জীবনের প্রথম বোল বাংলা ভাষাতেই ফুটেছিল! তারপর প্রথম প্রজাপতির ডানা মেলা, ফরিংয়ের ডানায় উড়োজাহাজের সুর খুঁজে পাওয়া, মায়ের নামে লেবুর ঘ্রাণ, অজস্র উড়ে আসা চিঠির ফাঁকে হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মুখের হাসি...!
এই ভাষাতেই ‘লালন’ মরে গিয়েও ফিরে আসে অন্য প্রজন্মের হাত ধরে ‘কবীর’ নাম নিয়ে আমাদের কাছে...অমরত্বের প্রত্যাশায় তার দাবিদাওয়া নয়নতারার রংয়ে মিশে যায়।
রাস্তার পাশে অকথ্য ভাষার ফোয়ারা
ছুটিয়ে ঝগড়া করে আবার এই ভাষাতেই শিশুর মুখে চুমু খায় কোমেলা। রোজ রাতে তাস পিটিয়ে বাড়ি ফিরে পরদিন ছেলেমেয়েদের অঙ্কের ভুল ধরে এই ভাষাতেই বকুনি দেয় পাশের বাড়ির সাহানার বর।
পৃথিবীর মধুরতম কথাগুলো এই ভাষাতেই লিখে রেখে গিয়েছিলেন সেই চিরকালের তরুণ রবীন্দ্রনাথ। তাঁকে দোষারোপ করে, এড়াতে চেয়ে, বলয় ভাঙতে চেয়ে আবার তাঁরই স্নেহছায়ায় স্বপ্নজাল বুনেছিলেন পঞ্চকবি। সাগরদাঁড়ি নদীর তীরে আজও মেঘনাদের জন্য বিলাপ করেন একাকী পিতা...সেই ‘আ-মরি বাংলা ভাষা’তেই।
ধূসর নগরীতে যখন হিজল ফুল ঝরে পড়ে, ঘাই হরিণের চোখে নির্জনতার ডাক...জীবনের আনন্দ খুঁজতে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া বাংলা ভাষায় আলোর ফুল ফোটানো মানুষটি কোনো এক গোপন ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকেন।
মাঝে মাঝেই চায়ের কাপে ঝড় ওঠে...এক প্রজন্ম আরেক প্রজন্মের পিঠ চাপড়ানোর বদলে মুখোশ খুলে দিতে চায়! চাঁদাবাজির ভয়, মশার ভয়, ছিনতাইয়ের ভয়, অভিশাপের ভয়, নিজে যা নই তা-ই প্রমাণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা—সবটাই এই প্রাণের ভাষাতেই ঘটে যায়। ভার্চুয়ালি পাশে আছি, ভালোবাসি, লুকিয়ে হলেও সঙ্গেই থাকি, আমি সবটা সামনেই বলি, স্ক্রিনশটে প্রমাণ ধরে রাখি...বাংলা-বাংলা আর বাংলা—পুরোটাই বাংলা ভাষায়।
বিদ্রোহ আর চুমুর দিব্যি দেওয়ার পরেও এই ভাষাতেই অনেক মানুষ বিচ্ছেদ ঘটায়; কেউ গর্জায়, কেউ বর্ষায়, ভয় দেখায়, দাঙ্গা বাধায়, অভিসন্ধি করে, কেউ কেউ সান্ত্বনা দেয়...তারপর এক দিনের জন্য সাদাকালো আর আমাদের ফেব্রুয়ারি...সবটাই এই বাংলা ভাষায়।
মুখপোড়া জীবনটার ওপর রাগ করে ছিপছিপে কিছু বাক্যবাণে তাকে বিদ্ধ করে ফেলে তারপর ভীষণ অভিমানী হয়ে জীবন বিলিয়ে দেওয়া বা হতাশায় মুষড়ে পড়া, বইমেলায় উল্টাপাল্টা দেখে বোকা লোকগুলোকে গালাগালি—এই বাংলা ভাষাতেই। আবোলতাবোল কথার মাঝে, আনন্দ,
প্রেম, উচ্ছ্বাস, উল্লাসে নিজের সমস্তটা উজাড় করে দিতে শুধু এই বাংলা ভাষার জন্য জীবনটাকেও বাজি ধরে ফেলতে পেরেছিল তাই এই দেশের আমজনতা।
বর্ণমালাকে চিরকাল দুঃখিনী বানিয়ে রাখার আশ্চর্য শৌখিনতা বা ফ্যান্টাসি নিয়ে আমাদের ব্যস্ত ফেব্রুয়ারি মাস শেষ হয়ে এল। যা পেলাম না তার কথা থাক, না পাওয়া দিয়ে জীবন সাজানোও এক চিরকালের বাঙালিয়ানা হয়তো। এই ভাঙচুর-মারমুখী উদ্ভ্রান্ত সময়ে দিগ্ভ্রান্ত না হয়ে আজলা ভরে কিছু পলাশ ফুল তো পেলাম, হিরণ্ময় আলোয় মোড়ানো অসময়ের বৃষ্টিও ছিল তাতে। বইমেলার পাশ দিয়ে উড়াল ট্রেনে যেতে যেতে বর্ণমালার অক্ষরগুলোকে একবার অন্তত সুখী হতে দেখছিলাম কি?
থাকুক এইসব প্রশ্ন আজ না পাওয়া উত্তর হয়ে, হিসাবের খাতা মেলাতে সামনে হালখাতার দিনও আসবে একদিন। আজ বোকার মতো একটু আনন্দ নিয়েই বলে যাই, ‘জয় হোক আমাদের প্রাণের বাংলা ভাষার।’
বোকার মতো কেন বললাম? এই প্রশ্নের উত্তর মাথায় আসছে না, সে আছে প্রাণের ভেতরে।

বেলুচিস্তান কিংবা পাকিস্তানের প্রসঙ্গ এলেই ইতিহাস যেন আমাদের অজান্তেই ৫৫ বছর পেছনে টেনে নিয়ে যায়। আর যখন বেলুচিস্তানে সামরিক অভিযান, বিদ্রোহ ও গণ-অসন্তোষের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়, তখন ১৯৭১ সালের স্মৃতি অনিবার্যভাবেই ফিরে আসে।
২০ ঘণ্টা আগে
পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছিল। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা বলতে গেলে সাত রাত, সাত দিন কেটে যাবে। অর্থনীতি থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক পর্যায়ে সীমাহীন ব্যর্থতা।
২০ ঘণ্টা আগে
২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর শতাধিক মানুষকে আসামি করে মামলা করার যে ট্র্যাডিশন চালু হয়েছিল, তারই পরশ যেন পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার মুশরীভূজা বটতলা গ্রামে।
২০ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে বামপন্থী সন্ত্রাসবাদের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের উগ্রবাদ এখন সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই এটি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত পদক্ষে...
২ দিন আগে