অরুণ কর্মকার

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে লন্ডনে অনুষ্ঠিত সভা এখন অতীত বিষয়। ওই সভার পর দেশের রাজনীতিতে অনেক কিছুই সমন্বয় হয়ে গেছে এবং এখনো হয়ে যাচ্ছে। রাজনীতি একটি দ্রুত অগ্রসরমাণ বিষয়। তার কয়েক দিনও এক জায়গায় অবস্থানের সুযোগ নেই। তবে রাজনীতিতে আজ যা ঘটে, তার প্রভাব এবং প্রতিক্রিয়া দীর্ঘকাল চলমান থাকতে পারে এবং থাকে। সেই কারণেই লন্ডনের ওই সভা এখনো দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। থাকবে আরও অনেক দিন।
লন্ডনের ওই বৈঠক থেকে দেশবাসীর সামনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একটি শর্তসাপেক্ষ সময়ের ঘোষণা এসেছে। সময়টি আগামী রমজানের আগে। অর্থাৎ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে। আর শর্তটি হলো—যদি (এই সময়ের মধ্যে) সংস্কার এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ায় যথেষ্ট অগ্রগতি হয়। সময়ের প্রস্তাবটি তারেক রহমানের এবং শর্তটি প্রধান উপদেষ্টার। তাঁরা দুজনেই একে অপরের প্রস্তাব ও শর্ত মেনে নিয়েছেন। এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার যে প্রধান উপদেষ্টা ওই শর্তটি আরোপের মাধ্যমে নির্বাচনের সময় প্রশ্নে তাঁর আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন। এর আগেও তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মৌলিক কাজ তিনটি। সংস্কার, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও নির্বাচন। এর প্রথম দুটিকে অনিষ্পন্ন রেখে নির্বাচন হতে পারে না। হওয়া উচিত নয়। তা ছাড়া, কম সংস্কার এবং বেশি সংস্কারের সঙ্গে নির্বাচনের সময় আগে-পিছে হওয়ার কথাও তিনি বলেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাবকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে শর্তসাপেক্ষ করায় এখন বিএনপির ওপর দায়িত্ব পড়েছে সংস্কার ও বিচারপ্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সরকারকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা। অবশ্য বিএনপি কখনোই সরকারকে সহযোগিতা না করার কথা বলেনি। হয়তো অসহযোগিতা করেওনি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১০ মাস সময়কালে সরকার এবং বিএনপির মধ্যে যথেষ্ট টানাপোড়েন যে সৃষ্টি হয়েছিল, বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ প্রকট হয়ে উঠেছিল, তা বোধ হয় অস্বীকার করার উপায় নেই। তেমনই একটি বিষয় হলো, প্রধান উপদেষ্টার নিয়োগ করা জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগ দাবি করা। একইভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনের নিয়োগের কথাও বলা যায়। লন্ডন বৈঠকের পর এই দুটি ইস্যুতেই বিএনপি নীরব।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর প্রতিবেদন থেকে যে ১৬৮টি বিষয় রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তার অধিকাংশের সঙ্গে বিএনপি দ্বিমত পোষণ করে এসেছে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার কমিশনের উত্থাপিত সুপারিশগুলোর মধ্যে দু-একটি ছাড়া সবগুলোতেই বিএনপি দ্বিমত পোষণ করেছে। বিএনপি যদি সেই দ্বিমত অব্যাহত রাখে, তাহলে কী হবে! সে ক্ষেত্রে সংস্কারপ্রক্রিয়ায় যথেষ্ট অগ্রগতি সাধন সম্ভব হবে না। কেননা, সরকার আগেই ঘোষণা করেছে, যে বিষয়গুলোতে সব রাজনৈতিক দল ঐকমত্য পোষণ করবে, সেগুলোই সংস্কারের জন্য গৃহীত হবে। সুতরাং সবচেয়ে বড় দল বিএনপি যদি মৌলিক কোনো বিষয়ে দ্বিমত অব্যাহত রাখে, সেই বিষয়গুলো নিষ্পন্ন করার জন্য আরও আলাপ-আলোচনার দরকার হবে। তাতে সময় বেশি লাগবে। সুতরাং নির্বাচনও পেছাবে। গত সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তাতেই জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠন, সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানোসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিএনপি দ্বিমত পোষণ করেছে। অন্যদিকে জামায়াত এবং এনসিপি একমত হয়েছে। এই ক্ষেত্রে বিএনপির অবস্থান পরিবর্তন না হলে ফেব্রুয়ারির শর্তসাপেক্ষ নির্বাচন হতে পারবে?
আরেকটি বিষয় হলো, সংস্কার নিষ্পন্ন করার বিষয়ে সরকার যথেষ্ট উদ্যোগী কি না। সরকারের তিনটি অঙ্গীকার ছিল। কিন্তু এ কথা তো মানতেই হবে যে সবগুলো কমিশনের সংস্কার প্রস্তাব বা সুপারিশ বাস্তবায়নের সঙ্গে সংবিধান সংস্কার কিংবা নির্বাচনের সম্পর্ক নেই। অনেক কমিশনের সুপারিশ সরকার নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়ন করতে পারে। কিন্তু দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া কোনোটিতেই কি সরকার হাত দিয়েছে! অর্থনীতিবিষয়ক টাস্কফোর্স সরকারের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সবার আগে। সে বিষয়ে কি সরকারের কিছুই করার ছিল না? তাহলে কেন কিছুই করা হলো না? সেই টাস্কফোর্সের সদস্যরাই তো এখন সরকারের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে উচ্চকণ্ঠ! নির্বাচন সংস্কার কমিশনের কোনো কোনো সুপারিশ বাস্তবায়নের পদক্ষেপও কি ইতিমধ্যে শুরু করা যেত না? জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া তো আগেই শুরু হয়েছে। সেখানে যথেষ্ট অগ্রগতিও আছে। এসব বিষয়ে বিএনপি কিংবা কোনো দলই তো কোনো অসহযোগিতা করেছে বলে শোনা যায়নি! তবে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করা একটি আইনি বিষয় এবং আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। সেটা কবে শেষ হবে, তা তো বলা যায় না। কাজেই তার সঙ্গে নির্বাচনকে শর্তসাপেক্ষ করার যৌক্তিকতা কী!
অবশ্য লন্ডন বৈঠকের পর উভয় পক্ষের যে যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাতে শুধু নির্বাচনের সময় নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। কিন্তু দেড় ঘণ্টার ওই বৈঠকে শুধু যে নির্বাচনের সময় নিয়েই আলোচনা সীমাবদ্ধ ছিল, তা বলার এবং বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। এমনকি ওই বৈঠকের আগেও যে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের মাধ্যমে অনেক বিষয় ফয়সালা হয়েছিল, জনপরিসরে তা-ও গোপন থাকেনি। অনেকেরই জানা আছে যে ওই বৈঠক আয়োজনের কেন্দ্রীয় ভাবনা ছিল ‘ডোন্ট ডিস্টার্ব ইউনূস। তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেই সব বিষয়ে ফয়সালা করতে হবে।’ এর প্রতিফলনও আমরা দেখেছি। না হলে বিএনপি যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছিল, তিনিই কীভাবে বৈঠকে যোগ দিতে আসা তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন! এমনকি দুই পক্ষের যৌথ ঘোষণাও পাঠ করেছেন সেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাই।
একটি রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য অনেক বিষয় আলোচনা করার থাকে। বিশেষ করে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে। সুতরাং লন্ডন বৈঠক যে শুধু নির্বাচনের সময়ের আলোচনা ও সমঝোতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, এটা সবাই বোঝেন। বরং নির্বাচনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডের বৈধতা দেওয়া, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ হত্যাসহ সংঘটিত বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধের দায়মুক্তি এবং এ রকম আরও স্পর্শকাতর বিষয় রয়েছে, যেগুলো সেখানে আলোচিত হয়ে থাকতে পারে। বিএনপির বিভিন্ন সূত্র বিবিসি বাংলাকে বলছে, ‘লন্ডন বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী বিষয়গুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতার চেষ্টা চালানো হয়েছে, যেখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে পরবর্তী সংসদে সরকারের বৈধতা নিশ্চিত করা।’
সেই চেষ্টার আপাত সাফল্য দৃশ্যমান হয়েছে। তবে তাতেই যে সব রাজনৈতিক জটিলতার অবসান ঘটেছে, তা মনে করার কোনো কারণ নেই। বরং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ধারণা, আগামী দিনগুলোতে ‘রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও জটিল’ হয়ে উঠতে পারে, যার লক্ষণ অস্পষ্ট নয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে লন্ডনে অনুষ্ঠিত সভা এখন অতীত বিষয়। ওই সভার পর দেশের রাজনীতিতে অনেক কিছুই সমন্বয় হয়ে গেছে এবং এখনো হয়ে যাচ্ছে। রাজনীতি একটি দ্রুত অগ্রসরমাণ বিষয়। তার কয়েক দিনও এক জায়গায় অবস্থানের সুযোগ নেই। তবে রাজনীতিতে আজ যা ঘটে, তার প্রভাব এবং প্রতিক্রিয়া দীর্ঘকাল চলমান থাকতে পারে এবং থাকে। সেই কারণেই লন্ডনের ওই সভা এখনো দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। থাকবে আরও অনেক দিন।
লন্ডনের ওই বৈঠক থেকে দেশবাসীর সামনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একটি শর্তসাপেক্ষ সময়ের ঘোষণা এসেছে। সময়টি আগামী রমজানের আগে। অর্থাৎ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে। আর শর্তটি হলো—যদি (এই সময়ের মধ্যে) সংস্কার এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ায় যথেষ্ট অগ্রগতি হয়। সময়ের প্রস্তাবটি তারেক রহমানের এবং শর্তটি প্রধান উপদেষ্টার। তাঁরা দুজনেই একে অপরের প্রস্তাব ও শর্ত মেনে নিয়েছেন। এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার যে প্রধান উপদেষ্টা ওই শর্তটি আরোপের মাধ্যমে নির্বাচনের সময় প্রশ্নে তাঁর আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন। এর আগেও তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মৌলিক কাজ তিনটি। সংস্কার, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও নির্বাচন। এর প্রথম দুটিকে অনিষ্পন্ন রেখে নির্বাচন হতে পারে না। হওয়া উচিত নয়। তা ছাড়া, কম সংস্কার এবং বেশি সংস্কারের সঙ্গে নির্বাচনের সময় আগে-পিছে হওয়ার কথাও তিনি বলেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাবকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে শর্তসাপেক্ষ করায় এখন বিএনপির ওপর দায়িত্ব পড়েছে সংস্কার ও বিচারপ্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সরকারকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা। অবশ্য বিএনপি কখনোই সরকারকে সহযোগিতা না করার কথা বলেনি। হয়তো অসহযোগিতা করেওনি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১০ মাস সময়কালে সরকার এবং বিএনপির মধ্যে যথেষ্ট টানাপোড়েন যে সৃষ্টি হয়েছিল, বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ প্রকট হয়ে উঠেছিল, তা বোধ হয় অস্বীকার করার উপায় নেই। তেমনই একটি বিষয় হলো, প্রধান উপদেষ্টার নিয়োগ করা জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগ দাবি করা। একইভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনের নিয়োগের কথাও বলা যায়। লন্ডন বৈঠকের পর এই দুটি ইস্যুতেই বিএনপি নীরব।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর প্রতিবেদন থেকে যে ১৬৮টি বিষয় রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তার অধিকাংশের সঙ্গে বিএনপি দ্বিমত পোষণ করে এসেছে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার কমিশনের উত্থাপিত সুপারিশগুলোর মধ্যে দু-একটি ছাড়া সবগুলোতেই বিএনপি দ্বিমত পোষণ করেছে। বিএনপি যদি সেই দ্বিমত অব্যাহত রাখে, তাহলে কী হবে! সে ক্ষেত্রে সংস্কারপ্রক্রিয়ায় যথেষ্ট অগ্রগতি সাধন সম্ভব হবে না। কেননা, সরকার আগেই ঘোষণা করেছে, যে বিষয়গুলোতে সব রাজনৈতিক দল ঐকমত্য পোষণ করবে, সেগুলোই সংস্কারের জন্য গৃহীত হবে। সুতরাং সবচেয়ে বড় দল বিএনপি যদি মৌলিক কোনো বিষয়ে দ্বিমত অব্যাহত রাখে, সেই বিষয়গুলো নিষ্পন্ন করার জন্য আরও আলাপ-আলোচনার দরকার হবে। তাতে সময় বেশি লাগবে। সুতরাং নির্বাচনও পেছাবে। গত সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তাতেই জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠন, সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানোসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিএনপি দ্বিমত পোষণ করেছে। অন্যদিকে জামায়াত এবং এনসিপি একমত হয়েছে। এই ক্ষেত্রে বিএনপির অবস্থান পরিবর্তন না হলে ফেব্রুয়ারির শর্তসাপেক্ষ নির্বাচন হতে পারবে?
আরেকটি বিষয় হলো, সংস্কার নিষ্পন্ন করার বিষয়ে সরকার যথেষ্ট উদ্যোগী কি না। সরকারের তিনটি অঙ্গীকার ছিল। কিন্তু এ কথা তো মানতেই হবে যে সবগুলো কমিশনের সংস্কার প্রস্তাব বা সুপারিশ বাস্তবায়নের সঙ্গে সংবিধান সংস্কার কিংবা নির্বাচনের সম্পর্ক নেই। অনেক কমিশনের সুপারিশ সরকার নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়ন করতে পারে। কিন্তু দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া কোনোটিতেই কি সরকার হাত দিয়েছে! অর্থনীতিবিষয়ক টাস্কফোর্স সরকারের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সবার আগে। সে বিষয়ে কি সরকারের কিছুই করার ছিল না? তাহলে কেন কিছুই করা হলো না? সেই টাস্কফোর্সের সদস্যরাই তো এখন সরকারের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে উচ্চকণ্ঠ! নির্বাচন সংস্কার কমিশনের কোনো কোনো সুপারিশ বাস্তবায়নের পদক্ষেপও কি ইতিমধ্যে শুরু করা যেত না? জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া তো আগেই শুরু হয়েছে। সেখানে যথেষ্ট অগ্রগতিও আছে। এসব বিষয়ে বিএনপি কিংবা কোনো দলই তো কোনো অসহযোগিতা করেছে বলে শোনা যায়নি! তবে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করা একটি আইনি বিষয় এবং আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। সেটা কবে শেষ হবে, তা তো বলা যায় না। কাজেই তার সঙ্গে নির্বাচনকে শর্তসাপেক্ষ করার যৌক্তিকতা কী!
অবশ্য লন্ডন বৈঠকের পর উভয় পক্ষের যে যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাতে শুধু নির্বাচনের সময় নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। কিন্তু দেড় ঘণ্টার ওই বৈঠকে শুধু যে নির্বাচনের সময় নিয়েই আলোচনা সীমাবদ্ধ ছিল, তা বলার এবং বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। এমনকি ওই বৈঠকের আগেও যে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের মাধ্যমে অনেক বিষয় ফয়সালা হয়েছিল, জনপরিসরে তা-ও গোপন থাকেনি। অনেকেরই জানা আছে যে ওই বৈঠক আয়োজনের কেন্দ্রীয় ভাবনা ছিল ‘ডোন্ট ডিস্টার্ব ইউনূস। তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেই সব বিষয়ে ফয়সালা করতে হবে।’ এর প্রতিফলনও আমরা দেখেছি। না হলে বিএনপি যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছিল, তিনিই কীভাবে বৈঠকে যোগ দিতে আসা তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন! এমনকি দুই পক্ষের যৌথ ঘোষণাও পাঠ করেছেন সেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাই।
একটি রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য অনেক বিষয় আলোচনা করার থাকে। বিশেষ করে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে। সুতরাং লন্ডন বৈঠক যে শুধু নির্বাচনের সময়ের আলোচনা ও সমঝোতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, এটা সবাই বোঝেন। বরং নির্বাচনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডের বৈধতা দেওয়া, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ হত্যাসহ সংঘটিত বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধের দায়মুক্তি এবং এ রকম আরও স্পর্শকাতর বিষয় রয়েছে, যেগুলো সেখানে আলোচিত হয়ে থাকতে পারে। বিএনপির বিভিন্ন সূত্র বিবিসি বাংলাকে বলছে, ‘লন্ডন বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী বিষয়গুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতার চেষ্টা চালানো হয়েছে, যেখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে পরবর্তী সংসদে সরকারের বৈধতা নিশ্চিত করা।’
সেই চেষ্টার আপাত সাফল্য দৃশ্যমান হয়েছে। তবে তাতেই যে সব রাজনৈতিক জটিলতার অবসান ঘটেছে, তা মনে করার কোনো কারণ নেই। বরং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ধারণা, আগামী দিনগুলোতে ‘রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও জটিল’ হয়ে উঠতে পারে, যার লক্ষণ অস্পষ্ট নয়।

‘বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে’ প্রবাদটিই যেন সত্যে প্রমাণিত হতে চলেছে খুলনা নগরের উপকণ্ঠে রূপসা সেতুর নিকটবর্তী মাথাভাঙ্গা মৌজার ৩২টি দরিদ্র ও শ্রমজীবী পরিবারের মানুষের কাছে। কারণ, এখানে বসবাসরত পরিবারগুলোর জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। জায়গাটি একসময় বিরান ভূমি ছিল।
৭ মিনিট আগে
নির্বাচনের আমেজে ভাসছে দেশ। তারপরও কেমন যেন একটা চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে মানুষের মনে। কী হবে সামনে, তা নিয়ে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ চিন্তকও নির্দ্বিধায় কোনো মন্তব্য করতে পারবেন বলে মনে হয় না। নির্বাচন কি সেই হতাশাজনক পরিস্থিতিকে পেছনে ফেলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে?
৮ মিনিট আগে
জানুয়ারি মাস চলছে নতুন বছরের। আর ২৭ দিন পরেই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি, এই নির্বাচন হবে ইতিহাসের অন্যতম একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সুষ্ঠু তো বটেই। তাদের আরও দাবি হলো, বিগত ১৭ বছরে যা হয়নি এক বছর কয়েক মাসে সেটা করে দেখিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
২১ মিনিট আগে
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনার পর প্রশ্ন ওঠে—দেশের কোথায় আজ নারীরা নিরাপদ? শুধু কি নারী? কোন কারণে কোথায় কে কখন হবেন গণপিটুনির শিকার, কাকে রাস্তায় ধরে কারও দোসর নাম দিয়ে হত্যা করা হবে, তা নিয়ে শঙ্কিত দেশের মানুষ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন এক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, যখন কোথাও...
১ দিন আগে