বিজয় দিবস পার হলো। আরও একটি বিজয়ের আনন্দ যুক্ত হলো স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের মনে। যদিও এই বছরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধপক্ষের নানা প্রচারণার দেখা পাওয়া গেছে, কিন্তু দেশের মানুষ তাতে খুব বেশি বিভ্রান্ত হয়েছে, এমনটা বলা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এখন পর্যন্ত এতটাই সজীব যে, ইচ্ছে করলেই এই ইতিহাসকে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা যাবে না।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলে, তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। অতি সুকৌশলে এমন সব প্রশ্নের জন্ম দেওয়া হয়, যার উত্তর তারা নিজেরা জানলেও সে উত্তরকে আড়ালে রেখে নতুন বয়ান তৈরির ধূর্ততাও পরিলক্ষিত হয়। সম্প্রতি বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের দায় পাকিস্তানি হানাদার ও আলবদর, আলশামসের কাঁধ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রবণতাও দেখা গেছে। এই কাজটি মূলত তারাই করতে চাইছে, যারা একাত্তরের পরাজয়ের গ্লানি এখনো হজম করে উঠতে পারেনি। এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে বাংলাদেশের সূত্রের কাছে না গেলেও চলবে। আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষরকারী পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজি এবং সে সময়ের ভয়ংকর দানব হয়ে ওঠা রাও ফরমান আলী তাদের বইগুলোয় একে অপরকে দোষারোপ করতে গিয়ে নিজেদের ষড়যন্ত্রের গোমর ফাঁস করে দিয়েছেন। নিয়াজির অফিসের সামনে রাও ফরমান আলী দেখেছেন কাদালেপা মাইক্রোবাস, রাও ফরমান আলীর ডায়েরিতে দেখা গেছে বুদ্ধিজীবীদের তালিকা। কেউ কেউ রাও ফরমান আলীকে অনুরোধ করে সেই তালিকা থেকে বুদ্ধিজীবীদের নাম কাটিয়েছেন বলেও প্রমাণ আছে। এই যখন অবস্থা, তখন বাংলাদেশে বসে বাংলাদেশেরই শিক্ষিত কোনো মানুষ একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনী বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে না বলে মত প্রকাশ করলে তা সত্যের অপলাপই হয়। এ ধরনের বক্তব্য আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলার ন্যক্কারজনক প্রয়াস হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যোগ্য।
বাংলা ও বাঙালির বীরত্বগাথাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলার এই প্রবণতার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা জরুরি। দেশের ক্ষমতা যার হাতে থাকে, সে-ই নিজের ইচ্ছেমতো ইতিহাস রচনা করতে চায়। কিন্তু তারা ভুলে যায়, ইতিহাসের সত্যগুলো প্রকাশিত হবেই। স্বাধিকার আন্দোলনের পথ ধরে আসা স্বাধীনতার সময়টিতে কার নেতৃত্বে আন্দোলন পরিচালিত হয়, কার ওপর দেশবাসী রেখেছিল আস্থা, পাকিস্তানিদের চালানো অপারেশন সার্চলাইট, সার্চ অ্যান্ড ডেস্ট্রয় এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার বর্ণনা পাওয়া কঠিন কোনো কাজ নয়। বাঙালির এই জনযুদ্ধকে খাটো করে দেখানো কিংবা পাকিস্তানি বাহিনীর মহিমাকীর্তন কোনো ইতিবাচক স্বপ্ন দেখাতে পারবে না। সব পক্ষের উচিত, ইতিহাসের সত্যকে আড়াল না করে নতুন করে জীবন গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা।
আমাদের দেশ একটা অস্থির সময় পার করছে। এই সময়টিতে পুরো জাতির ঐক্য প্রয়োজন। কিন্তু গণ-আন্দোলনে বিজয়ী পক্ষ এত বেশি বিভক্ত হয়ে রয়েছে যে তাদের সম্মিলিত উদ্যোগে জাতীয় সব অঙ্গনে স্থিতিশীলতা আসবে—এমন আশা এখন পায়ের নিচে শক্ত মাটি পাচ্ছে না। ন্যূনতম কিছু বিষয়ে একমত হতে হলে জাতিকে সামগ্রিকভাবেই দেখতে হবে। সেদিকেই হতে হবে দেশের যাত্রা।

যুদ্ধ বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ২৩ মার্চ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ইরানের কাছে যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে, সেটি কতটা আন্তরিকতাপূর্ণ আর কতটা তাদের চতুর কৌশল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে মধ্যস্থতার দায়িত্ব পাওয়া পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা এ যুদ্ধ বন্ধে কোনো অবদান রাখতে পারবেন...
১৬ ঘণ্টা আগে
সত্যি বলতে কি, এখন আর আমাদের অনেকেরই গ্রামে মন বসছে না। শহরের রঙিন জীবনের হাতছানি দিয়ে ডাকছে আমাদের। ওখানে আহা রে কত সুখ! কাজকম্ম আর টাকা, টিনের ঘর ছেড়ে দালানে বসবাস। একবারও আমাদের মনে এতটুকু চিন্তা আসছে না যে ওসব দালানের সুখের জন্য আমরা কী হারাচ্ছি!
১৬ ঘণ্টা আগে
কাউকে খাটো করে কিংবা কাউকে বড় করে ইতিহাস বদলে দেওয়া যায় না। মুক্তিযুদ্ধে কার কতটা অবদান, সেটা ইতিহাসই নির্ধারণ করে দেয়। তাই ক্ষমতা বদলের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাস বদলের চেষ্টাকে অপচেষ্টা বলা ভুল হবে না।
১৭ ঘণ্টা আগে
ঈদের কয়েক দিন আগে থেকেই ঢাকার রাস্তায় একটা অদ্ভুত প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়। মানুষ বাসের টিকিটের জন্য লড়াই শুরু করে, তারপর ব্যাগ গুছিয়ে ছোটা শুরু হয়। সবার মুখে একটাই কথা—বাড়ি যাব। এই ‘বাড়ি যাওয়া’র ভেতরে লুকিয়ে থাকে বছরের সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে নেওয়ার স্বপ্ন, মায়ের মুখ দেখার আকাঙ্ক্ষা....
২ দিন আগে