মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক জৌলুশে নয়, বরং নিহিত থাকে তার অন্তরের পবিত্রতা ও মানবিকতায়। একটি সরল হৃদয় কখনো কৃত্রিমতার আশ্রয় নেয় না; সে ভালোবাসে নিঃস্বার্থভাবে, বিশ্বাস করে অকপটে এবং সম্পর্ককে মূল্যায়ন করে আন্তরিকতার আলোকে। কিন্তু বর্তমান সমাজের এক নির্মম বাস্তবতা হলো, অনেক সময় সরলতাকে দুর্বলতা এবং আন্তরিকতাকে সহজলভ্যতা হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়।
একজন সরল মানুষ যখন তার হৃদয়ের দ্বার উন্মুক্ত করে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে, তখন তার আচরণে কোনো অভিনয় বা কপটতার স্থান থাকে না। তার কথায় থাকে স্বচ্ছতা, ব্যবহারে থাকে বিনয় এবং সম্পর্কের মধ্যে থাকে আত্মিক উষ্ণতা। কিন্তু সংকীর্ণ মানসিকতার কিছু মানুষ এই নির্মলতাকে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়। তারা মনে করে, যে ব্যক্তি সহজ-সরলভাবে কথা বলে, সে হয়তো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়; যে ক্ষমা করতে জানে, সে দুর্বল; আর যে ভালোবাসা দিতে জানে, সে সহজেই অবহেলার যোগ্য কিংবা সে খুব সস্তা।
বাস্তবতা হলো, সরলতা কোনো অক্ষমতা নয়; বরং এটি এক অসাধারণ মানসিক শক্তি। প্রতারণা ও স্বার্থপরতায় পরিপূর্ণ পৃথিবীতে নিজের নির্মলতা ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন। কৃত্রিমতার এই যুগে যে ব্যক্তি সত্য, বিশ্বাস ও মানবিকতার পথে অটল থাকতে পারে, তার অন্তরের ঐশ্বর্য বাহ্যিক সম্পদের চেয়েও অধিক মূল্যবান।
সমাজের একটি শ্রেণি মানুষের মূল্যায়ন করে কেবল বাহ্যিক প্রকাশ ও প্রদর্শনের মাধ্যমে। তারা গভীরতা অনুধাবনের পরিবর্তে চাকচিক্যকে প্রাধান্য দেয়। উচ্চকণ্ঠ কথাবার্তাকে তারা ব্যক্তিত্বের পরিচয় মনে করে, অথচ নীরব ভালোবাসা, বিনয় ও আন্তরিকতার প্রকৃত মূল্য বুঝতে পারে না। ফলে একজন শান্ত, ভদ্র ও সরল মানুষ অনেক সময় তাদের ভুল বিচার-বিবেচনার শিকার হয়।
অতিরিক্ত বাকচাতুর্য সব সময় জ্ঞানের পরিচায়ক নয়। অনেক সময় অধিক কথার আড়ালে মানুষের অন্তর্গত শূন্যতা লুকিয়ে থাকে। পক্ষান্তরে, একজন সংযত ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি তার কর্ম, নৈতিকতা ও আচরণের মাধ্যমে নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করে। কারণ, প্রকৃত মহত্ত্ব কখনো উচ্চ স্বরে ঘোষণা করতে হয় না; তা মানুষের ব্যবহার, সহমর্মিতা ও মূল্যবোধের মধ্য দিয়েই প্রকাশ পায়।
তবে সরল মানুষের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, সবাই তার সরলতার যথাযথ মর্যাদা দেয় না। কেউ তার আন্তরিকতাকে সম্মান করে, আবার কেউ সেই সুযোগ গ্রহণের চেষ্টা করে। তাই সরল হওয়া মানে নির্বোধ হওয়া নয়। প্রয়োজন হলো সরলতার সঙ্গে প্রজ্ঞার সমন্বয় করা। হৃদয়কে কোমল রাখতে হবে, কিন্তু বিবেককে সর্বদা জাগ্রত রাখতে হবে।
জীবনের কোনো এক পর্যায়ে মানুষ নিজের ভালো মন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। মনে হতে পারে, কেন এত বিশ্বাস করলাম, কেন এত সহজভাবে মানুষকে গ্রহণ করলাম, কিন্তু অন্যের অসততা কখনো নিজের মহৎ চরিত্রকে কলুষিত করার কারণ হতে পারে না। যারা প্রতিকূলতার মধ্যেও মানবিকতা ও সততা ধরে রাখে, তারাই প্রকৃত অর্থে শ্রেষ্ঠ মানুষ।
একজন সরল মানুষ যখন বলে, ‘আমি সরলমনে মিশে গিয়েছিলাম’, তখন এর মধ্যে প্রকাশ পায় তার আত্মার সৌন্দর্য। আর কেউ যখন সেই সরলতাকে দুর্বলতা বা সস্তাভাব হিসেবে বিবেচনা করে, তখন তা মূলত তার নিজের সীমাবদ্ধ চিন্তাধারার প্রতিফলন। একটি নির্মল হৃদয়ের মূল্য বুঝতে হলে প্রয়োজন উদার মন ও গভীর উপলব্ধি।
অতএব, সরলতাকে কখনো অবজ্ঞা করা উচিত নয়। কারণ, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পর্কগুলো গড়ে ওঠে বিশ্বাস, সম্মান ও আন্তরিকতার ভিত্তিতে। অসংখ্য কৃত্রিম মানুষের ভিড়ে একজন নির্ভেজাল সরল মানুষই হতে পারে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তার নীরব ভালোবাসা, নির্মল হাসি ও স্বচ্ছ হৃদয় সমাজকে মানবিকতার পথ দেখায়।
সরল থাকুন, তবে সচেতন থাকুন। ভালোবাসুন, তবে আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়ে নয়। কারণ, সরলতা মানুষের শ্রেষ্ঠ অলংকার, আর আত্মসম্মান তার সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।
প্রদীপ্ত মোবারক, জনসংযোগ প্রধান, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

সভ্যতার কোনো এক আদি পর্ব থেকে মানুষের আবাস ও ভূমির স্বপ্ন জাগরিত হয়েছিল, তা সঠিকভাবে বলা কঠিন। তবে বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ থেকে অনুমান করা যায়, আদিকাল থেকেই উন্নত আবাসভূমির চিন্তা মানুষকে ধাবিত করেছে। আমাদের এই উপমহাদেশেই মহেঞ্জদারো, হরপ্পা, নালন্দা, মহাস্থানগড়—এসব থেকেই বোঝা যায়, কত উন্নত পুরকৌশল
৪ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা এবং নীল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি বঙ্গোপসাগর। প্রায় ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রাঞ্চল এবং ২০০ নটিক্যাল মাইলের অর্থনৈতিক অঞ্চল শুধু মাছের আধার নয় বরং এটি জীববৈচিত্র্যের ভান্ডার, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার প্রধান অবলম্বন, কর্মসংস্থানের উৎস এবং বৈদেশিক মুদ্রা
৪ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের স্থানীয় আবহাওয়া ও মাটির উপযোগী উন্নতমানের বীজ এবং চারা উৎপাদনে সরকারি হর্টিকালচার সেন্টারগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পার্বত্য জেলাগুলোয় ভৌগোলিকভাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে সহনশীল চারা উৎপাদন ছিল এসব কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।
৪ ঘণ্টা আগে
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আজকাল রাতে খুব ভালো ঘুমাতে পারেন না। ঠিক কোথায়, কখন, কোন স্থানে তিনি রাতে ঘুমাবেন, তা তিনি তাঁর খুব ঘনিষ্ঠজনদেরও জানতে দেন না। সেই ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বিনা উসকানিতে বিশাল এক বাহিনী নিয়ে ইউক্রেন দখলে নিতে সর্বাত্মক আগ্রাসন চালান।
১ দিন আগে