
বিএনপির যে রাজনৈতিক অবস্থান ছিল বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা—এগুলোর সঙ্গে এই অধ্যাদেশগুলো বাতিলের পদক্ষেপ সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয় না।
কারণ, যদি এই দুটি অধ্যাদেশের কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নিয়ে তাদের ভিন্নমত থাকত, সে ক্ষেত্রে সেই বিধানগুলো সংশোধন করেই বর্তমান অধিবেশনে এগুলোকে আইন আকারে গ্রহণ করা যেত। বিল আকারে উপস্থাপন করা যেত, পুরোটা বাতিল না করে। কিন্তু তারা বলছে, আপাতত পুরোটা বাতিল করে পরে পর্যালোচনার পর নতুন করে বিল আকারে উপস্থাপন করবে। এর ফলে সংশয় তৈরি হয়েছে, এই সংশয়টা তৈরি করা তো রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে না।
অতীতেও দেখা গেছে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার কিছু কিছু সংস্কারমূলক আইন পরে করবে বলে বাদ দিয়েছিল। ২০০৮ সালে বিচারক নিয়োগের একটা আইন হয়েছিল। ১/১১-এর শাসনামলে এবং আওয়ামী লীগ বলেছিল যে তারা আরও উন্নতভাবে আইন আকারে পাস করবে। কিন্তু সেটা তারা করেনি। এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে এ রকম সংশয় তৈরি হতে পারে যে বিএনপি একই পথে হাঁটছে কি না। যথার্থ হতো এই অধিবেশনেই আইনগুলো পুরোপুরি বাতিল না করে কিছু সংশোধনী যদি তারা গ্রহণ করত।
দুইটা অধ্যাদেশের একটা সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, আরেকটা হলো সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের মূল বিষয়গুলোর একটা ছিল অধস্তন আদালতের যাঁরা বিচারক আছেন, তাঁদের শৃঙ্খলা, জবাবদিহি নিশ্চিত করার যে এখতিয়ার, সেটা সুপ্রিম কোর্টের কাছে আসবে। মাসদার হোসেন মামলার রায় থেকে একটা জনপ্রত্যাশা ছিল যে বিচার বিভাগের কাছেই অধস্তন আদালতের জবাবদিহি থাকবে। আর সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগের আইন করা হয়েছিল এটা নিশ্চিত করার জন্য, যাতে শুধু দলীয় বিবেচনায় অযোগ্য কাউকে উচ্চ আদালতের বিচারক হিসেবে নিয়োগ না করা হয়।
আওয়ামী লীগ উচ্চতর আদালত এবং নিম্ন আদালত দুই জায়গাতেই দলীয় এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিল দেখেই আওয়ামী লীগ তাদের ফ্যাসিস্ট শাসনটাকে ১৬ বছর দীর্ঘায়িত করতে পেরেছে।
৫ আগস্ট-পরবর্তী জন-আকাঙ্ক্ষা ছিল যে এই পরিস্থিতির গুণগত পরিবর্তন হবে এবং এই কারণেই কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার এই দুইটা অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এই অধ্যাদেশগুলো পুরোপুরি বাতিল করা মানে এই জন-আকাঙ্ক্ষাটাকে প্রত্যাখ্যান করা, যেটা কোনোভাবেই কোনো রাজনৈতিক দলের নীতি হতে পারে না।
আমি আশা করব, আইনমন্ত্রীর আশ্বাস যেটা আছে, সেটা সত্যি আশ্বাস হবে, মিথ্যা আশ্বাস না। উনারা চলতি অধিবেশন কিংবা পরবর্তী অধিবেশনেই নতুন করে বিল উপস্থাপন করবেন এবং সেখানে এই অধ্যাদেশগুলোর মৌলিক বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হবে।
লেখক: আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট, সাবেক সদস্য, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন

ডা. মুশতাক হোসেন বাংলাদেশের একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) মেডিকেল প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে মেডিকেল ভর্তি-ইচ্ছুকদের আন্দোলনে সংহতি জানানোর কারণে তাঁকে ওএসডি করা হয়েছিল।
৮ ঘণ্টা আগে
বৈশাখ আসে প্রতিবছর। কিন্তু যেভাবে আসে, সেটা প্রতিবারই একটু আলাদা। গ্রামের বটতলায় মেলার সুর ওঠে, শহরের রাস্তায় লাল-সাদা পোশাকের ঢল নামে, দোকানে দোকানে নতুন সাজ। মানুষ ভুলে যেতে চায় পুরোনো বছরের ক্লান্তি। নতুন বছরকে বরণ করতে বুকভরা আশা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে পথে।
৮ ঘণ্টা আগে
মাত্র আধা কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করতে কত সময় লাগা উচিত? এ প্রশ্নের নানা রকম উত্তর হতে পারে, কিন্তু তা কখনোই আড়াই বছর হতে পারে না। ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের প্রসাদখালী গ্রামের কাছে প্রায় ৫০০ মিটার সড়ক নির্মাণের জন্য।
৮ ঘণ্টা আগে
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিল পাস আত্মঘাতী কাজ হয়েছে বলে মনে করছেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল মতিন। তিনি বলেছেন, ‘অধ্যাদেশ রহিতকরণে আমার মনে হয় এরা (সরকার) আত্মঘাতী কাজ করছে।
১২ ঘণ্টা আগে