সরস্বতী হলেন বৈদিক যুগের অন্যতম প্রধান দেবী, যিনি জ্ঞান, প্রজ্ঞা, শিল্পকলা, সংগীত ও সৃজনশীলতার প্রতীক। হিন্দু বিদ্যা ও সংগীতের দেবী সরস্বতীর আরাধনাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠেয় একটি অন্যতম প্রধান হিন্দু উৎসব হলো সরস্বতীপূজা। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতীপূজা আয়োজিত হয়। তিথিটি শ্রীপঞ্চমী বা বসন্ত পঞ্চমী নামেও পরিচিত। আজ সেই তিথি।
বৈদিক শাস্ত্রে সরস্বতীপূজা জ্ঞান, শিল্পকলা ও প্রজ্ঞার দেবী সরস্বতীকে উৎসর্গীকৃত, যিনি বেদে এক শক্তিশালী নদী ও জ্ঞানদাত্রী হিসেবে পূজিত। শিক্ষার্থীদের মধ্যে অজ্ঞতা দূর করে জ্ঞান, শুদ্ধি ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়। বৈদিক যুগ থেকেই এই দেবীর পূজা প্রচলিত এবং ঋগ্বেদে তাঁর উল্লেখ রয়েছে, যা শিক্ষা ও সংস্কৃতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
সরস্বতী হলেন ব্রহ্মার মানসকন্যা এবং বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবী। শাস্ত্রমতে, সৃষ্টির শুরুতে শব্দ ও ছন্দের মাধ্যমে তিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে চেতনার সঞ্চার করেছিলেন। তাই মানুষ অন্ধকার বা অজ্ঞতা দূর করে প্রকৃত জ্ঞান লাভের আশায় এই পূজা করে।
সরস্বতী শ্বেতবস্ত্র পরিহিতা এবং শ্বেতপদ্মে আসীন, যা পবিত্রতা এবং শুদ্ধ মনের প্রতীক। তাঁর হাতের বীণা আধ্যাত্মিক সুরের প্রতীক এবং অক্ষমালা বা জপমালা একাগ্রতা ও ধ্যানের গুরুত্ব তুলে ধরে। তিনি বাক্ দেবী বা বাণীর দেবী। শিল্পী, লেখক ও ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের জন্য এবং শুদ্ধ উচ্চারণের শক্তি অর্জনে দেবীর আরাধনা করেন।
সরস্বতীপূজা হিন্দুধর্মাবলম্বীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, যা মূলত জ্ঞান, বিদ্যা, শিল্প ও সংগীতের দেবীর আরাধনার জন্য পালিত হয়। বাক্য, বুদ্ধি, বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতী। এই পূজা অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে জ্ঞানের আলো প্রজ্বালিত করার প্রতীক, যা জীবনের প্রকৃত সম্পদ; বিদ্যারম্ভ ও হাতেখড়ির জন্য বিশেষ শুভ তিথি হিসেবে বিবেচিত হয়। সনাতন ধর্মমতে, এই দিনে শিশুদের হাতেখড়ি দেওয়া হয়, যা জ্ঞানার্জনের পথে প্রথম ধাপ এবং এতে দেবীর আশীর্বাদ কামনা করা হয়। পূজায় থাকে দোয়াত-কলম, বই, যবের শিষ, আবির এবং পলাশ কিংবা বাসন্তী গাঁদা ফুল; কখনো কখনো আমের মুকুল কিংবা জুঁই ও গোলাপ। দেবীর প্রিয় শ্বেতপদ্ম হলে তো সোনায় সোহাগা। এগুলো দেবীকে উৎসর্গ করলে তাঁর কৃপা লাভ করা যায় এবং ভক্তের মন শুদ্ধ ও জ্ঞানদীপ্ত হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। শঙ্খ ধ্বনি ও মন্ত্র জপের মাধ্যমে এ পূজা সম্পন্ন করা হয়।
সরস্বতীপূজা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও সৃজনশীলতা বাড়ায় এবং ‘বিদ্যা দদাতি বিনয়ম্’ অর্থাৎ বিদ্যা বিনয় দান করে, এই নীতি অনুসারে বিনয়ী হতে শেখায়। শিল্পী, শিক্ষক, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি তাঁদের মেধা ও প্রতিভাকে উন্নত করার একটি পবিত্র দিন। বাদ্যযন্ত্র, বই ইত্যাদি দেবীর চরণে রেখে জ্ঞানকে উৎসর্গ করা হয় এবং প্রদীপ জ্বালিয়ে অজ্ঞতা দূর করা হয়।
সরস্বতীকে একটি শক্তিশালী নদী ও পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। নদী যেমন পবিত্রতা আনে, তেমনি সরস্বতী দেবীও মানুষের মনকে পবিত্র ও শুদ্ধ করেন, যা সত্ত্বগুণ বিকাশে সহায়ক। মূলত, সরস্বতীপূজা শুধু একটি ধর্মীয় আরাধনা নয়; বরং জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সৃজনশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার একটি সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক উৎসব।
বৈদিক শাস্ত্রে সরস্বতীপূজা জ্ঞান, শিল্পকলা ও প্রজ্ঞার দেবী সরস্বতীকে উৎসর্গীকৃত। যিনি বেদে এক শক্তিশালী নদী ও জ্ঞানদাত্রী হিসেবে পূজিত, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অজ্ঞতা দূর করে জ্ঞান, শুদ্ধি ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়। বৈদিক যুগ থেকেই এই দেবীর পূজা প্রচলিত এবং ঋগ্বেদে তাঁর উল্লেখ রয়েছে, যা শিক্ষা ও সংস্কৃতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
সরস্বতীপূজা মানবজীবনের সার্বিক বিকাশে অপরিহার্য।

বেশ কিছু দিন ধরেই সকালের সবাদপত্র খুললে বা টেলিভিশন দেখলেই অসম্ভব সব মৃত্যুর খবর সবার জীবন-যাপনকে স্থবির করে দেয়। কিছুদিন দেখা গেল ধর্ষণ ও ধর্ষণের হত্যার খবর। তারপর খুব সহজেই যেন শিশু হত্যা ঘটছে। আবার আরেকজনের ভাত খেয়ে ফেলার অপরাধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে হত্যা। এসব হত্যার ঘটনা তো অবিরাম ঘটেই চলছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
একটি রাষ্ট্রের অর্থনীতি কতটা স্থিতিশীল, তার অন্যতম সূচক হলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান কেমন? যখন মানুষ প্রতিদিনের বাজার খরচ, যাতায়াত ব্যয় কিংবা পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে হিমশিম খায়, তখন উন্নয়নের হিসাবের পাশাপাশি জনজীবনের বাস্তবতাও নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন দেখা দেয়।
১৮ ঘণ্টা আগে
একটি শিশুর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোক নয়; কখনো কখনো তা একটি সমাজের আয়না হয়ে ওঠে। অপ্রতিমের মর্মান্তিক মৃত্যু তেমনই একটি ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। কেউ তার বয়সের তুলনায় বড়দের সঙ্গে মেলামেশা, টিকটক ভিডিও...
১৮ ঘণ্টা আগে
নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকাতে নিজেই গেছে ইউএনওর কাছে। এযাত্রা মেয়েটা এই বাল্যবিবাহের অভিশাপ থেকে বেঁচে গেল। অভাবের সংসারে চার মেয়ের মধ্যে তিনজনের বিয়ে দিয়েছেন মা। বাকি এই মেয়েকে বিয়ে দিতে পারলে বিধবা নারীটি হয়তো স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতেন।
১৮ ঘণ্টা আগে