ভর্তুকি সমন্বয়, লোকসান কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম একলাফে ১৫ থেকে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এ নিয়ে আজকের পত্রিকার প্রথম পাতায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ঘোষণা দিয়েছিল, দুই বছরের মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের তিন মাস পরই সে কথার বরখেলাপ করল সরকার। এর আগে দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। তার আগে ইরানে আগ্রাসনের পরপরই সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। এখন বিদ্যুতের বাড়তি দাম যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।
বিদ্যুতের এই দাম বাড়ার প্রভাব পড়বে সর্বত্র। বিশেষ করে নিম্নমধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের জীবনযাপন আরও কষ্টকর হয়ে যাবে। ১১ জুন আবার জাতীয় বাজেট পেশ হবে। তার কশাঘাত তো আছেই। কারণ, বাজেট পেশের পর এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার থেকে শুরু করে কৃষি উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও সেবামূলক খাত—সবখানেই এর ধাক্কা লাগবে। ফলে মূল্যস্ফীতির জাঁতাকলে পিষ্ট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।
দেশে জ্বালানিসংকট একটা স্থায়ী সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। আর বিদ্যুৎ খাতের সংকটের মূলে রয়েছে কাঠামোগত দুর্বলতা, অব্যবস্থাপনা এবং নীতিগত ত্রুটি, যা দীর্ঘদিন ধরে সব সরকারই উপেক্ষা করে আসছে। জ্বালানি খাতের অভ্যন্তরীণ সংকটগুলো সমাধানে যদি সরকারগুলো আন্তরিক হতো, তাহলে প্রতিবছর বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডিজেল কোনো কিছুরই মূল্যবৃদ্ধির প্রয়োজন পড়ত না।
বিদ্যুৎ খাতের আসল ক্ষত লুকিয়ে আছে এর চরম অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, সিস্টেম লস এবং বিতর্কিত ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা কেন্দ্রভাড়া নীতির মধ্যে। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বছরের পর বছর বসিয়ে রেখে হাজার হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। এই অনুৎপাদনশীল খাতে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থের অপচয়ই বিদ্যুৎ খাতকে দেউলিয়া করার প্রধান কারণ। এই কাঠামোগত লুটপাট দূর না করে, কেবল ভর্তুকি কমানোর সহজ রাস্তা বেছে নিয়ে জনগণের পকেট কাটার এই নীতি কোনোভাবেই একটি জনবান্ধব সরকারের কাজ হতে পারে না।
উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সংকটময় সময়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে সরকারের সামনে অনেক বিকল্প পথ খোলা ছিল, যা বিদ্যুৎ খাতকে টেকসই ও সাশ্রয়ী করতে পারত। সরকারের প্রথম এবং প্রধান করণীয় ছিল বিদ্যুৎ খাতের সব ধরনের অপচয়, দুর্নীতি ও সিস্টেম লস শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। ‘বিদ্যুৎ না দিলে মূল্য দেওয়া হবে না’—এই নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হতো, যা সরাসরি ভর্তুকি হিসেবে ব্যবহার করা যেত।
জনগণ রাষ্ট্রের মালিক, কোনো করপোরেট সংস্থার গ্রাহক নয় যে লোকসানের দায় বারবার তাদের ওপরই চাপানো হবে। বিদ্যুৎ খাতের নীতিগত ভুল ও দুর্নীতির খেসারত দেশের সাধারণ মানুষ কেন দেবে?

কুমিল্লায় ১৩ বছরের অপ্রতীম নামের এক শিশুকে মোবাইল ফোনের কারণে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় যখন সারা দেশ ক্ষোভে ফেটে পড়ছে, তখনই আরেকটি নির্মম ঘটনা ঘটেছে খুলনায়।
১৬ ঘণ্টা আগে
মাত্র সাত মাসের মধ্যেই দেশের অর্থনীতিকে সরকার একটি স্থিতিশীল ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে ফেলবে—এমনটি নিশ্চয়ই কোনো বিবেকবান মানুষ আশা করে না বা সেটি তাদের কারও দাবিও নয়। তবে সরকার সেটি করতে চায় কি না বা এ বিষয়ে কী করতে চায়, তা বোঝার জন্য সাত মাসই যথেষ্ট।
১৭ ঘণ্টা আগে
ডিমেনশিয়া শনাক্তকরণ সবার দায়িত্ব—পরিবার থেকে রাষ্ট্র। একই কথা বারবার বলা, কিছুক্ষণ আগের ঘটনা মনে না থাকা, পরিচিত মানুষের নাম ভুলে যাওয়া কিংবা হঠাৎ আচরণে পরিবর্তন—এসব দেখলেই আমরা অনেক সময় বলি, ‘বয়স হয়েছে, তাই এমন হচ্ছে।’ কিন্তু সব ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক বার্ধক্যের লক্ষণ নয়। এর আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে..
১৯ ঘণ্টা আগে
তৃষ্ণার্তকে পানি পান করানো যে একটি ভালো কাজ, তা নিশ্চয়ই সচেতন পরিবারের শিশুদের শিক্ষা দেওয়া হয়। একই শিক্ষা হয়তো পেয়েছিল ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের এক প্রবাসীর ছেলে। তৃষ্ণার্ত ভেবে যাদের পানি খাওয়াতে চেয়েছিল সে, তারাই তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার ঘরে ঢুকে লুটপাট চালায়।
২ দিন আগে