Ajker Patrika

একটি ক্লিকে

সম্পাদকীয়
একটি ক্লিকে

মাত্র একটি ক্লিক আপনাকে নিঃস্ব করে দিতে পারে। একটু সতর্ক না হলে আপনার যক্ষের ধন চলে যেতে পারে অন্যের হাতে। আপনার সারা জীবনের সঞ্চয় আপনি নিজেই এক ক্লিকে অন্য কাউকে দিয়ে দিতে পারেন। কাজটা নিশ্চয়ই আপনি জেনেবুঝে করবেন না। প্রতারণার ফাঁদ পেতে কপট কেউ সহজে ধোঁকা দিয়ে লুট করে নেবে আপনাকে। কীভাবে? তা জানা যায় ১১ জুন আজকের পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত একটি সংবাদ থেকে।

একসময় প্রতারকেরা হয়তো মানুষের দরজায় কড়া নাড়ত, এখন তারা সরাসরি মানুষের হাতের মুঠোয় পৌঁছে যাচ্ছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। একটি এসএমএস, একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা কিংবা সেসব বার্তায় থাকা একটি আকর্ষণীয় লিংক; এতটুকুই যথেষ্ট। ওই লিংকে একটি ক্লিকের পরই মুহূর্তের মধ্যে উধাও হয়ে যেতে পারে কষ্টার্জিত সঞ্চয়, ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা ডিজিটাল পরিচয়। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ফিশিং লিংকের মাধ্যমে প্রতারণার বিস্তার লাভ করায় প্রযুক্তির সুবিধার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়েছে।

প্রতারকেরা এখন সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, ভাতা কর্মসূচি, লটারি, এমনকি ট্রাফিক মামলার নাম ব্যবহার করে মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই প্রতারণা শুধু টাকা চুরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য, ই-মেইল, পাসওয়ার্ড, ব্যাংকিং তথ্য, এমনকি মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণও হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব।

প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে মানুষের সচেতনতা যতটা বাড়ার কথা ছিল, বাস্তবে তা অনেক ক্ষেত্রেই ঘটেনি। কৌতূহল, লোভ অথবা ভয়—এই তিন মানবিক দুর্বলতাকে প্রতারকেরা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। চাকরি বা ঋণের প্রলোভন, ফ্রিল্যান্সিং, ই-টিকিটিং ইত্যাদি সেবার প্রতারণাগুলোর মধ্যে হালে যুক্ত হয়েছে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের জরিমানা। ভুয়া লিংকের মাধ্যমে সেই জরিমানা আদায় করতে চায় প্রতারকেরা!

বারবার সতর্কতা জারি হওয়ার পরও মানুষ একই ফাঁদে কেন পা দিচ্ছে, তা ভাবতে হবে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, অধিকাংশ ভুক্তভোগী প্রতারণার শিকার হলেও আইনগত ব্যবস্থা নেন না। এতে অপরাধীরা যেমন ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়, তেমনি প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণও আড়ালে থেকে যায়।

এ পরিস্থিতিতে শুধু নাগরিকদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান যথেষ্ট নয়। মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক অপারেটর, ব্যাংক, আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সন্দেহজনক লিংক শনাক্ত ও ব্লক করার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে গণসচেতনতা কার্যক্রমকে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব দিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি যে মানুষের কল্যাণের জন্য বিস্তার লাভ করেছে; ব্যাপারটি তখনই অর্থবহ হবে, যখন জনসাধারণ প্রযুক্তি ব্যবহার করবে নিরাপদভাবে।

বর্তমান সময়টাকে যেন প্রযুক্তিই দখল করে রেখেছে। ফলে সবচেয়ে বিপজ্জনক চোর হয়তো রাতের অন্ধকারে আপনার ঘরে চুপটি করে আসে না; আসে প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো বার্তার ভেতর লুকিয়ে। তাই অচেনা কোনো লিংকে ক্লিক করার আগে এক মুহূর্তের সতর্কতাই হতে পারে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত