চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ১৪ আগস্ট ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার ছয় দিন পর এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের ভয়ে কেউ মামলা করার সাহস পাচ্ছেন না। অপরদিকে প্রতি নিহত শ্রমিকের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও, এখন পর্যন্ত কেউ টাকা পাননি।
শিল্প মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক গঠিত পৃথক বিশেষজ্ঞ দলের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ মতে, এলএনজি পরিবহনকারী পুরোনো জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংকে বিপজ্জনক মাত্রায় হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের সংস্পর্শেই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা না হওয়ার ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও জড়িত আছেন বলে অভিযোগ আছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। কয়েক বছর পরপর এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। কিন্তু দায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কখনোই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আর এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রাষ্ট্র কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি।
এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় হলো, জাহাজভাঙা শিল্পের জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে একটি স্বাধীন তদারকি সংস্থা গঠন করা। শিল্প মন্ত্রণালয়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং পরিবেশ অধিদপ্তরকে শুধু দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠনে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বন্দর বা ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার অনুমোদন দেওয়ার আগেই বিষাক্ত গ্যাস পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। বুয়েট বা সমমানের নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিয়মিত পরিদর্শন নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া আইনি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার জরুরি। বিষাক্ত গ্যাসের কারণে শ্রমিকদের করুণ মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে দেখানো উচিত কি? কিন্তু পুলিশ কেন এটা করল, সে কৈফিয়ত কে দেবে? কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে মৃত্যু হলে তা সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা। কিন্তু তা করা হয়নি। যখন নিহত বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পরিবার মালিকপক্ষের ভয়ভীতি পেয়ে মামলা না করতে পারবে, তখন রাষ্ট্রকেই বাদী হয়ে মামলা করতে হবে।
জাহাজভাঙা শিল্পে কাজ শুরুর আগে শ্রমিকদের আধুনিক সুরক্ষা সরঞ্জাম, গ্যাস শনাক্তকরণ সেন্সর মেশিন নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক করতে হবে। এটি লঙ্ঘন করলে কারখানার লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তা ছাড়া, দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি, যাতে মালিকপক্ষের দয়ার ওপর তাদের নির্ভর করতে না হয়। উপার্জনের একমাত্র ব্যক্তিকে হারিয়ে অসহায় পরিবারগুলো যেন বিপদের মধ্যে না পড়ে, সে জন্য রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
জাহাজভাঙা শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, শ্রমিকের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ খাত কখনোই টেকসই হবে না। রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার নাগরিকদের জীবনের সুরক্ষা দেওয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে, অন্যথায় এ ধরনের ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।

আমাদের অধিকাংশের কাছেই কবির বকুল মূলত গীতিকার। তাঁর লেখা গান বাংলাদেশের জনপ্রিয় শ্রুতি-সংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে; শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে ছয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তাঁর এই পরিচয়কে আরও স্পষ্ট করেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
টাকা কামানো আজকাল খুব সহজ হয়ে গেছে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক—সবাই পারবেন, শুধু মাথাটা এদিক-সেদিক নাড়িয়ে নিতে হবে। এর আগে পৌঁছাতে হবে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার এক মুরগির খামারে, নয়তো ডেমাজানি ব্রিজের কাছে একটি গুদামে। সেখানে গিয়ে ফিটফাট হয়ে কয়েকটা ছবি তুলে বা ভিডিও করলে পাওয়া যায়...
১১ ঘণ্টা আগে
ড. তৌহিদুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ। অপরাধ, অপরাধ-অর্থনীতি, অপরাধের সমষ্টিভিত্তিক সমাধান, অপরাধের রূপান্তর প্রসঙ্গ নিয়ে গবেষণা ও লেখালেখি করেন।
১১ ঘণ্টা আগে
আগে লোকালয়ের কাছাকাছি বা বড় কোনো গাছে বা বাঁশঝাড়ে যে ছোট বাঘটিকে দেখে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ত, সেটিই মেঘলা চিতা। মানুষ এদের আক্রমণাত্মক মনে করত। আদতে এরা মানুষের কোনো ক্ষতি করে না, বরং বনেই লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে।
১২ ঘণ্টা আগে