ড. মো. আনোয়ার হোসেন

যখন উন্নত বিশ্বের সুযোগগুলো আমাদের হাতছানি দেয়, তখন পরিচিতির প্রতীক, আমাদের সবুজ পাসপোর্টটি এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য ‘ভিসা বন্ড’ বা অতিরিক্ত জামানত আরোপের খবর সেই স্বপ্ন এবং বাস্তবতার মধ্যে এক নতুন কাঁটাতারের সৃষ্টি করেছে। এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি আর্থিক বোঝা নয়, এটি আমাদের জাতীয় আত্মমর্যাদার ওপরও এক আঘাত। কেন আমাদের পাসপোর্টকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে? কেন আমাদের গতিবিধি সীমিত করার প্রয়োজন পড়ছে? আমাদের পৃথিবী কি সত্যিই সংকুচিত হয়ে আসছে? সে জন্য আমাদের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে পৃথিবীর যেকোনো দেশে প্রবেশের জন্য প্রত্যেক নাগরিকের কাছে এটি প্রধান চাবিকাঠি। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ব্যবসায়ী বা পর্যটক হিসেবে আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের মোটা অঙ্কের বাড়তি জামানত দিতে হবে; যার পরিমাণ সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের জন্য তিন বিমানবন্দর বরাদ্দ এখন। এর বাইরে অন্য কোনো বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে বা বের হতে পারবেন না, যা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের সূচকে মাত্র তিন মাস ব্যবধানে ছয় ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। ১৪ অক্টোবর বৈশ্বিক পাসপোর্ট র্যাঙ্কিংয়ের হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স। গত ২০ বছরের নথির ভিত্তিতে ‘হেনলি পাসপোর্ট সূচক’ প্রকাশিত হয়। সেখানে দেখা যায়, তালিকার ১০৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০০তম। এই অবস্থান বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে আছে উত্তর কোরিয়া, যা একজন গর্বিত বাংলাদেশি হিসেবে আমাকে হতাশ করেছে।
এ তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশের নাম সিঙ্গাপুর। সিঙ্গাপুরের পাসপোর্টধারীরা ভিসা ছাড়াই ১৯৩টি দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের নাগরিকেরা অন অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে মাত্র ২৬টি দেশে গমন করতে পারেন। তা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে এই ২৬টি দেশও তাদের বিমানবন্দরে বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট দেখামাত্র অবরুদ্ধ করে রাখে, লাঞ্ছনাদায়কভাবে তাদের দেশে প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যান করে এবং বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।
বিশ্বজুড়ে উত্তর কোরিয়ার ভাবমূর্তি মূলত নেতিবাচক। দেশটির নাগরিকদের অনেক দেশ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত করে। দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি, গণতন্ত্র এবং মৌলিক স্বাধীনতার অভাবও বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাধারণ নাগরিকদের স্বৈরাচারী সরকারের অপকর্মের মাশুল গুনতে হয়। উত্তর কোরিয়া ১০৬টি দেশের পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে ১০০তম স্থান অধিকার করেছে কেন? তবে কি বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উত্তর কোরিয়ার মতোই?
বাংলাদেশের পাসপোর্ট র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে অনেক বাংলাদেশি নাগরিক পর্যটক বা ব্যবসায়ী ভিসায় বিদেশে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে অন্য কাজে নিয়োজিত হন। এই ধরনের ঘটনাগুলো বিদেশের কাছে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়ে দেয়।
জীবনের উন্নত সুযোগের সন্ধানে অনেকে অবৈধ পথে বিদেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করেন। সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বা সীমান্ত অতিক্রমের মতো ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। ভিসা আবেদনের সময় জাল নথি ব্যবহার করা বা ভুল তথ্য প্রদান করা একটি গুরুতর সমস্যা। দূতাবাসগুলো এই ধরনের ঘটনা সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং এর ফলে বৈধ আবেদনকারীদেরও সন্দেহের চোখে দেখা হয়। একটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সুশাসন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার পাসপোর্টের মর্যাদাকে প্রভাবিত করে। অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভিসা সহজীকরণ বা ভিসামুক্ত প্রবেশের চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতাও পাসপোর্টের র্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশের পাসপোর্ট র্যাঙ্কিংয়ের উন্নতিকল্পে নিম্নলিখিত করণীয় নির্ধারণ করার মাধ্যমে আমাদের আগামী দিনে পথচলা সহজ হতে পারে:
ভিসা আবেদনকারীদের বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। অভিভাবকেরা সন্তানদের দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর জোর দিন। অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশে পাঠানো থেকে বিরত থাকুন।
সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি’র মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা দরকার। এ ছাড়া পাসপোর্ট ও ভিসা জালিয়াতি এবং মানব পাচার দমনে কঠোর হওয়া দরকার।
বাংলাদেশের পাসপোর্টের বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের সবার জন্য একটি চিন্তার বিষয়। ১৫ হাজার ডলারের ভিসা বন্ডের মতো নীতিমালা হয়তো একটি সতর্কবার্তা। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি এবং সমন্বিত পরিকল্পনা। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার প্রসার এবং জনগণের মধ্যে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করা—এই সবই পাসপোর্টের মান উন্নত করতে সহায়ক হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতি বা পাসপোর্টের নিম্ন র্যাঙ্কিং আমাদের জন্য একটি কঠিন বাস্তবতা। এটি কেবল একটি চ্যালেঞ্জ নয়, এটি আমাদের জন্য আত্মপর্যালোচনা এবং পরিবর্তনের একটি সুযোগ। আমাদের বুঝতে হবে, পৃথিবীর অন্য দেশের নাগরিকেরা যখন মাথা উঁচু করে দাঁড়ান, তার পেছনে থাকে তাঁদের দেশের শক্তি, তাঁদের দেশের ভাবমূর্তি এবং তাঁদের নিজেদের দায়িত্বশীল আচরণ। আমরা যদি অভ্যন্তরীণভাবে নিজেদের শক্তিশালী করতে পারি, যদি আমরা নিয়ম মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারি এবং বিদেশের মাটিতে আমাদের আচরণে আমাদের দেশের সম্মান প্রতিফলিত হয়, তবেই আমরা এই সংকট থেকে মুক্তি পাব। মাথা নিচু করে নয়, গর্বিত বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সংকল্প আজ আমাদের সবার। এই পথ কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং দৃঢ়সংকল্পে আমরা আমাদের পাসপোর্টের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে পারব।

যখন উন্নত বিশ্বের সুযোগগুলো আমাদের হাতছানি দেয়, তখন পরিচিতির প্রতীক, আমাদের সবুজ পাসপোর্টটি এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য ‘ভিসা বন্ড’ বা অতিরিক্ত জামানত আরোপের খবর সেই স্বপ্ন এবং বাস্তবতার মধ্যে এক নতুন কাঁটাতারের সৃষ্টি করেছে। এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি আর্থিক বোঝা নয়, এটি আমাদের জাতীয় আত্মমর্যাদার ওপরও এক আঘাত। কেন আমাদের পাসপোর্টকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে? কেন আমাদের গতিবিধি সীমিত করার প্রয়োজন পড়ছে? আমাদের পৃথিবী কি সত্যিই সংকুচিত হয়ে আসছে? সে জন্য আমাদের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে পৃথিবীর যেকোনো দেশে প্রবেশের জন্য প্রত্যেক নাগরিকের কাছে এটি প্রধান চাবিকাঠি। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ব্যবসায়ী বা পর্যটক হিসেবে আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের মোটা অঙ্কের বাড়তি জামানত দিতে হবে; যার পরিমাণ সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের জন্য তিন বিমানবন্দর বরাদ্দ এখন। এর বাইরে অন্য কোনো বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে বা বের হতে পারবেন না, যা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের সূচকে মাত্র তিন মাস ব্যবধানে ছয় ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। ১৪ অক্টোবর বৈশ্বিক পাসপোর্ট র্যাঙ্কিংয়ের হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স। গত ২০ বছরের নথির ভিত্তিতে ‘হেনলি পাসপোর্ট সূচক’ প্রকাশিত হয়। সেখানে দেখা যায়, তালিকার ১০৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০০তম। এই অবস্থান বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে আছে উত্তর কোরিয়া, যা একজন গর্বিত বাংলাদেশি হিসেবে আমাকে হতাশ করেছে।
এ তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশের নাম সিঙ্গাপুর। সিঙ্গাপুরের পাসপোর্টধারীরা ভিসা ছাড়াই ১৯৩টি দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের নাগরিকেরা অন অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে মাত্র ২৬টি দেশে গমন করতে পারেন। তা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে এই ২৬টি দেশও তাদের বিমানবন্দরে বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট দেখামাত্র অবরুদ্ধ করে রাখে, লাঞ্ছনাদায়কভাবে তাদের দেশে প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যান করে এবং বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।
বিশ্বজুড়ে উত্তর কোরিয়ার ভাবমূর্তি মূলত নেতিবাচক। দেশটির নাগরিকদের অনেক দেশ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত করে। দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি, গণতন্ত্র এবং মৌলিক স্বাধীনতার অভাবও বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাধারণ নাগরিকদের স্বৈরাচারী সরকারের অপকর্মের মাশুল গুনতে হয়। উত্তর কোরিয়া ১০৬টি দেশের পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে ১০০তম স্থান অধিকার করেছে কেন? তবে কি বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উত্তর কোরিয়ার মতোই?
বাংলাদেশের পাসপোর্ট র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে অনেক বাংলাদেশি নাগরিক পর্যটক বা ব্যবসায়ী ভিসায় বিদেশে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে অন্য কাজে নিয়োজিত হন। এই ধরনের ঘটনাগুলো বিদেশের কাছে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়ে দেয়।
জীবনের উন্নত সুযোগের সন্ধানে অনেকে অবৈধ পথে বিদেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করেন। সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বা সীমান্ত অতিক্রমের মতো ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। ভিসা আবেদনের সময় জাল নথি ব্যবহার করা বা ভুল তথ্য প্রদান করা একটি গুরুতর সমস্যা। দূতাবাসগুলো এই ধরনের ঘটনা সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং এর ফলে বৈধ আবেদনকারীদেরও সন্দেহের চোখে দেখা হয়। একটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সুশাসন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার পাসপোর্টের মর্যাদাকে প্রভাবিত করে। অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভিসা সহজীকরণ বা ভিসামুক্ত প্রবেশের চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতাও পাসপোর্টের র্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশের পাসপোর্ট র্যাঙ্কিংয়ের উন্নতিকল্পে নিম্নলিখিত করণীয় নির্ধারণ করার মাধ্যমে আমাদের আগামী দিনে পথচলা সহজ হতে পারে:
ভিসা আবেদনকারীদের বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। অভিভাবকেরা সন্তানদের দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর জোর দিন। অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশে পাঠানো থেকে বিরত থাকুন।
সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি’র মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা দরকার। এ ছাড়া পাসপোর্ট ও ভিসা জালিয়াতি এবং মানব পাচার দমনে কঠোর হওয়া দরকার।
বাংলাদেশের পাসপোর্টের বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের সবার জন্য একটি চিন্তার বিষয়। ১৫ হাজার ডলারের ভিসা বন্ডের মতো নীতিমালা হয়তো একটি সতর্কবার্তা। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি এবং সমন্বিত পরিকল্পনা। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার প্রসার এবং জনগণের মধ্যে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করা—এই সবই পাসপোর্টের মান উন্নত করতে সহায়ক হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতি বা পাসপোর্টের নিম্ন র্যাঙ্কিং আমাদের জন্য একটি কঠিন বাস্তবতা। এটি কেবল একটি চ্যালেঞ্জ নয়, এটি আমাদের জন্য আত্মপর্যালোচনা এবং পরিবর্তনের একটি সুযোগ। আমাদের বুঝতে হবে, পৃথিবীর অন্য দেশের নাগরিকেরা যখন মাথা উঁচু করে দাঁড়ান, তার পেছনে থাকে তাঁদের দেশের শক্তি, তাঁদের দেশের ভাবমূর্তি এবং তাঁদের নিজেদের দায়িত্বশীল আচরণ। আমরা যদি অভ্যন্তরীণভাবে নিজেদের শক্তিশালী করতে পারি, যদি আমরা নিয়ম মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারি এবং বিদেশের মাটিতে আমাদের আচরণে আমাদের দেশের সম্মান প্রতিফলিত হয়, তবেই আমরা এই সংকট থেকে মুক্তি পাব। মাথা নিচু করে নয়, গর্বিত বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সংকল্প আজ আমাদের সবার। এই পথ কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং দৃঢ়সংকল্পে আমরা আমাদের পাসপোর্টের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে পারব।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তরল পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের তীব্র সংকট দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতার একটি সংকেত মাত্র। যদিও সব ক্ষেত্রেই জ্বালানির ঘাটতি দীর্ঘকালের। সাধারণভাবে কখনো কম কখনো বেশি ঘাটতি নিয়েই দেশ চলেছে। এবারের মতো সংকটময় পরিস্থিতির উদ্ভব কালেভদ্রেই হয়ে থাকে।
১৯ ঘণ্টা আগে
পৌষের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই এ বছরের শীত যেন আচমকাই নিজের চরিত্র বদলে ফেলেছে। এটি আর সহনীয়, নরম কিংবা সাময়িক শীত নয়; এ শীত দীর্ঘ, ধারালো এবং হাড়কাঁপানো। রাত নামলেই তাপমাত্রা অনেক কমে আসে।
১৯ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হলে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এ বাহিনীর সদস্যদের যেখানে এখনো মনোবল ফেরানো সম্ভব হয়নি, সেখানে কীভাবে তাঁদের দ্বারা নির্বাচনে সঠিকভাবে দায়িত্ব...
১৯ ঘণ্টা আগে
এটি একটি পরিত্যক্ত ভবন এবং এর আঙিনা ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। কিন্তু না, ভবনটি ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এর আঙিনা ময়লা ফেলার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ছবিটি যে কথাই বলুক না কেন, প্রকাশিত খবর বলছে, ওই ভবনটি একটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের এবং স্থানান্তরিত নতুন ভবনে চিকিৎসাসেবা পরিচালিত হলেও পুরোনো ভবনটিতে...
২ দিন আগে