
১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ সম্পূর্ণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সরকার গঠনের মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই কৃষকদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির এ ঘোষণা এসেছে। শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতের কৃষকেরা এ সুবিধার আওতায় আসবেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ হবে এবং উপকৃত হবেন প্রায় ১২ লাখ কৃষক। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা এর মাধ্যমে সরাসরি উপকার পাবেন। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকারের মতে, এ পদক্ষেপ দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং কৃষি খাতের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। ঋণের চাপ থেকে মুক্ত হয়ে কৃষকেরা নতুন উদ্যমে উৎপাদনে মনোযোগ দিতে পারবেন, যা সামগ্রিকভাবে দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমিও তাই মনে করি। তবে কৃষককে আধুনিক কৃষির সঙ্গে আরও পরিকল্পিত ও সুসংহতভাবে যুক্ত করতে হবে।
করোনার সময় কৃষকেরাই ঋণ পরিশোধ করেছেন বেশি। সে সময়কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ১৬ হাজার ৫৬ কোটি ১৬ লাখ টাকার ঋণ শোধ করেছেন কৃষকেরা, যা ২০১৯-২০ বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ হাজার ৫২৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা আদায় বেশি ছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছর (জুলাই-জানুয়ারি) সময়ে আদায় হয়েছিল ১৩ হাজার ৫২৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী হোসেন প্রধানিয়া গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, কৃষকেরা সব সময়ই ভালো গ্রাহক। কৃষিঋণ কখনো বিফলে যায় না। করোনার মধ্যে ঋণ পরিশোধের তাগিদ না দিলেও স্বপ্রণোদিতভাবে পরিশোধ করেছেন তাঁরা। কিন্তু অন্যান্য খাতের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই কৃষকের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করলে অর্থনীতি মজবুত হবে।
৪ শতাংশ বা তার কম সুদে জামানতবিহীন কৃষিঋণ প্রদান করা প্রয়োজন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে ‘কৃষক স্মার্ট কার্ড’-এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ঋণ অনুমোদন করা যেতে পারে। ব্যাংক থেকে ঋণপ্রাপ্তির জটিল ব্যবস্থাপনার কারণে কৃষক উচ্চসুদে এনজিও থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হন। ব্যাংক কিংবা এনজিও যেখান থেকেই ঋণ প্রদান করা হোক না কেন, কৃষকের জন্য সুদের হার ৪ শতাংশ বা তার কম রাখতে হবে। বছর কয়েক আগে একবার ২ শতাংশ সুদে মসলাজাতীয় ফসল চাষে কৃষককে ঋণ দেওয়া হয়েছিল, যা কয়েক বছর অব্যাহত ছিল। ফলে দেশে মসলার চাষ বেড়েছিল। সেই ঋণ দেওয়া হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এটা আবার চালু করলে মসলা ফসলের আবাদ বাড়বে। কমবে মসলার আমদানিনির্ভরতা।
শস্যগুদাম ঋণ প্রকল্প নামে একটি চমৎকার প্রকল্প ছিল। এটি মূলত কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবং অভাবকালীন বিক্রি রোধে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ফসল কাটার মৌসুমে যখন বাজারে দাম কম থাকে, তখন কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিক্রি না করে অনুমোদিত গুদামে জমা রেখে তার বিপরীতে স্বল্প সুদে তাৎক্ষণিক ঋণ নিতে পারেন; এর ফলে তাঁরা যেমন মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ থেকে রক্ষা পান, তেমনি পরবর্তী সময়ে বাজারে ফসলের দাম বাড়লে তা বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধ করে অধিক মুনাফা অর্জন করতে পারেন। এ ছাড়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে ফসলের অপচয় রোধ হয় এবং কৃষকের পরবর্তী চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় নগদ অর্থের জোগান নিশ্চিত হয়। পরিকল্পিত এবং আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে পুনরায় শস্যগুদাম ঋণ প্রকল্প চালু করা যেতে পারে।
কৃষকের অগ্রগতিতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাঁকে দক্ষ করে তোলা। আজকের কৃষিতে আমাদের যতটুকু অগ্রগতি, সেখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন আমাদের বিজ্ঞানী এবং কৃষক। বিশেষ করে আমাদের কৃষক নতুন কৃষিপদ্ধতি সম্পর্কে জানার এবং সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে গিয়ে সীমাবদ্ধতাকে উতরে গেছেন। ফলে আজ আমরা মাঠে মাঠে যে বৈচিত্র্যপূর্ণ কৃষি দেখছি, তা রচনা করেছেন আমাদের কৃষকেরাই তাঁদের নিজের কৌতূহলে এবং চেষ্টায়। যেমন ধরুন, ফেনীর কৃষক সোলায়মান গাজী নিজের অদম্য ইচ্ছায় মালয়েশিয়া থেকে সংগ্রহ করেছিলেন বারোমাসি আমের সায়ন, যা থেকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট পরবর্তী সময়ে বারোমাসি আমের জাত বারি-১১ উদ্ভাবন করে। বিদেশি প্রযুক্তি হাইড্রোপনিক ব্যবহার করে ঘরের ভেতর ঘাস চাষের প্রতিবেদন দেখে নারায়ণগঞ্জের হারুন-অর-রশিদ নিজের মতো করেই দেশীয় পদ্ধতিতে অবকাঠামো তৈরি করে নিয়েছিলেন। কিংবা সাতক্ষীরার সাইফুল্লাহ গাজীর কথাই বলি, ভারতে ঘুরতে গিয়ে শিখে এসেছিলেন রঙিন মাছের ব্রুডিং কৌশল। এখন দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে নানা রকমের রঙিন মাছ। আমদানির বিশাল বাজারে দেশি পণ্য হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে দেশে উৎপাদিত মাছ। এমন অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে।
বাংলাদেশের কৃষির রূপান্তরে আমাদের গবেষকদের ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য। তবে কৃষক ক্ষেত্রবিশেষে আমাদের গবেষকদের চেয়ে এগিয়ে আছেন। এক সেমিনারে এ কথা অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন। যাহোক, বলছিলাম আমাদের কৃষকেরা যতটা আগ্রহী ও কৌতূহলী, আমরা যদি সব কৃষককে একটা কাঠামোর ভেতর নিয়ে এসে কৃষির হালনাগাদ তথ্য সম্পর্কে জানিয়ে দিতে পারতাম, প্রশিক্ষিত করতে পারতাম, তাহলে আমাদের কৃষি আরও গতিশীল হতো। কৃষকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কৃষি সমস্যাগুলো সমাধান করা যেত খুব সহজেই।
আমার কাছে এখনো কৃষকের প্রচুর চিঠি, টেলিফোন কল ও ই-মেইল আসে। নতুন কৃষি আর প্রযুক্তি নিয়ে তাঁদের আগ্রহের শেষ নেই। কৃষক জানতে চান, নতুন কৌশল শিখতে চান। কিন্তু হাতে-কলমে শেখানোর কেউ নেই। এমনকি কৃষক জানেনও না কোথায় গেলে তাঁর প্রশ্নের উত্তর মিলবে। অনেকেই ছাদকৃষি করছেন। শহরে দারুণভাবে ছড়িয়ে গেছে ছাদকৃষি। সেই উদ্যোক্তারাও জানতে চান ফসল উৎপাদনের নানান কিছু। বিশেষ করে পরিবর্তনের এই সময়ে যখন শিক্ষিত তরুণেরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষি উদ্যোগে। সেইসব উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। ইউটিউব দেখে কিংবা সফল কারও গল্প শুনে শুনে উদ্যোগী হচ্ছেন তাঁরা। না জেনে, না বুঝে, প্রশিক্ষণ না নিয়ে বিনিয়োগ করে ব্যর্থ হয়ে বিমুখ হচ্ছেন।
সরকারের কৃষি বিভাগের অনেকের সঙ্গে আমি কথা বলে জেনেছি, কৃষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলো মূলত প্রকল্পনির্ভর। প্রকল্প শেষ হয়ে গেলে সেই প্রশিক্ষণ কৃষক মাঠে কীভাবে কাজে লাগালেন, তা-ও মূল্যায়ন করা হয় না। ফলে কৃষকের এই প্রশিক্ষণগুলোও অনেকটা কাগজে-কলমে হয়। এর কার্যকারিতা সত্যিকার অর্থেই বাড়াতে হবে।
বর্তমান সময়ে এসে অনলাইন শিখন পদ্ধতি বেশ সমৃদ্ধ হয়েছে। শুধু সরকারি পর্যায়ে নয়, বেসরকারি পর্যায়ে কৃষি প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানো যেতে পারে। যেকোনো কৃষি প্রশিক্ষণে সরকারের সম্পৃক্ততার যেমন প্রয়োজন আছে, তেমনি প্রয়োজন আছে সরকারি নীতিমালার। ফেসবুক-ইউটিউবের এই সময়ে নানাভাবেই কৃষকের কাছে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। ভার্চুয়ালি তথ্য প্রদান কিংবা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে যাঁরা কাজ করছেন তাঁরা চাইলে কৃষি প্রশিক্ষণ বিষয়ে ক্যানভাস, ডোমেস্টিকা বা ইউডেমির মতো অনলাইন প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারেন। এ ক্ষেত্রেও সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অবশ্যই সেটা যেন হয় সরকারের তদারকির মাধ্যমে।
লেখক: পরিচালক ও বার্তাপ্রধান চ্যানেল আই

নেপালের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে বড় ধরনের চমক সৃষ্টি করেছে তরুণ প্রজন্মের পছন্দের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। বিশেষ করে জেন-জি বা নতুন প্রজন্মের ভোটারদের সমর্থনে দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এই নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো কাঠমান্ডুর...
২ ঘণ্টা আগে
খবরটি কদিন আগের। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব মোয়াজ্জেম হোসেনের আপন বড় ভাই অতি অল্প সময়ে ২ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
২ ঘণ্টা আগে
আলোচনা চলা অবস্থায় সাফল্যের আভাসের মধ্যে কোনো উসকানি ছাড়াই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা সামরিক আগ্রাসনের ৯ দিন পেরিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রথম দিনের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তাঁর নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী শামখানি, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান...
১ দিন আগে
চলছে অমর একুশে বইমেলা, কিন্তু প্রচারমাধ্যম জানান দিচ্ছে সেখানে বইয়ের ক্রেতা নেই। বইপাঠে এ দেশের মানুষের অনীহা এমন মাত্রায় পৌঁছেছে যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি লাইব্রেরিগুলো পাঠকশূন্য হয়ে পড়েছে।
১ দিন আগে