হতভাগা এই জাতির ললাটে সারা জীবনের জন্য দুর্ভোগ লেখা আছে, এ কথাই কি তাহলে সত্য বলে ধরে নিতে হবে? একটি বড় গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় এসে বিশাল ইতিবাচক পরিবর্তনের রূপকার হবেন বলে যাঁদের মনে করা হয়েছিল, তাঁরা তাঁদের ১৮ মাসের শাসনামলে দেশটাকে এমন এক অস্থিরতার মধ্যে নিয়ে গেছেন, যা থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের উচিত ঠান্ডা মাথায় সব দল ও প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে দেশগঠনের কাজে মনোযোগ দেওয়া।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই মাস কেটে গেছে। এত অল্প সময়ে ক্ষমতাসীন দলের মূল্যায়ন করা যায় না। কিন্তু সরকারি মহল থেকে দুই মাসে তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে যেভাবে সাফাই গাওয়া হচ্ছে, তা ঠিক হচ্ছে কি? তাদের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন তো করবে জনগণ। তারা দেখবে, নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় কি না; ভোজ্যতেলের পাশাপাশি যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় তেলের বাজারে অস্থিরতা কেটেছে কি না; চাঁদাবাজি, দখলদারি কমেছে কি না, বিনিয়োগ বাড়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে কি না, নারীর ক্ষমতায়নের পথ প্রশস্ত হচ্ছে কি না, শিক্ষা খাতে রাজনীতিকে টেনে আনা হচ্ছে কি না—এ ধরনের বহু প্রশ্নের উত্তর দেবে জনগণ।
সরকার যদি বলতে থাকে যে ‘আমরা দুই মাসের মধ্যে বিশাল পরিবর্তন নিয়ে এসেছি।’ আর জনগণ যদি সেই পরিবর্তন চোখে না দেখে, তাহলে রাশিয়ার একটি কৌতুকের মতো হয়ে উঠবে বাংলাদেশের জীবন। কৌতুকটা এ রকম: এক রোগী হাসপাতালে এসে জিজ্ঞেস করছেন, ‘আমি চোখ আর কানের ডাক্তার দেখাতে চাই।’ এ কথা শুনে রিসেপশনিস্ট বললেন, ‘মানে? নাক-কান-গলার জন্য এক ডাক্তার, চোখের জন্য আরেক ডাক্তার। এবার আপনি বলেন, আসলে কোন ডাক্তারকে দেখাতে চান?’ রোগী বললেন, ‘ভাই, রাস্তায় নেতাদের ভাষণে যা শুনছি আর চোখে যা দেখছি, তার মধ্যে তো কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছি না। তাই আমি বুঝতে চাইছি, আমার চোখটা গেছে নাকি কানটা!’
ছোট্ট একটা ঘটনা বলব। এ কারণে এত কথার প্রসঙ্গ এল। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের গেটসংলগ্ন রেলের জমি দখল করে রেস্তোরাঁ নির্মাণ করেছেন ছাত্রদলের এক নেতা। ‘বাপের সম্পত্তি’ মনে করে জমি ও পরিত্যক্ত রেললাইনের ওপর কংক্রিটের ঢালাই করে স্থাপনাও গড়েছেন। তারপর? তারপর আর কি? দুই মাস আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে থানায় এজাহার দাখিল করেছে, কিন্তু মামলা নথিভুক্ত হয়নি; বরং রেলওয়ের ফিল্ড কানুনগো স্থাপনা নির্মাণে বাধা দেওয়ায় হুমকির শিকার হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের নিয়ে উচ্ছেদ করতে গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে বলে জানিয়েছেন সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ।
কারও কি বুঝতে বাকি আছে, কী হচ্ছে সেখানে? দুই মাসের সাফল্যের সাফাই না গেয়ে বরং দলের মধ্যে কারা সরকারকে সমালোচনার মুখে ফেলছে, সেদিকে বিএনপি নজর দিলে জনতা তাদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারত। সেদিকে কি সরকার নজর দেবে? শাস্তি দেবে এ ধরনের পেশিশক্তিকে?

কেউ বিশ্বাস করবে না, এ রকম এক মামলায় এক মা ও তাঁর দেড় মাস বয়সী শিশু জেলখানা ঘুরে এল। শিশু কোলে নিয়ে মায়ের সেই ছবিটি ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। এই মাকে গ্রেপ্তার করেছে যে পুলিশ সদস্যরা, তাঁদের ‘বীরপুঙ্গব’ হিসেবে পুরস্কৃত করা উচিত। সরকারি দলের যে আইনজীবী এই অসহায় নারী ও শিশুর জামিন দেওয়া কেন উচিত...
৬ ঘণ্টা আগে
দেশের জনগণ কি কোনো সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছে আর? শঙ্কা নিয়ে মনে, তারা কি ভাবছে, যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ? এই তো, ফেব্রুয়ারি মাসে হয়ে গেল জাতীয় নির্বাচন। সেই নির্বাচনে যে কথামালার রাজনীতি হয়েছে, তাতে কি খুব একটা বুদ্ধিদীপ্ত কথাবার্তা শোনা গেছে? শোনা গেছে শিক্ষা নিয়ে কথা? স্বাস্থ্য নিয়ে কথা?...
৬ ঘণ্টা আগে
১৮ এপ্রিল মধ্যরাতে অনেকেই ঘুমিয়ে ছিলেন। সেই সময়েই এমন একটি সিদ্ধান্ত হলো, যার প্রভাব সকাল থেকেই প্রতিটি পরিবারের খরচে পড়েছে। লিটারপ্রতি কয়েক টাকা বাড়তি অঙ্ক কাগজে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে এর ওজন অনেক বেশি। ভোরে সেচপাম্প চালানো কৃষক, বাসে চড়ে কাজে যাওয়া শ্রমিক, কেরোসিনের আলোয় সন্তানের...
৬ ঘণ্টা আগে
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ দুই মাসে গড়াতে চলল। এরই মধ্যে এক দফার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির মধ্যে একবার আলোচনার টেবিলেও বসেছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যস্থতায় ছিল পাকিস্তান। কিন্তু সে আলোচনা ফলপ্রসূ তো হয়ইনি, বরং যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ শুরু করেছে।
১ দিন আগে