
হাসনাত কাইয়ুম সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি। হাওরের মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়ে কারাভোগ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাকালীন সহসভাপতি এবং বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। জুলাই আন্দোলন, সরকারি ও বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড, সংস্কার প্রসঙ্গ এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার মাসুদ রানা।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে এই আন্দোলনকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
এটা খুব মহৎ আন্দোলন ছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আন্দোলন। যেকোনো বড় আন্দোলনে দুই রকমের ব্যাপার থাকে। মানুষ অনেক বেশি আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যুক্ত হয়। কিন্তু সে অনুপাতে যদি সংগঠন এবং রাজনীতি না থাকে, তাহলে সে আকাঙ্ক্ষাগুলো অল্পই বাস্তবায়িত হয়। ফলে মানুষের মধ্যে হতাশা, অস্থিরতা তৈরি হয়। আমাদের দেশের এ ধরনের আন্দোলন থেকে নেতৃত্বে যারা আসে, তারা যেহেতু সিস্টেমটার সঙ্গেই সম্পর্কিত থাকে, আর নেতৃত্ব দখল করে কিংবা নেতৃত্বটা পরিচালনা করার সুযোগ পায়, সে জন্য তারা একভাবে লাভবান হয়। ফলে জনগণের মধ্যে একধরনের ক্ষোভ, হতাশা তৈরি হয়। তারপরও বলব, আন্দোলনের একটা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব থাকে। মানুষ এই আন্দোলন থেকে অনেক বড় শিক্ষা নেয়। চব্বিশের এই আন্দোলনের পর ভবিষ্যতে এর চেয়ে অনেক বড় আন্দোলন হতে পারে।
তাহলে এই গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন কী?
এক বাক্যে তো কোনো আন্দোলনকে সফল বা ব্যর্থ বলা যায় না। কোনো অভ্যুত্থান যখন সম্পন্ন হয়, তখন সেটা আসলে ব্যর্থ হয় না। অভ্যুত্থানের পরে যারা ক্ষমতায় আসে, যে সমস্ত আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করার জন্য মানুষ তাদেরকে ক্ষমতা দেয়, তারা আসলে মানুষের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে পারে কি পারে না—এটার ওপরে অনেকাংশে নির্ভর করে অভ্যুত্থান সফল কি ব্যর্থ হয়েছে। অভ্যুত্থানের সফলতা-ব্যর্থতা নির্ভর করে অভ্যুত্থানের পরে দখলকারী নেতৃত্বের কর্মকাণ্ডের ওপর। সেদিক থেকে অভ্যুত্থানে যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের ব্যর্থতার পরিমাণ বেশি।
এই আন্দোলন কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে শুরু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেটা সরকার পতনের আন্দোলনের দিকে যায়। সরকার পতনের পর মানুষের মধ্যে একটা আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার। সেটা ব্যর্থ হওয়ার দায় আসলে কার?
প্রথমত, আপনার সঙ্গে আমি একমত না যে এটা কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হয়েছে। হাসিনাবিরোধী বা তাঁর মাফিয়াতন্ত্রবিরোধী যে লড়াইটা চলছিল, সে লড়াইয়ের একটা অনুষঙ্গ কোটা সংস্কার আন্দোলন। সেই ধারাবাহিকতায় কোটা সংস্কার আন্দোলনটা ছিল শেষ আন্দোলন।
এই আন্দোলনের মধ্যে গণতান্ত্রিক, স্বৈরতন্ত্রবিরোধী এবং রাষ্ট্রের কাঠামো পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ছিল। এখানে বৈষম্য দূর করার আকাঙ্ক্ষা ছিল। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে যে সমস্ত আকাঙ্ক্ষা মানুষের ছিল, সেই আকাঙ্ক্ষাগুলোর অপূর্ণ যে জায়গাগুলো ছিল, সব এই আন্দোলনের মধ্যে ছিল। এরপর একটা অন্তর্বর্তী সরকার হলো, তারপর নির্বাচন হলো। সংস্কারের দাবি তো ছিল। অনেক সংস্কার কমিশন হয়েছিল।
এখন সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির নীরবতাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
এটা যে শুধু বিএনপির নীরবতা, এ রকম তো না। আসলে বিএনপি এ ক্ষেত্রে জনগণের সঙ্গে তার যে অঙ্গীকার, সেটা ভঙ্গের রাজনীতি করছে। ফলে তাদের নিজেদের দলের কিংবা নিজেদের রাজনীতির যে বিশ্বাসের কথা দাবি করে, সেটারও বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। কারণ, গণভোটের পক্ষে তারা কথা বলেছে এবং এর পক্ষে ভোট চেয়েছে। গণভোটের ম্যান্ডেট অনুযায়ী, সংস্কার করার জন্য গণপরিষদ গঠন করে এটার মাধ্যমে শপথ নেওয়ার কথা ছিল, সেটা তারা অমান্য করেছে। এটার মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসে তারা একটা বড় রকমের কলঙ্ক স্থাপন করেছে। পরবর্তী সময়ের ইতিহাসে এটা খুব বড় আকারে তাদের ব্লান্ডার হিসেবে সামনে আসবে। জনগণের রায়কে কোনো দল অমান্য করলে, সে কলঙ্ক থেকে দলটি কোনো দিন মুক্তি পায় না। ফলে সংস্কারের যে ক্ষতি হয়েছে, তার চেয়ে ভবিষ্যতে এদের নিজেদের অনেক বড় ক্ষতি হবে।
এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। সে সময় তিন জোটের রূপরেখাও তারা বাস্তবায়ন করেনি। তারপরও কিন্তু বিএনপি টিকে আছে।
টিকে যাওয়াকে দুভাবে দেখা যেতে পারে। একটা হচ্ছে, এর চেয়ে ভালো কোনো রাজনৈতিক শক্তির বিকাশ হচ্ছে না বা গড়ে উঠছে না। বিএনপির টিকে যাওয়ার মানে হচ্ছে আমরা কেন এর চেয়ে ভালো কিছু করতে পারি না—এটার কারণে বিএনপি টিকে যায়। ধরুন, মাঠের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি আছে। তো মানুষ তখন বিবেচনা করে যে কে কম ক্ষতিকর। এখন যারা আসলে প্রকৃত জনগণের পক্ষের রাজনীতি করার কথা, তারা যখন মাঠে থাকে না কিংবা থাকতে পারে না এবং আমরা নিজেদের রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করতে পারি না, তখন বিএনপি অনিবার্য টিকে যায়।
আমাদের দেশে পরিবর্তনের শক্তি কেন দাঁড়াতে পারছে না?
না দাঁড়ানোর অনেক কারণের মধ্যে প্রধান হচ্ছে, চিন্তার ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা। নতুন রাজনীতি যারা করবে, তারা যদি পুরোনো রাজনৈতিক চিন্তার ছকের মধ্যে থাকে, তাহলে তো তাদের পক্ষে দাঁড়ানো খুব কঠিন। আমাদের মতো ক্ষুদ্র সংগঠনগুলো যখন দাঁড়াতে যায়, তখন আমাদের ‘থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়’-এর মতো অবস্থা হয়। বাংলাদেশের জনগণ সংস্কারের রাজনীতিটাকে গ্রহণ করেছে। কিন্তু রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন তো সংস্কারের রাজনীতি বহন করার মতো সাংগঠনিক বিস্তার ঘটাতে পারেনি। আমাদের লোকবল না থাকার কারণে এখানকার মধ্যবিত্তরা শুধু পাত্তা দেয় না, গ্রহণও করে না। কিন্তু আমাদের যে রাজনৈতিক বক্তব্য (রাষ্ট্রের সংস্কার প্রস্তাব), সেটা আসলে বাংলাদেশের জন্য জরুরি—এটা তো গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। আমরা যাঁরা এ রকম কাজ করছি বা নতুন রাজনীতি করতে চাই, আমাদের যতটা সামর্থ্য থাকা দরকার, সেটা আমরা গড়ে তুলতে পারিনি।
কারও কারও অভিযোগ, বিরোধী দল জনগণের পক্ষে এবং জাতীয় স্বার্থের পক্ষে কোনো বক্তব্য দিচ্ছে না। এর কারণ কী?
সরকারি দল, বিরোধী দল এবং বিরোধী দলের সঙ্গে যারা লেজ (এনসিপি) হয়েছে, তারা সবাই জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েই রাজনীতিটা করতে চায়। এটার পক্ষে সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হচ্ছে, এরা সবাই মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে দাঁড়িয়েছে। যাতে করে দেশে কোনো জাতীয় রাজনীতি দাঁড়াতে না পারে। আর জনগণকে বিভাজিত করার রাজনীতি করছে দুই পক্ষ মিলে। এক পক্ষ মুক্তিযুদ্ধের, আরেক পক্ষ চব্বিশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যেন একাত্তর ও চব্বিশের মধ্যে কোনো বিরোধিতা আছে। তারা এটা করছে এ জন্য যে মাঝখানে একাত্তর, নব্বই ও চব্বিশকে একই সঙ্গে ধারণ করে—এ রকম রাজনৈতিক শক্তি যাতে গড়ে উঠতে না পারে। সেটার জন্য দুই পক্ষ মিলেই কাজ করছে। জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কোনো বিরোধিতা নেই।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী বলবেন?
আওয়ামী লীগের রাজনীতির ভবিষ্যৎ তো নেই। তার কারণ হচ্ছে, হাসিনা যদি সত্যিকার অর্থে রাজনীতি করতে চাইতেন, তাহলে প্রথমে তাঁর দল, তাঁর নিজের কর্মকাণ্ড এবং দলের কাজকর্মের জন্য মানুষের কাছে আগে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। তিনি যে মানুষকে হত্যা করেছেন, যে বাচ্চাদের তিনি মেরেছেন, এর আগে গুম করেছেন, অনেককে বিনা কারণে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন, যাদেরকে এখান থেকে টাকা লুটপাট করে পাচার করার সুযোগ দিয়েছেন—সবকিছুই কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে গিয়ে করেছেন। হাসিনার যদি রাজনীতি করার ইচ্ছা থাকত, তাহলে তিনি প্রথমে বলতেন, ‘আমার এই কাজগুলো ভুল হয়েছে। আমরা এই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের দলটাকে পুনর্গঠন করতে চাই। ১৯৯৬ সালে তিনি সেটা করেছিলেন।’ ১৯৯৬ সালে তিনি ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। মানুষ কিন্তু তাঁকে এবং আওয়ামী লীগকে গ্রহণ করেছিল।
সেই জায়গায় না গিয়ে তিনি যদি মনে করেন, ‘আমি আসব এবং প্রতিশোধ নেব’, তাহলে তো মানুষ ভয়েই তাঁর রাজনীতি গ্রহণ করবে না। আওয়ামী লীগের যতক্ষণ পর্যন্ত তার নিজের রাজনীতি, জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকবে, দেশের প্রতি ভালোবাসা না থাকবে এবং নিজের কৃতকর্মের জন্য আত্মসমালোচনা না থাকবে; ততক্ষণ তো রাজনীতি শুরু করতে পারবে না।
গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৈরি হওয়া গণ-আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং ভবিষ্যতে আবার যেন ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে, সে জন্য সংবিধান ও শাসনব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন করা দরকার?
একেবারে ন্যূনতম কতগুলো জায়গায় সব দল মিলে একমত হওয়া সম্ভব হয়েছিল। সে জায়গায় গণভোট একটা সূচনা বিন্দু বলা যায়। জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বিলুপ্ত করা যাবে না। কিন্তু জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন শুরু করা সম্ভব হলে অন্তত শাসনতান্ত্রিকভাবে অগ্রসর হওয়া সম্ভব ছিল। এ রকম একটা ব্যবস্থা শুরু করা সম্ভব ছিল। কিন্তু ঘটনা হলো, সেটার উল্টো পথে হাসিনার যা কিছু ছিল, সেই জিনিসগুলোকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার কাজটা বিএনপির হাত দিয়ে শুরু হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী এবং অন্য পার্টিগুলো কুসুম কুসুম বিরোধিতা করছে মাত্র। কারণ, তারা প্রত্যেকেই চায় আগামী পাঁচ বছর যেন ক্ষমতাটা ভোগ করতে পারে। গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিএনপির মতো একটা দল কীভাবে বাতিল করতে পারে? এরপর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৯৭ ধারার সংশোধনীকে তারা কীভাবে বাতিল করতে পারে? দুদককে কীভাবে তারা অকার্যকর করে ফেলেছে—এসব দিয়ে তো বোঝা যায় তারা আসলে কী করতে চায়। ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করার জন্য দুটি কাজ শুরু করার দরকার ছিল। একটা হলো সাংবিধানিক সংকটের জায়গাটা দূর করা। আরেকটা ছিল আইনের ফারাকের জায়গাগুলো দূর করা। আমরা যেটাকে মোটাদাগে বলি রাষ্ট্র পরিচালনার আইনকানুন। তো সেই জায়গাগুলোকে সংস্কার করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষণ এখন আর দেখা যাচ্ছে না।
সংস্কার যদি করতে হয়, মানে ফ্যাসিবাদী কাঠামো দূর করতে হলে সাংবিধানিক সংস্কার লাগবে। অর্থনৈতিক সংস্কারও লাগবে। কিন্তু আমরা চেয়েছিলাম সাংবিধানিক সংস্কার, সেটা বিএনপি করতে চায় না।
তাহলে কি বিএনপিও আওয়ামী লীগের পথে হাঁটছে?
আওয়ামী লীগের পথে ইতিমধ্যে হাঁটা শুরু করছে তারা। কিন্তু আওয়ামী লীগ যেভাবে আওয়ামী লীগ হয়ে উঠতে পেরেছিল, বিএনপি সেটা হতে পারবে না। এই অভ্যুত্থানের লাভ হলো, যে সমস্ত আইনকানুন হাসিনার পক্ষে ছিল, সেগুলোও তাকে রক্ষা করতে পারেনি। আর বিএনপির পক্ষে ভবিষ্যতে হাসিনা হয়ে ওঠা অনেক কঠিন। কারণ, বাংলাদেশের মানুষকে বহুদিন পর্যন্ত কেউ আর দমন করে রাখতে পারবে না। যে ছেলে একবার বুক পেতে দেওয়া শিখেছে, তাকে আর কেউ বন্দুকের ভয় দেখিয়ে দমন করতে পারবে না। সঙ্গে তাকে যুক্তিও দিতে হবে। যুক্তি না দিয়ে শুধু বন্দুকের ভয় দেখিয়ে সম্ভব না। ফ্যাসিবাদ তো যুক্তি না দিয়ে শুধু ভয় দেখিয়ে চলে। ওই রকম যুক্তি তৈরি করার সামর্থ্য বিএনপির অনেক কম, বন্দুক চালানোর সামর্থ্য কম। আর জনগণের এই সামর্থ্য অনেক বেড়ে গেছে।
আমরা কি সরকারি আর বিরোধী দলের মধ্যে কোনো অভিন্নতা দেখতে পাচ্ছি?
আমি নিজে কোনো অভিন্নতা দেখতে পাই না। আমি দেখি, একই ব্যবস্থার দুটি পাতানো বিরোধিতার খেলা। এখানে তারা সম্মিলিতভাবে খেলছে।
তাহলে জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নতুন কোনো রাজনীতি পেলাম কি?
নিশ্চয়ই পেয়েছি। জুলাইয়ের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নতুন যে রাজনীতি পেয়েছি, সেটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় একটা ইস্যু বা অ্যাজেন্ডা—বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির সংস্কার হবে কি হবে না; সংস্কার না করে তাদের পক্ষে ক্ষমতায় কত দিন থাকা সম্ভব? এ রাষ্ট্রটির সংস্কার না করে আসলে জনগণের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যাবে কি না—এ বিষয়টা যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আসলে এটাই স্থায়ী হয়েছে।
সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আজকের পত্রিকা এবং আপনাকেও ধন্যবাদ।

‘মবের মুলুক’ কাকে বলে, ইউনূসীয় শাসনামলে তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে দেশের মানুষ। এই কথাটি পত্রপত্রিকায়, চায়ের আড্ডায়, আলোচনা সভায় এত বেশি শোনা গেছে যে মূল যে ‘মগের মুলুক’ প্রবাদটি, তা যেন অনেকটা তলিয়ে গেছে, সেভাবে আর ব্যবহার হচ্ছে না।
১৭ মিনিট আগে
বুঝতে পারছি না, দেশে হচ্ছেটা কী! গত মাসেই কয়েকটা খবর দেখলাম গাছ কাটার। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৫৪টি পরিণত বড় গাছ কেটে ফুটপাত ও রাস্তা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
৩ ঘণ্টা আগে
দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কেন বাড়ে, সেটা বোঝার জন্য পণ্ডিত হওয়ার দরকার পড়ে না। খেটে খাওয়া মানুষ থেকে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ তার কারণ জানে। কিন্তু রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের মানুষেরা সেটা জেনেও না জানার ভান করেন। নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে বেসরকারি সংস্থাগুলো গবেষণা
১ দিন আগে
বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে গরম ভাতের সুবাস, কিন্তু আজ সেই সুবাসে যেন ভাটা পড়েছে আগুনের অভাবে। সম্প্রতি মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং অগ্নিকাণ্ডের ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় পুরো বাংলাদেশ এক তীব্র সংকটকাল...
১ দিন আগে