শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মানুষের ভিড় নিয়ে একটি প্রতিবেদন বেরিয়েছে আজকের পত্রিকায়। সাদামাটা কথায় বলতে হয়, এই ভিড়ের জন্য যাত্রীরা নন; বরং দায়ী হলো যাত্রীকে বিদায় দিতে আসা মানুষ। একজন মানুষকে স্বাগত জানাতে কিংবা বিদায় দিতে যখন পুরো পরিবারের মানুষ চলে আসেন বিমানবন্দরে, তখন সেই ভিড় সামলাতে অসুবিধা তো হবেই।
বিমানবন্দরের ড্রাইভওয়ে এবং ক্যানোপিতে যাত্রীর স্বজনের ভিড় যাত্রীদেরই ভোগান্তি বাড়াচ্ছে, কিন্তু কেউই সমস্যাটিকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন না।
শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়ম করেছিল, যাত্রীপ্রতি মাত্র দুজন স্বজন আসতে পারবেন বিদায় জানাতে অথবা যাত্রীকে স্বাগত জানাতে। কিন্তু কে মানে সেই নিয়ম? এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে, আইন আছে বুঝলাম, কিন্তু সেই আইনের প্রয়োগ কি আছে? প্রয়োগই যদি না থাকে, তাহলে বাড়তি স্বজনের ভিড় কমবে কী করে? সেই সঙ্গে যদি হকার, দালালেরা প্রবেশপথে জট বাঁধায়, তাহলে তো সোনায় সোহাগা! নির্বিঘ্নে বিমানবন্দরে ঢোকার সব পথ বন্ধ হতে বাকি থাকে না। তার ওপর যদি গোদের ওপর বিষফোড়ার মতো যত্রতত্র পার্ক করা হয় গাড়ি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল; তাহলে উৎসবের আর বাকি থাকে কী!
এ ধরনের সমস্যার সমাধান করার মতো নিরাপত্তা বাহিনী তো রয়েছে বিমানবন্দরে। তারা কি তাদের ওপর প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করছে? যদি দায়িত্ব পালনই করত, তবে এই বাড়তি চাপ কি নিতে হতো বিমানবন্দরকে? বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ যে একই বিষয়ের দুটি অংশ, সে কথা কি বুঝিয়ে বলতে হবে? যখন জনসমাগম নিয়ন্ত্রণহীন হয়, তখন জরুরি পরিস্থিতিতে তাদের বের করা, যাত্রী চলাচল ও নিরাপত্তা তল্লাশি—সবকিছুই বিঘ্নিত হয়।
এবার কিছু বিষয়ে আলোচনা করা যাক। যেকোনো সাধারণ মেধাসম্পন্ন মানুষই এই বিষয়গুলো বোঝে, কিন্তু যাদের ওপর এই দায়িত্ব বর্তেছে, তারা কেন বোঝে না, সে এক প্রগাঢ় রহস্য।
আমরা যদি একটু গভীরভাবে ভাবি, তাহলে দেখব, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মূল সমস্যা শুধু অযাচিত ভিড় নয়। মূলত ব্যবস্থাপনায়ই গলদ রয়েছে। যাত্রীর সঙ্গে দুজন স্বজনের প্রবেশ অনুমতি আছে। যদি এই নিয়ম কেউ না মানে, তাহলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য শুধু সাধারণ নিরাপত্তারক্ষীদের দিয়ে কাজ করালে কাজ না হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। ‘ক্রাউড কন্ট্রোল টিম’-এর মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের দিকে এগোতে পারে। এ কথা সত্যি, বিদেশ থেকে বহুদিন পর কেউ দেশে ফিরলে আবেগের বশে ৮-১০ জন চলে আসতে পারেন বিমানবন্দরে। কিন্তু তাঁদের কজন কোন জায়গা পর্যন্ত যেতে পারবেন, তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নিয়ম, নিরাপত্তাকর্মী, সিসিটিভি, গাড়ি নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনা জরুরি। সেটা যেন কাজির গরুর মতো না হয়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা বিশৃঙ্খল জাতি—এ রকম একটি অভিধা আমাদের সম্মান বাড়াবে না।

আদিমকাল থেকেই মানুষ আকাশের দিকে তাকিয়ে খুঁজেছে কোনো দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে ভেসে আসা বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের সংকেত। আমরা সন্ধান করেছি এলিয়েন বুদ্ধিমত্তার, দূরতম গ্যালাক্সিতে কান পেতে শুনেছি ভিনগ্রহের কোনো বার্তা পাওয়া যায় কি না। কিন্তু প্রকৃতির কী অদ্ভুত রসিকতা বা আমাদের বোঝার নির্বুদ্ধিতা...
১ ঘণ্টা আগে
ঢাকার অদূরে অবস্থিত ধামরাই উপজেলার একটি ছিমছাম ও শান্ত গ্রাম ললিতনগর। একসময় এই বিস্তীর্ণ জনপদজুড়ে ছিল সবুজের সমারোহ আর কৃষির বিস্তার। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে তখন সারা বছর ধরে আবাদ হতো নানা জাতের ফসল।
১ দিন আগে
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই নিয়ে বাংলাদেশের বিশিষ্ট মার্ক্সবাদী রাজনীতিক ও তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমরের সামান্য কিছু মূল্যায়নের কথা গত ৩০ সেপ্টেম্বরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টে তুলে ধরেছেন অধ্যাপক মোরশেদ শফিউল হাসান।
১ দিন আগে
বাংলাদেশ এখন এমন একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো রাষ্ট্র কি তার পুরোনো শাসন-ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো অতিক্রম করতে পারবে? ২০২৪ সালে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর যে রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস শুরু হয়েছিল...
১ দিন আগে