তথ্যচিত্রটির প্রিমিয়ার শো হয়।
১ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধানদের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এতে আগ্রহ দেখায়নি অধিকাংশ দল। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে মাত্র ৮টি দল বিটিভিতে ভাষণ দেওয়ার জন্য ইসিতে...
১ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামীকাল রোববার থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ভাষণ প্রচার করা হবে। এখন পর্যন্ত চারটি দলের চারজন শীর্ষ নেতা বিটিভিতে ভাষণ প্রচারের অনুরোধ জানানোয় তাঁদের জন্য সময় বরাদ্দ দিয়েছে রাষ্ট্রীয় এই সম্প্রচারমাধ্যমটি।
৪ ঘণ্টা আগে