নবনিযুক্ত আইজিপি মব মোকাবিলার বিষয়ে কথা বলেছেন। এ জন্য তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। আইজিপির বক্তব্যের মাধ্যমে পরিষ্কার হলো, বিগত সময়টিতে মব সংস্কৃতি যেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা এখন সত্যিই সবার মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার বোধ সৃষ্টি করেছে। অন্তত আইজিপি সেটা স্বীকার করেছেন। যদিও মব সংস্কৃতির উত্থানের ইতিহাস সবাই জানে, তবু বলতে হয়, মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশের মেরুদণ্ড যেভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, তা থেকে উঠে আসার একটা সম্ভাবনা আইজিপির এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
দুঃখজনক ব্যাপার হলো, প্রায় ১৮ মাস ধরে মবকে জাতীয় সংস্কৃতিতে পরিণত করার চেষ্টা চলেছে। মবস্টাররা যেখানে-সেখানে যাকে-তাকে হেনস্তা করতে শুরু করে দিয়েছিল এ সময়টায়। পুলিশের সঙ্গে যথেচ্ছ ব্যবহার করে তারা বুঝিয়ে দিচ্ছিল, এই বেআইনি কাজে তারা কোনো মহল থেকে মদদ পাচ্ছে। কে, কোথায় কবে পুলিশ হত্যা করেছে, সে কথা গর্বভরে পুলিশের সামনেই বর্ণনা করেছে কেউ কেউ এবং সেই ঔদ্ধত্যের জন্য সে সময় তাদের কোনো ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা করতে দেখা যায়নি। অভ্যুত্থানের পর পুলিশ হত্যার কথা অনেকেই প্রকাশ্যে বলেছে। কিন্তু সে জন্য কাউকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। শুধু তা-ই নয়, পুলিশ হত্যার বিচার যেন না হয়, সে পাঁয়তারাও করা হয়েছে। এ রকম এক অরাজকতার ভেতর দিয়ে সময় কেটেছে। ফলে মব বিষয়টি যে এখন বিশাল রকম মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
প্রাণখুলে সমালোচনা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু বাক্স্বাধীনতা কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছিল ইউনূস সরকারের সময়, সে কথা সবাই জানে। মবকে যখন প্রেশার গ্রুপ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন সরকারের ভেতরে থাকা হোমরাচোমরাদের কেউ কেউ, তখনই বাক্স্বাধীনতার হাল কী, তা বোঝা যাচ্ছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এইসব অন্যায় নিয়ে মানুষ কথা বলেছে এবং সেটা কখনো কখনো কাজে দিয়েছে।
নির্বাচনের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা ধরনের কার্যক্রমের বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। কত ধরনের বিচ্যুতির মাধ্যমে তারা রাষ্ট্র শাসন করেছে, তা ক্রমেই প্রকাশিত হচ্ছে। সেসব আলাদা বিষয়। মবকে কী কারণে পুলিশ প্রতিহত করতে পারেনি, সেটা এখন কোনো গোপনীয় বিষয় নয়। পুলিশ যদি জনগণের বন্ধু হয়ে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারে, তাহলে দ্রুত তারা জনসাধারণের মনে আস্থা জাগিয়ে তুলতে পারবে। কিন্তু পুলিশের মধ্যে যে অনৈতিকতার প্রবণতা রয়েছে, সেটা বন্ধ করা না হলে সব চেষ্টাই বৃথা যাবে। সে ক্ষেত্রে জনগণের সহায়তায় মব নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়বে।
ভেঙে পড়া পুলিশ প্রশাসনকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে বাহিনীতে সততা, নিষ্ঠা আনতে হবে এবং কর্মদক্ষতা বাড়াতে হবে। সরকারের তাঁবেদারির যে সংস্কৃতি চালু আছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পুলিশ যেন জনগণের বন্ধু হয়, এই লক্ষ্যে নবনিযুক্ত আইজিপি তাঁর মেধা ও শ্রম নিয়োগ করবেন, সেটাই জনগণের অন্যতম চাওয়া।

একটি গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর তারা দেড় বছরের এলেবেলে শাসন চালিয়েছে। অনেক অনিশ্চয়তার পর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের শাসনভার গ্রহণ করেছেন।
২ ঘণ্টা আগে
মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং থানার নথিতে ‘আত্মহত্যা’ একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে আত্মহত্যা করেছে ১৩,৪৯১ জন। মানে গড়ে দিনে ৪১ জন। একই সঙ্গে জাতীয় জরিপভিত্তিক আরেক তথ্যমতে, ২০২৩ সালে দেশে আত্মহত্যা করেছে ২০,৫০৫ জন।
২ ঘণ্টা আগে
ময়মনসিংহ থেকে আলাদা হয়ে টাঙ্গাইল ১৯৬৯ সালে স্বতন্ত্র একটি জেলা হিসেবে পরিচিতি পায়। একইভাবে ১৯৭৮ সালে দেশের ২০তম জেলা হিসেবে জামালপুরের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৯৮৪ সালে মহকুমা ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে দেশের সব মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করা হয়। ফলে ঢাকা বিভাগের অধীন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও জামালপুর ছাড়াও...
২ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি সড়ক পরিবহনমন্ত্রী চাঁদাবিষয়ক যে সংজ্ঞা দিয়েছেন, তাতে দেশের জনসাধারণ দ্বিধায় পড়ে আছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের প্রতিক্রিয়া দেখলেই তা বোঝা যায়।
১ দিন আগে