নাটক জমে উঠেছে। বহুদিন ধরেই ইলিশ নিয়ে নাট্যাভিনয় চলছে। দেশের মানুষ ইলিশ খেতে পায় না আর সেই ইলিশ কিনা রপ্তানি হয়ে যাচ্ছে ভারতে! এই নিয়ে একসময় অভিযোগের অন্ত ছিল না। ভারতবিদ্বেষের একটা সহজ সমীকরণ মেলানো হয়েছিল এই ইলিশ রপ্তানিকে কেন্দ্র করে। যাঁরা আওয়ামী লীগ সরকারকে দুষছিলেন ভারতের কাছে ইলিশ বিক্রি করার কারণে, যাঁরা নানাভাবে অভিযোগ করছিলেন দেশের মানুষকে বঞ্চিত করে ভারতের মানুষকে ইলিশ খাওয়ানো নিয়ে। সেই অভিযোগকারীরাই কিনা ক্ষমতায় আসার পর ভারতের কাছে ইলিশ বিক্রি করেছিল! পাঠক নিশ্চয়ই ভুলে যাননি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই ইলিশ বিতর্ক কতটা হাস্যরসাত্মক হয়ে উঠেছিল, যা একসময় পৃথিবীর সেরা কমেডিগুলোকেও হার মানিয়েছিল।
স্মরণ করিয়ে দেওয়া যায়, সে সময় বিভিন্ন উপদেষ্টা বিভিন্নভাবে ইলিশ রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। বিশেষ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছিলেন, বাংলাদেশের মানুষ যেন ইলিশ খেতে পারেন, সেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেছিলেন, আমাদের দেশের মানুষ ইলিশ খেতে পারবে না আর ইলিশ রপ্তানি হবে, এটা হতে পারে না। কিন্তু কিছুদিন পর যখন ভারতে ইলিশ রপ্তানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় সরকার, তখন ফরিদা আখতার ব্যাখ্যা করেন যে তাঁর মন্ত্রণালয় ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করতে চাইলেও রপ্তানির চূড়ান্ত ক্ষমতা তাঁর মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভারতের বিশেষ অনুরোধের ভিত্তিতে ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, তিনি অনুরোধ করতে পারেন, কিন্তু রপ্তানি নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা তাঁর নেই। ক্ষমতা ছাড়াই তাহলে নিধিরাম সরদারের মতো পপুলার বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি!
অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ যুক্তি দেন, বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন করে; রপ্তানি হবে মাত্র ৩ হাজার টন। অর্থাৎ মোট উৎপাদনের ১ শতাংশের কম। তাঁর মতে, এত অল্প পরিমাণ রপ্তানিতে দেশের বাজারে বড় প্রভাব পড়ার কথা নয়। পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ইলিশ উপহার হিসেবে যাচ্ছে না, রপ্তানি হচ্ছে।
ঘুরেফিরে যেটা দাঁড়াচ্ছে, সেটা হলো, ভারত-বিরোধিতার সুযোগ নিয়ে ইলিশ মাছকে বেশ রাজনীতির একটি উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কোন দল কখন এই রাজনীতি করছে, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ভাবনার প্রতিফলন ঘটে এই রাজনীতিতে।
যা হোক, যে ইলিশ ভারতে রপ্তানি নিয়ে এত হইচই, সেই ইলিশ কিনা এখন ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে! খুবই কম মূল্যে সেই ইলিশ কিনে এনে বরিশালের ইলিশ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। আবার কী কাণ্ড, ভারতের ইলিশ ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের সুস্বাদু ইলিশ কেনার জন্য আবেদন করে রেখেছেন। করবেন না কেন? ভারতের যে ইলিশগুলো আনা হয়েছে, তা স্বাদহীন!
নাটক জমে উঠেছে ঠিকই, কিন্তু দেশের মানুষ ন্যায্য দামে ভালো ইলিশ খাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সেই বঞ্চনা কেটে যাবে—সে ভরসা কোথায়?

বাংলাদেশে নারীশিক্ষার অগ্রগতি আমাদের নিঃসন্দেহে এমন এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে শিক্ষিত, দক্ষ ও আত্মনির্ভর নারীরা দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও নেতৃত্বে সমান অংশীদার হয়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কয়েক দশক আগেও অনেক পরিবারে মেয়েদের উচ্চশিক্ষা ছিল দূরের স্বপ্ন।
৩ ঘণ্টা আগে
মোবাইল ইন্টারনেট এখন আর কারও কাছে বাড়তি সুবিধা নয়, এটি প্রতিদিনের জীবনের প্রয়োজনীয় অংশ হয়ে উঠেছে। ব্যাংকিং লেনদেন থেকে শুরু করে সন্তানের অনলাইন ক্লাস, চাকরির আবেদন কিংবা ছোট ব্যবসার হিসাব রাখা, সবকিছুতেই এখন এই একটি সংযোগের ওপর নির্ভর করতে হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
হাকালুকি হাওর শুধু প্রাকৃতিক মাছের আধার নয়, বরং পরিবেশ রক্ষারও কবচ। এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই মিঠাপানির জলাভূমি আজ বিপন্নের পথে। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই হাওর ঘিরে তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। হাওরটির পশ্চিমে আছে ভাটেরা পাহাড় ও পূর্বে আছে পাথারিয়া মাধব পাহাড়।
১ দিন আগে
শুরুতেই বলে রাখি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সম্প্রতি এমন একটি ঘটনা ঘটে গেল, যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন-পুরোনো শিক্ষার্থীরা সারা জীবন লজ্জা পাবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এত বড় দুঃসংবাদ আগে কখনো এসেছে বলে মনে হয় না। বিস্ময়ের ব্যাপার, এই লজ্জা এসেছে ডাকসুর বিশেষ এক কাণ্ডের কারণে।
১ দিন আগে