Ajker Patrika

সড়ক ও সংস্কার

সম্পাদকীয়
সড়ক ও সংস্কার

পাবনার ঈশ্বরদী থেকে রাজশাহীর বানেশ্বর পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটারের একটি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কারকাজের বয়স হয়েছে মাত্র দুই বছর। কিন্তু এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের ঈশ্বরদী সীমানার বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে, সড়ক দেবে বিভিন্ন স্থানে গর্তের মতো হয়ে গেছে। দুই বছর আগে সংস্কার করা খানাখন্দে ভরা সড়ক দেখলে যে কারও মনে হতে পারে—এই সড়কটি নাছোড়বান্দা, তাকে যতই সংস্কারের প্রয়াস করা হোক না কেন, সে কিছুতেই রূপ-লাবণ্য ধরে রাখতে নারাজ!

এখন আর এ ধরনের সড়ক সংস্কার ব্যয়ের হিসাব জানলে অবাক লাগে না। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক-সেতু সংস্কার করার পরও যখন পাথর-বিটুমিন উঠে যায়, নাট-বল্টু ঢিলা হয়ে যায়, তখন এসব ঘটনা বারবার খবরে পরিণত হয়ে সাধারণ মানুষকে আর চকিত করে না। ঈশ্বরদী-বানেশ্বর আঞ্চলিক মহাসড়কটির সংস্কার ব্যয়ও অনেক—৪৭৫ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুন মাসে এই সড়কটির সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হয়। সংস্কার শেষ হতে না হতেই সড়কের দুই পাশের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা যায়। সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে সড়কটি এতটাই বেহাল হয়েছে যে যানবাহন ও পথচারী চলাচলে ভোগান্তি ও দুর্ভোগ দেখা দিলে পাবনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বালু ও ইট বিছিয়ে সড়কের গর্ত ভরাট শুরু করেছে। ব্যস, এটুকুতেই কি সমাধান হয়ে যায়?

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, নির্মাণকাজ চলাকালেই তাঁরা নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করেছিলেন। কিন্তু সেই অভিযোগ গুরুত্ব পায়নি। বরং নানা প্রভাবের কারণে প্রতিবাদ স্তব্ধ হয়ে গেছে। এই চিত্র তো আরও উদ্বেগজনক। কারণ, জনগণের চোখে ধরা পড়া ত্রুটি যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার নজর এড়িয়ে যায়, তাহলে তদারকির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হয়। নিম্নমানের নির্মাণের ফলে শুধু সরকারি অর্থের অপচয়ই হয় না, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং জনগণের ভোগান্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়। পরে আবার সেই সড়ক মেরামতে নতুন বরাদ্দ দিতে হয়, যা শেষ পর্যন্ত করদাতা তথা সাধারণ জনগণের ওপরই বোঝা হয়ে ফিরে আসে।

দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য হতাশাজনক—কেউ বলছেন, না দেখে মন্তব্য করা সম্ভব নয়; কেউ বলছেন, তিনি পরে যোগ দিয়েছেন, তাই কিছু জানেন না। কিন্তু সরকারি দায়িত্ব কি ব্যক্তির যোগদানের তারিখের সঙ্গে শুরু ও শেষ হয়ে যায়? রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক দায়িত্ববোধ থাকলে এমন দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকার তো কথা না।

এখন প্রয়োজন দায় নির্ধারণের। প্রকল্পের নির্মাণমান, তদারকি এবং অর্থব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্ত হতে হবে। যেসব ঠিকাদার বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তা অবহেলা বা অনিয়মে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নির্মাণ-পরবর্তী গ্যারান্টি ও জবাবদিহির বিধান কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। উন্নয়নের প্রকৃত মান সড়কের উদ্বোধনে নয়, তার দীর্ঘস্থায়ী স্থায়িত্বেই প্রমাণিত হয়—এ কথাও রাষ্ট্রকে মনে রাখতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত