Ajker Patrika
আপনার জিজ্ঞাসা

কাবিননামায় স্বাক্ষর নিলেই কি বিয়ে হয়ে যাবে?

ইসলাম ডেস্ক
কাবিননামায় স্বাক্ষর নিলেই কি বিয়ে হয়ে যাবে?

প্রশ্ন: বিয়েতে কনে বা বরের স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া শুধু কাবিননামায় জোরপূর্বক অথবা প্রতারণা করে স্বাক্ষর করালেই কি বিয়ে বৈধ হয়ে যায়? এ বিষয়ে ইসলামের বিধান কী?

সাইফুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

উত্তর: বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি; যাতে উভয় পক্ষের সম্মতি অপরিহার্য। কাউকে অনিচ্ছায় বিয়েতে বাধ্য করা ইসলামপরিপন্থী। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘বিধবা নারীকে তার মতামত নেওয়া ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কুমারী নারীকে তার অনুমতি নেওয়া ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।’ সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! কুমারী নারীর অনুমতি কীভাবে বোঝা যাবে?’ তিনি বললেন, ‘তার নীরবতা।’ (সহিহ বুখারি: ৫১৩৬)

তবে নীরবতাকে অনুমতি গণ্য করার এই বিধান স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য। ভয়, চাপ বা জবরদস্তির কারণে নীরব থাকাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্মতি বলা যায় না।

শুধু স্বাক্ষরই কি যথেষ্ট?

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী বিয়ের মূল শর্ত হলো শরিয়তসম্মত ইজাব-কবুল এবং তা সম্পন্ন হওয়ার সময় প্রয়োজনীয় সাক্ষীর উপস্থিতি। ইজাব অর্থ বিয়ের প্রস্তাব, আর কবুল অর্থ সেই প্রস্তাব গ্রহণ। এর মাধ্যমে বিয়ের চুক্তি সম্পন্ন হয়। শুধু কাগজে স্বাক্ষর করাকে সর্বাবস্থায় ইজাব-কবুলের বিকল্প মনে করা যায় না।

তাই কেউ বিয়েতে সম্মতি না দিয়ে শুধু কাবিননামায় স্বাক্ষর করলে, শুধু ওই স্বাক্ষরের ভিত্তিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না।

জোর করে স্বাক্ষর নিলে কী হবে?

ভয় দেখিয়ে, প্রতারণা করে কিংবা পারিবারিক চাপ প্রয়োগ করে স্বাক্ষর করানো হলে বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। কারণ, কাগজে স্বাক্ষর থাকা আর স্বেচ্ছায় সম্মতি দেওয়া এক বিষয় নয়। কেউ স্পষ্টভাবে অসম্মতি জানানোর পরও বাধ্য হয়ে স্বাক্ষর করলে, সেই স্বাক্ষরকে স্বেচ্ছায় বিয়ে গ্রহণের অকাট্য প্রমাণ ধরা ঠিক হবে না। এ ক্ষেত্রে শুধু স্বাক্ষর দেখে বিয়ে হয়েছে বা হয়নি, কোনোটিই চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা উচিত নয়।

স্বাক্ষর না থাকলেও কি বিয়ে হতে পারে?

কাবিননামায় স্বাক্ষর বিয়ের বৈধতার একমাত্র শর্ত নয়। শরিয়তের শর্ত পূরণ করে ইজাব-কবুল সম্পন্ন হলে স্বাক্ষর না থাকলেও বিয়ে বৈধ হবে। উল্টো দিকে, শুধু স্বাক্ষর থাকলেই সব শর্ত পূরণ হয়েছে ধরে নেওয়া যাবে না। কাবিননামা বিয়ের গুরুত্বপূর্ণ দলিল, কিন্তু শরয়ি বৈধতার প্রশ্নে মূল বিবেচ্য হলো প্রকৃত চুক্তি কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

বাংলাদেশের আইনে বিষয়টির গুরুত্ব

বাংলাদেশে মুসলিম বিয়ের নিবন্ধন ও কাবিননামার আইনগত গুরুত্ব রয়েছে। তবে স্বাক্ষর নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে শুধু স্বাক্ষর আছে কি নেই, তা দেখে সব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। স্বাক্ষরের সত্যতা, বিয়ের পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ।

কেউ জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ করলে তার উচিত ঘটনার প্রমাণ সংরক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া। একই সঙ্গে শরয়ি বিধান জানতে পুরো ঘটনা বিস্তারিতভাবে কোনো নির্ভরযোগ্য মুফতিকে জানানো দরকার। এসব বিষয়ে নিজ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা অনুচিত। (ফাতহুল কাদির: ৩/১৯০; আল-হিদায়া: ২/৩০৬)

উত্তর দিয়েছেন: মুফতি ফয়জুল্লাহ রিয়াদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক ও মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

কাবিননামায় স্বাক্ষর নিলেই কি বিয়ে হয়ে যাবে?