Ajker Patrika

সারের সংকট

সম্পাদকীয়
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮: ২০
সারের সংকট

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে চাহিদার তুলনায় সারের বরাদ্দ কম পাওয়ায় বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। এ ঘটনা শুধু মান্দার ব্যাপার না। কয়েক মাস ধরে দেশের

নানা প্রান্তে সার সংকটের খবর পাওয়া যাচ্ছে। কয়েকটি জায়গায় সার না পাওয়ার কারণে গুদাম থেকে সার লুট করার ঘটনাও ঘটেছে।

বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতির প্রাণশক্তি হলেন প্রান্তিক কৃষকেরা। কিন্তু ফসল বোনার মৌসুমে কৃষককে মাঠে থাকার বদলে নেমে আসতে হচ্ছে মহাসড়কে। এর আগেও একই ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। অতীতে বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর সার সংকটের মূল কারণ ছিল প্রশাসনিক রদবদল, তদারকির অভাব এবং বাজারব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য। রাজনৈতিক পালাবদলের পর ডিলারশিপ হাতবদল, পুরোনো বণ্টনপ্রক্রিয়াকে জোরপূর্বক বদলে ফেলা এবং অসৎ চক্রের কারসাজিতে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়।

বিএনপি ক্ষমতায় এলেই কেন সারের তীব্র সংকট দেখা দেয়? এবারও যদি দলীয়ভাবে ডিলার নিয়োগ এবং নানা অনিয়মের মাধ্যমে সংকট সৃষ্টি করা হয়, তাহলে রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি?

কালিকাপুর ইউনিয়নের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, যেখানে হাজার হাজার বস্তা সারের জরুরি চাহিদা রয়েছে, সেখানে সরকারি বরাদ্দ এসেছে চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এই সংকটের বড় কারণ হলো ডিলারদের বরাদ্দ পদ্ধতির ত্রুটি। প্রকৃত চাহিদাকে গুরুত্ব না দিয়ে কেবল ডিলারভিত্তিক বরাদ্দ নীতি চালুর কারণে অনেক কৃষিপ্রধান অঞ্চল বঞ্চিত হচ্ছে।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে সারের মূল্য বৃদ্ধি, সময়মতো সার আমদানি ও সরবরাহে বিলম্ব এবং স্থানীয় পর্যায়ে সারের মজুতদারি ও অবৈধভাবে বেশি দামে বিক্রির প্রবণতা—এ সংকটের আসল কারণ। ফলে রবি মৌসুমের শুরুতে আলু, সরিষা ও পেঁয়াজ চাষে জমি প্রস্তুত রাখা কৃষক সারের জন্য রাত ৩টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও শূন্য হাতে বাড়ি ফিরছেন।

সারের সরকারি বিতরণব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়ার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো দলীয় স্বার্থে ডিলার নিয়োগ। অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত ব্যবসায়ী নন এবং অতীতে কখনো সারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না—এমন ব্যক্তিদের কেবল ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের স্বজন বা অনুগত হওয়ার সুবাদে ডিলার পদে প্রস্তাব করা হয়েছে। যখন রাজনৈতিক পরিচয়ে অনিয়মিত ও অদক্ষ মানুষদের সারের মতো স্পর্শকাতর পণ্যের ডিলারশিপ দেওয়া হয়, তখন তাঁরা কৃষককে সেবা দেওয়ার বদলে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন, সেটাই স্বাভাবিক।

এ সমস্যা থেকে উত্তরণে মাঠপর্যায়ে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সারের ডিলার নিয়োগপ্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ করতে হবে। ডিলারদের কাছে কী পরিমাণ সার আসছে এবং তা কাদের কাছে কত দামে বিক্রি হচ্ছে, তা তদারকি করতে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা ও প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। একই সঙ্গে অসাধু মজুতদার, মুনাফালোভী ডিলার এবং কৃত্রিম সংকট তৈরিকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

সারের সংকট