ড. এ এন এম মাসউদুর রহমান

মানবজীবনে কিছু নিকৃষ্ট ও গর্হিত কাজকর্ম রয়েছে, যেগুলো আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয় এবং মানবতার জন্য ক্ষতিকারক। এর মধ্যে অলসতা বা আলস্য একটি। এই মন্দ গুণটি মানুষকে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে। ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে এটির কুফল ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়।
ইসলাম আলস্যের প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে উপযুক্ত সময়ে কাজ করার প্রতি উৎসাহিত করেছে। যদি কেউ কাজ রেখে তা সম্পন্ন না করে, তাকে ইসলাম অলস বলে অভিহিত করে। তাই তো আল্লাহ তাআলা মানুষকে তাঁর নির্দেশসমূহ পালনের পর অলসতা না করার নির্দেশ দিয়ে সুরা জুমার ১০ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘অতঃপর নামাজ আদায় সম্পন্ন হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ করো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’
এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে ইবাদতের পাশাপাশি সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই কালবিলম্ব না করে রিজিক অন্বেষণের প্রতি নির্দেশ প্রদান
করা হয়েছে।
সময় এমন একটি অদৃশ্য বিষয়, যা নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। সময়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করে আল্লাহ তাআলা সুরা নিসার ১০৩ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘নিশ্চয় নামাজ মুমিনের ওপর ফরজ করা হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।’ অন্যদিকে যারা নামাজে অলসতা করে, তাদের মুনাফিকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা সুরা নিসার ১৪২ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘অবশ্যই মুনাফিকেরা প্রতারণা করেছে আল্লাহর সঙ্গে, অথচ তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতারিত করে।
বস্তুত, যখন তারা নামাজে দাঁড়ায়, তখন দাঁড়ায় আলস্যভাবে। আর তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে।’ যারা অলসতা করে তাদের কর্মসমূহ গুরুত্বের সঙ্গে গৃহীত হয় না। অলস ব্যক্তি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্তৃক তাচ্ছিল্যের শিকার হয় এবং তাকে মূল্যায়ন করা হয় না। ফলে সে কর্মস্থলে হেয় ও অবজ্ঞার পাত্রে পরিণত হয়। এমনকি ইসলামে অলস ব্যক্তির কোনো দান-সাদাকাও সম্মানের সঙ্গে গৃহীত হয় না। আল্লাহ তাআলা সুরা তাওবার ৫৪ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘তাদের দানসমূহ গৃহীত না হওয়ার আর কোনো কারণ নেই যে, তারা আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি অবিশ্বাসী হয়েছে এবং নামাজে আসে আলস্য ভাব নিয়ে, আর ব্যয় করে অসন্তুষ্ট মনে।’
গুরুত্ব দিয়ে কাজ করলে ব্যক্তি যেমন আর্থসামাজিকভাবে লাভবান হয়, তেমনি হাদিসের নির্দেশও পালিত হয়। সর্বোত্তম উপার্জন কোনটি—এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ব্যক্তির নিজ হাতের কাজ এবং বৈধ ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জনই সর্বোত্তম।’ (মিশকাত) আমরা জানি, মহানবী (সা.) কখনো কোনো কাজকে অবহেলা না করে সময়মতো সম্পন্ন করতেন। উপার্জন করা এবং পরিবার-পরিজনের ভরণ-পোষণ করার নিমিত্তে পরিশ্রম করা জিহাদের মতোই উত্তম কাজ বলে তিনি অভিহিত করেন। এমনকি একজন পরিশ্রমী কর্মী যখন সন্ধ্যায় বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করে, তখন তাঁর প্রতি স্বয়ং আল্লাহ এমন সন্তুষ্ট হন যে তাঁর পাপসমূহ তিনি ক্ষমা করে দেন। মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি শ্রমজনিত কারণে ক্লান্ত সন্ধ্যা যাপন করে, সে ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়েই তার সন্ধ্যা অতিবাহিত করে।’
আমরা নবী-রাসুলদের জীবনী থেকে জানতে পারি যে, তাঁরা ছোটবেলায় মাঠে-প্রান্তরে ছাগল চরিয়েছেন। এর কারণ হলো, তাঁদের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নিমিত্তে ছোটবেলা থেকেই তাদের কর্মচঞ্চল করে তোলা।
কারণ, নবুয়তপ্রাপ্তির পর তাঁরা যদি অলসতা করেন, তবে আল্লাহর নির্দেশ পালনে তাঁরা ব্যর্থ হবেন। তাই তাদের ছোটবেলা থেকেই সেই প্রশিক্ষণ
দেওয়া হয়েছে।
অলসতা একটি ঘৃণিত ও নিন্দনীয় স্বভাব, যার কুফল নিন্দনীয়। তাই অলসতার ন্যায় নিকৃষ্ট স্বভাব থেকে নিজে বাঁচি এবং অপরকে বাঁচার পরামর্শ প্রদান করি। তবেই ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের উন্নতি আরও এগিয়ে যাবে। দেশ ও জাতি হবে অভাবমুক্ত।
লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

মানবজীবনে কিছু নিকৃষ্ট ও গর্হিত কাজকর্ম রয়েছে, যেগুলো আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয় এবং মানবতার জন্য ক্ষতিকারক। এর মধ্যে অলসতা বা আলস্য একটি। এই মন্দ গুণটি মানুষকে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে। ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে এটির কুফল ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়।
ইসলাম আলস্যের প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে উপযুক্ত সময়ে কাজ করার প্রতি উৎসাহিত করেছে। যদি কেউ কাজ রেখে তা সম্পন্ন না করে, তাকে ইসলাম অলস বলে অভিহিত করে। তাই তো আল্লাহ তাআলা মানুষকে তাঁর নির্দেশসমূহ পালনের পর অলসতা না করার নির্দেশ দিয়ে সুরা জুমার ১০ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘অতঃপর নামাজ আদায় সম্পন্ন হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ করো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’
এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে ইবাদতের পাশাপাশি সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই কালবিলম্ব না করে রিজিক অন্বেষণের প্রতি নির্দেশ প্রদান
করা হয়েছে।
সময় এমন একটি অদৃশ্য বিষয়, যা নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। সময়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করে আল্লাহ তাআলা সুরা নিসার ১০৩ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘নিশ্চয় নামাজ মুমিনের ওপর ফরজ করা হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।’ অন্যদিকে যারা নামাজে অলসতা করে, তাদের মুনাফিকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা সুরা নিসার ১৪২ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘অবশ্যই মুনাফিকেরা প্রতারণা করেছে আল্লাহর সঙ্গে, অথচ তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতারিত করে।
বস্তুত, যখন তারা নামাজে দাঁড়ায়, তখন দাঁড়ায় আলস্যভাবে। আর তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে।’ যারা অলসতা করে তাদের কর্মসমূহ গুরুত্বের সঙ্গে গৃহীত হয় না। অলস ব্যক্তি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্তৃক তাচ্ছিল্যের শিকার হয় এবং তাকে মূল্যায়ন করা হয় না। ফলে সে কর্মস্থলে হেয় ও অবজ্ঞার পাত্রে পরিণত হয়। এমনকি ইসলামে অলস ব্যক্তির কোনো দান-সাদাকাও সম্মানের সঙ্গে গৃহীত হয় না। আল্লাহ তাআলা সুরা তাওবার ৫৪ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘তাদের দানসমূহ গৃহীত না হওয়ার আর কোনো কারণ নেই যে, তারা আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি অবিশ্বাসী হয়েছে এবং নামাজে আসে আলস্য ভাব নিয়ে, আর ব্যয় করে অসন্তুষ্ট মনে।’
গুরুত্ব দিয়ে কাজ করলে ব্যক্তি যেমন আর্থসামাজিকভাবে লাভবান হয়, তেমনি হাদিসের নির্দেশও পালিত হয়। সর্বোত্তম উপার্জন কোনটি—এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ব্যক্তির নিজ হাতের কাজ এবং বৈধ ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জনই সর্বোত্তম।’ (মিশকাত) আমরা জানি, মহানবী (সা.) কখনো কোনো কাজকে অবহেলা না করে সময়মতো সম্পন্ন করতেন। উপার্জন করা এবং পরিবার-পরিজনের ভরণ-পোষণ করার নিমিত্তে পরিশ্রম করা জিহাদের মতোই উত্তম কাজ বলে তিনি অভিহিত করেন। এমনকি একজন পরিশ্রমী কর্মী যখন সন্ধ্যায় বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করে, তখন তাঁর প্রতি স্বয়ং আল্লাহ এমন সন্তুষ্ট হন যে তাঁর পাপসমূহ তিনি ক্ষমা করে দেন। মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি শ্রমজনিত কারণে ক্লান্ত সন্ধ্যা যাপন করে, সে ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়েই তার সন্ধ্যা অতিবাহিত করে।’
আমরা নবী-রাসুলদের জীবনী থেকে জানতে পারি যে, তাঁরা ছোটবেলায় মাঠে-প্রান্তরে ছাগল চরিয়েছেন। এর কারণ হলো, তাঁদের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নিমিত্তে ছোটবেলা থেকেই তাদের কর্মচঞ্চল করে তোলা।
কারণ, নবুয়তপ্রাপ্তির পর তাঁরা যদি অলসতা করেন, তবে আল্লাহর নির্দেশ পালনে তাঁরা ব্যর্থ হবেন। তাই তাদের ছোটবেলা থেকেই সেই প্রশিক্ষণ
দেওয়া হয়েছে।
অলসতা একটি ঘৃণিত ও নিন্দনীয় স্বভাব, যার কুফল নিন্দনীয়। তাই অলসতার ন্যায় নিকৃষ্ট স্বভাব থেকে নিজে বাঁচি এবং অপরকে বাঁচার পরামর্শ প্রদান করি। তবেই ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের উন্নতি আরও এগিয়ে যাবে। দেশ ও জাতি হবে অভাবমুক্ত।
লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের পালে হাওয়া লাগা যাকে বোঝায়, সে রকম কোনো কিছু এখনো সাধারণ জনপরিসরে দেখা যাচ্ছে না। এবারই একসঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে একই দিনে। কিন্তু মানুষকে এখন পর্যন্ত নির্বাচনমুখী হতে দেখা যাচ্ছে না।
৮ ঘণ্টা আগে
বর্তমান সময়ে চাকরি হলো সোনার হরিণ। যে হরিণের পেছনে ছুটছে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী। যেকোনো ধরনের চাকরি পেতে কারও প্রচেষ্টার যেন কোনো কমতি নেই। বিশেষ করে আমাদের দেশে সরকারি চাকরির বাজারে এখন প্রতিযোগিতার অভাব নেই।
৮ ঘণ্টা আগে
সবকিছু ঠিক থাকলে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রপ্রত্যাশী জনগণের কাছে এই নির্বাচনটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত। কারণ, এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশে যে নির্বাচনী বাস্তবতা গড়ে উঠেছিল, তা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ, অংশগ্রহণহীন এবং বিতর্কে ভরপুর।
৮ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে দ্রুত। দেশের নাগরিকেরা যেমন অধীর আগ্রহে দিনটির অপেক্ষা করছেন, তেমনি করছেন প্রবাসীরাও। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ সংসদীয় আসনে আগামী নির্বাচনের জন্য মোট ১৫ লাখ ২৭ হাজার ১৫৫ জন ভোটারের পোস্টাল ভোট নিবন্ধন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
৮ ঘণ্টা আগে