Ajker Patrika

শিশু হত্যা

সম্পাদকীয়
শিশু হত্যা

ঈদুল আজহার এক দিন আগে রাজধানীর মগবাজারের আদ্‌-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শ্বাসকষ্টে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই হাসপাতাল একটি অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান। সে কারণে কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষেরা সেখানে চিকিৎসা নিতে যায়। সেই হাসপাতালে এভাবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা দেশবাসীকে স্তম্ভিত করেছে।

আমাদের দেশে যেকোনো ঘটনার পরেই কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। আবার কিছুদিন পর সব স্বাভাবিক হয়ে যায়। একটি হাসপাতাল কোন পরিবেশে নির্মাণ করা হলে তা স্বাস্থ্যসম্মত হয়, সেটা নিশ্চয়ই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অজানা নয়। এ হাসপাতালে যে যথেষ্ট পরিমাণ প্রাকৃতিক বাতাস প্রবেশের সুযোগ নেই, সেটা ঘটনা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে স্পষ্ট হয়েছে। তারপরও হাসপাতালটি কীভাবে এত দিন ধরে চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি। এতে যে সরকারি কর্তৃপক্ষের অবহেলা আছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সারা দেশে অলিগলিতে গড়ে ওঠা এ রকম বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংখ্যা নগণ্য নয়। কয়টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক স্বাস্থ্যসম্মত প্রক্রিয়ায় চলে, সেটা নিয়মিত তদারকি করা উচিত।

যেখানে হাসপাতাল হওয়ার কথা জীবনের নিরাপদ আশ্রয়স্থল, সেখানে যখন অপর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন, আলো-বাতাসের অভাব এবং চরম দমবন্ধকর পরিবেশের কারণে নবজাতকদের মৃত্যু হয়, তখন তা কোনোভাবেই সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ ঘটনার দায় এড়াতে পারে না সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষই।

হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের মতো জায়গায় যেখানে প্রচুর প্রাকৃতিক আলো-বাতাস থাকার কথা, সেখানে ন্যূনতম আলো-বাতাস ঢোকার পথ ছিল না। এর চেয়েও বড় অপরাধের বিষয় হলো, হাসপাতালের ভেতরে একটি রুটির কারখানার উপস্থিতি। একটি চিকিৎসাকেন্দ্রের ভেতরে বাণিজ্যিক রুটির কারখানা কীভাবে থাকতে পারে, সে প্রশ্নের উত্তর তো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দিতেই হবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার গভীরে প্রোথিত বেশ কিছু মৌলিক সংকটকে পুনরায় উন্মোচিত করেছে। দেশে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর লাইসেন্স প্রদান এবং নবায়নের ক্ষেত্রে যে নিয়মকানুন রয়েছে, তা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। একটি বহুতল ভবনে হাসপাতাল পরিচালনার জন্য যে ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকার কথা, সেসব না থাকলে পরিবেশ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আদ্‌-দ্বীন কীভাবে পেয়েছে, তা নিয়েও তদন্ত হওয়া দরকার।

এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদারকি ব্যবস্থার চরম গাফিলতি স্পষ্ট হয়েছে, নিয়মিত কোনো মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা মাঠপর্যায়ে সচল নেই। সাধারণ মানুষ বিপুল অর্থ খরচ করেও চিকিৎসকদের গাফিলতি বা হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো আইনি প্রতিকার পায় না।

মগবাজারের এই ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শুধু সাময়িক বরখাস্ত বা তদন্ত কমিটির চক্করে না ফেলে ফৌজদারি আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলসহ নিহত শিশুদের পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। দেশের প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালাতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত