
একটি নাটকের কাজে নেপালে এসেছি। কোনো চলচ্চিত্র বা টিভি নাটকের জন্য নয়। একটি মঞ্চনাটকের জন্য। নাটকটি হবে নেপালি ভাষায়। আর লিখেছেন একজন হংকংবাসী চীনা নাগরিক। তিনি লিখেছেন ইংরেজিতে। ইংরেজি থেকে নেপালি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। লেখক আমার পুরোনো বন্ধু। ১৯৮৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি কর্মশালায় পরিচয়। সেই থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নাটকের কর্মকাণ্ডে একসঙ্গে গিয়েছি। তিনি আমাদের দেশেও বহুবার এসেছেন। একসঙ্গে আমরা এশিয়ান পিপলস থিয়েটার গড়ে তুলেছি।
বহু বছর ধরে তাঁর মাথায় একটি পরিকল্পনা ঘুরছে, তা হলো গুর্খা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি মঞ্চনাটক নির্মাণ করা। তাঁর মাথায় খুব শক্ত করেই ঢুকে গেছে গুর্খা জনগোষ্ঠী সাহসী এবং দরিদ্রও বটে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ তাদের বহু যুগ ধরে ব্যবহার করে আসছে। প্রথম মহাযুদ্ধ, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ, মালয়ে জরুরি ব্যবস্থায় এদের ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধ শেষে পাওনা যা মিলবার তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মেলেনি। তাদের কেউ কেউ ইংল্যান্ডে, হংকংয়ে অথবা নেপালে শেষ জীবন কাটায়।
এর মধ্যেই নানা প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন লেখক মক কিউ-ইউ। দুরূহ কাজ। ইংরেজি ও নেপালি দুটোই আমার মাতৃভাষা নয়। অনেক কষ্ট করে বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করতে হয়। কারণ, নির্দেশকের দায়িত্ব আমার। নেপালি, চীনা ও ব্রিটিশদের সঙ্গেই কাজ। নেপালিদের মধ্যে গুর্খারাও স্বতন্ত্র। তারা আদিবাসী। তাদের সংস্কৃতি ভিন্ন। তারা অত্যন্ত সরল ও অসমসাহসী। প্রথম মহাযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয়ী হওয়ার পেছনে তাদের ভূমিকা অতুলনীয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধেও বার্মায় জাপানিদের বিরুদ্ধে তারা প্রাণপণ লড়েছে। এসব মিলিয়েই এই নাটক।
মহড়া চলছে সারা দিনই। এর মধ্যেই অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে গেল। প্রবল বর্ষণে নেপালে অবিশ্বাস্য এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ সারা বিশ্বকেই নাড়া দিয়ে গেছে। ২৬ আগস্ট সকাল ১০টায় দীর্ঘ নদী ভোতে কোশি ও ত্রিশূলীতে জলোচ্ছ্বাস শুরু হয়। ভোতে কোশির পানি ত্রিশূলীতে এসে মেশে এবং নদীটির উত্তরে চীন দেশ। নদীটি কিছু কিছু স্থানে নাব্য ছিল, কোথাও আবার প্রায় শুষ্ক। হঠাৎ জলোচ্ছ্বাসে নদী তো বটেই, আশপাশের আবাসিক স্থান, হোটেল, বাজার-ঘাট, স্কুল-কলেজ সব জায়গা প্রচণ্ড বেগ নিয়ে ডুবে যায়।
জানা গেছে, পাঁচ শতাধিক লোক ইতিমধ্যেই নিহত এবং শত শত মানুষ আহত এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছে। উদ্ধারকাজ চলছে। ঘটনাস্থলটি রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে। আমরা বিকেলের আগে বিষয়টি বুঝতেই পারিনি। মানুষের তেমন আহাজারিও দেখা যায়নি। নেপাল অবশ্য এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ অতীতেও দেখেছে। বেশি দিন আগে নয়, ২০১৫ সালে একটা ভূমিকম্পে ৯ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছিল। তবে উদ্ধারকাজটা কেমন হয়, সেদিকে সবাই নজর দেয়, জনগণও ঝাঁপিয়ে পড়ে।
কাঠমান্ডুতে আমাদের আরও কিছু দিন থাকতে হবে। শেষ পর্যন্ত, এই বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কী দাঁড়ায় এবং রাষ্ট্র বিষয়টি কীভাবে দেখবে, তা-ও দেখার বিষয়।
নেপালের মানুষ খুবই সংগীতপ্রিয়, নাটকে তাদের অংশগ্রহণের বিষয় খুব প্রাচীন নয়। ১৯৮৫ সাল থেকেই আগ্রহের সূচনা। অথচ নাটক এখন বেশ জনপ্রিয়। নব্বইয়ের পর থেকে নাট্য দল গড়ে উঠতে থাকে। এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ৯ থেকে ১০টা বেসরকারি থিয়েটার গড়ে উঠেছে, যেখানে নিয়মিত নাট্যাভিনয় হয়ে থাকে। দর্শকসংখ্যা যেখানে এক-দেড় শ। যখন নতুন নাটক থাকে তখন তা এক মাসব্যাপী প্রতিদিনই মঞ্চায়ন হয়। আনন্দের বিষয় লেখক, নির্দেশক, যন্ত্রী, অভিনেতা-অভিনেত্রী সম্মানী পেয়ে থাকেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, নাটক এখানে চলচ্চিত্র থেকে বেশি জনপ্রিয়। আমাদের দেশে কখনো কখনো আমরা এমন ছোট থিয়েটার গড়ার চেষ্টা করেছি, এখনো চেষ্টা চলছে। কিন্তু একেবারেই পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া সেটা সম্ভব হচ্ছে না। এভাবে শিল্পকলা বা সরকারি যন্ত্রের ওপর নির্ভরতা না কমালে কখনোই এই শিল্প জনপ্রিয় হবে না। এই সত্যের দ্রুত উপলব্ধি প্রয়োজন। নেপালেও নাটক সরকারের পক্ষ থেকে খুব বেশি পৃষ্ঠপোষকতা পায় না। কিন্তু এই যে থিয়েটারের জন্য আলাদা জায়গা দরকার—এই উপলব্ধিটা বহু আগে থেকেই তারা বুঝতে পেরেছে।
এত বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় সত্ত্বেও জনজীবনের কোথাও কোনো সংকট হয়নি। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ অনেক বেশি আবেগপ্রবণ। তাই সবকিছু স্তব্ধ হয়ে যায় অথবা এমন একটা হুলুস্থুল লেগে যায় যে উদ্ধারকর্মীরা ঠিকমতো কাজই করতে পারেন না।
গুর্খাদের নিয়ে নাটকের কী পরিণতি হবে তা জানি না। তবে পৃথিবীর কোথাও এক জাতিসত্তা বঞ্চিত হচ্ছে, যদি কোনো নাট্যকর্মী তাদেরকে নিয়ে বা বিষয়টিকে নাটকের মাধ্যমে আলোচনার উপাদান করতে চান, তাহলে তাঁকে চিন্তায় মহৎ বলে আমরা ভাবতেই পারি।
লেখক: নাট্যব্যক্তিত্ব

বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘর অন্ধকার হয়—এমন কথা নতুন নয়, অধিক পুরোনো। যখন দিনের পর দিন, রাতের পর রাত দীর্ঘ লোডশেডিং চলতে থাকে, তখন অন্ধকার শুধু ঘরের চার দেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এই অন্ধকার ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে।
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের কোনো কোনো সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিজেদের জমিদারের নাতি মনে করেন। যদিও অনেক আগেই সেই প্রথার বিলুপ্তি ঘটেছে। কিন্তু সামন্তপ্রথার রেশ যে এখনো রয়ে গেছে, সেটা বোঝা গেল টিএসসির ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের কার্যক্রমে।
২ ঘণ্টা আগে
১৩ আগস্ট চলে গেল ফিদেল কাস্ত্রোর জন্মদিন। অন্য কোনো বছর হলে হয়তো তাঁকে নিয়ে কিছু লিখিনি বলে আক্ষেপ হতো না, কিন্তু এটা ছিল এই মহান বিপ্লবীর জন্মশতবার্ষিকী। এই বছরে তাঁকে স্মরণ করে কিছু কথা লেখা জরুরি।
১ দিন আগে
অনেকেই হয়তো ভাবছেন, ঘটনাটা এক হিন্দু পরিবারের, যারা সংখ্যালঘু হিসেবে এ দেশে বসবাস করে। তারা একবারও ভাবছেন না যে এই পরিবারের পরিচয় আর দশটা পরিবারের মতোই বাংলাদেশি। যারা বাংলাদেশকে শুধু মুসলমানদের দেশ হিসেবে ভাবতে ভালোবাসে, তারা বাংলাদেশের হিন্দুধর্মাবলম্বী নাগরিকদের গণনায় আনে না, আনতে চায় না।
১ দিন আগে