Ajker Patrika

বাড়িভাড়া সমাচার

সম্পাদকীয়
বাড়িভাড়া সমাচার

ঢাকা শহরের বাসিন্দাদের কাছে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম বাড়িভাড়া। এ শহরে বসবাসরত বিশেষ করে দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের উপার্জনের একটা বড় অংশ বাড়িভাড়াতেই চলে যায়। এই পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ২০ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১৬ দফা নির্দেশিকা দিয়েছে। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, দুই বছরের আগে কোনোভাবেই ভাড়া বাড়ানো যাবে না, ভাড়ার পরিমাণ বাড়ির বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না এবং অগ্রিম এক থেকে তিন মাস পর্যন্ত দিতে হবে। এটা কার্যকর করে বর্তমান ভাড়া নির্ধারণ করলেও সেটা অনেক বেড়ে যাবে। কারণ, বাড়িভাড়া আইন, ১৯৯১-এর ১৫ নম্বর ধারায় বাড়ির বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশের সমান ভাড়া নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। সেটা নিয়ে সে সময়ও প্রশ্ন উঠেছিল।

২০১০ সালে হাইকোর্টে একটি রিট করে ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ সংগঠনটি। ২০১৫ সালের ১ জুলাই রিটের রায় ঘোষণা করা হয়। সেই রায়ে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এরপর আবারও ২০১৯ সালে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৫ ধারা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করা হয়। কারণ, ১৫ শতাংশ ধরে বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা হলে সেটার পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে। সে কারণেই রিটটি করা হয়েছিল। সেটা এখনো আদালতে শুনানি পর্যায়ে রয়েছে, কোনো মীমাংসা হয়নি। প্রশ্ন হলো, বাড়িভাড়া আইনের যে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ছিল, সেটা আবার নতুন করে উত্থাপন করার যৌক্তিকতা কতটুকু?

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) এক পরিসংখ্যান মতে, গত ২৫ বছরে রাজধানীতে বাড়িভাড়া বেড়েছে প্রায় ৪০০ শতাংশ। একই সময়ে নিত্যপণ্যের দাম যতটা বেড়েছে, সেই তুলনায় বাড়িভাড়া বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। সংগঠনটির অন্য এক পরিসংখ্যান মতে, ঢাকার ২৭ শতাংশ ভাড়াটে আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ, ৫৭ শতাংশ ভাড়াটে আয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ, ১২ শতাংশ ভাড়াটে আয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ ব্যয় করেন বাড়িভাড়া পরিশোধে। পাশাপাশি ২০২৪ সালে ‘মার্সার কস্ট অব লিভিং সার্ভে’ নামে এক জরিপ থেকে জানা যায়, বিশ্বের ব্যয়বহুল শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল ১৪০তম, যা ২০২৩ সালের তালিকায় ছিল ১৫৪। অর্থাৎ ১৪ ধাপ এগিয়েছে ঢাকা। এই দুটি পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়, এ শহরে যাঁরা বাস করেন তাঁদের শুধু বাড়িভাড়া আর পেট ভরাতে আয়ের বেশির ভাগ টাকা শেষ হয়ে যায়। উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়ে পুরোনো একটা অমীমাংসিত বিষয়কে সামনে নিয়ে আসার মানে হলো, ‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা’ দেওয়ার মতো।

যদি ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ ১৯৯১ সালের বাড়িভাড়া আইনের অমীমাংসিত বিষয়, তার সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করত, তাহলে একটা ভালো কাজ হতে পারত। সরকার যে আইন করেছে, সেটারই বাস্তবায়ন করা হয়নি, তাহলে নতুন এই নির্দেশনা দিয়ে নগরবাসীর যে কোনো উপকার হবে না, তা স্পষ্ট।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ফিরে এসেছে শৈত্যপ্রবাহ, কোথায় কত দিন চলবে

কারাগারেই প্রেম দুই ভয়ংকর খুনির, বিয়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দিল আদালত

জঙ্গল সলিমপুর: ‘জনবিস্ফোরণ’-এর হুঁশিয়ারি র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার প্রধান আসামির

বিশ্বকাপ না খেললে কত কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে বাংলাদেশ

আজকের রাশিফল: নববিবাহিতদের জন্য সুখবর অপেক্ষা করছে, ছোটদের পরামর্শও কাজে লাগবে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত