Ajker Patrika

রাজধানীর সড়ক-ফুটপাত: অভিযান শেষে ফের দখলে

  • উচ্ছেদের দু-এক দিনের মধ্যে আবার বসে দোকানপাট।
  • সকালের দিকে কম থাকলেও বিকেলে বসে বেশি দোকান।
  • উচ্ছেদের আড়ালে নতুন করে চাঁদাবাজি হচ্ছে: হকার নেতা
জয়নাল আবেদীন, ঢাকা
রাজধানীর সড়ক-ফুটপাত: অভিযান শেষে ফের দখলে
আবার ফুটপাত দখল করে দোকান বসিয়েছেন হকাররা। গতকাল রাজধানীর পল্টন এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তানের ফুটপাত ফের হকারদের দখলে। সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানে কিছুটা স্বস্তি মিললেও ফের ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকান বসিয়েছেন হকারেরা।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, মো. আব্দুর রশিদ নামের এক হকার ফুটপাতে পোশাক বিক্রি করছেন। তবে তাঁর চোখেমুখে আতঙ্ক স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘২ এপ্রিল পুলিশের অভিযানে দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কিন্তু পেটের দায়ে আবারও বসেছি। এখন শুধু ভয় লাগে। ভয়ে ভালোভাবে বিক্রিও করতে পারছি না।’

রাজধানীর একাধিক এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উচ্ছেদ অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ফের ফুটপাত ও সড়ক দখলে নিয়ে ব্যবসা করছেন হকারেরা। অভিযানের ভয়ে অনেক দোকানি সকালে দোকান না খুললেও দুপুর থেকে বসা শুরু করেন। ফলে সকালে জনভোগান্তি ও যানজট তেমন না দেখা গেলেও বিকেলে ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা।

গুলিস্তান এলাকায় আবদুল্লাহ আল মামুন নামের এক পথচারী বলেন, প্রতিদিন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে সড়কে হাঁটতে হচ্ছে, এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং যানজটও তীব্র হচ্ছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান গতকাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে তাঁরা (হকার) বসতে না পারেন। তবে শুধু পুলিশের পক্ষে সবকিছু সম্ভব নয়। সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

এর আগে ১, ২ ও ৫ এপ্রিল গুলিস্তান, কাপ্তানবাজার, ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড, বকশীবাজার, চানখাঁরপুল এবং বংশাল এলাকায় পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।

গত ২৩ মার্চ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীতে অনেক রেস্তোরাঁ, ওয়ার্কশপ, দোকান ফুটপাত ও সড়ক দখল করে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এতে পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং সড়কে যানজট ও নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

গতকাল বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে এসব এলাকায় অবৈধ দোকান কম থাকলেও বেলা ২টার পর থেকে হকাররা আবার ফিরে আসতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে তাঁদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে গুলিস্তান এলাকায় কাপড়, জুতা, ফাস্ট ফুড এবং ইলেকট্রনিকস পণ্যের অস্থায়ী দোকান বসতে দেখা যায়। ফুটপাত ছাড়াও সড়কের ওপর ভ্যান ও অস্থায়ী দোকান বসিয়ে পণ্য বিক্রি করছেন অনেকে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকার সড়কও সকাল থেকে ফল, চা-বিস্কুট ও খাবারের দোকানে সড়ক দখল হয়ে থাকে, ফলে চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে উচ্ছেদ করা হলেও বিকেলের পর আবার পুরো এলাকা দখল হয়ে যায়।

ফল বিক্রেতা বাহাউদ্দীন বলেন, ‘এক দিন না বসলে সংসার চলে না। তাই আবার আসতেই হয়। মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে শুধু আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।’ আরেক দোকানি আলী হোসেন বলেন, ‘সংসার চালাতে ব্যবসা করতেই হবে। কিন্তু আতঙ্কের মধ্যে ব্যবসা করতে হচ্ছে। জরিমানা দিয়ে টিকে থাকা কঠিন।’

বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের তথ্যমতে, রাজধানীতে প্রায় ৫ লাখ হকার রয়েছেন। গুলিস্তান, কাপ্তানবাজার ও নিউমার্কেট এলাকায় তাঁদের সংখ্যা বেশি। তাঁদের অনেকে ১০ থেকে ৪০ বছর ধরে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত।

জানতে চাইলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী অভিযোগ করেন, বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ ও গ্রেপ্তার করা অন্যায়। হকারদের মালপত্র নষ্ট করা এবং তাঁদের সামনে ভাঙচুর চালানো মানবাধিকার লঙ্ঘন। উচ্ছেদ অভিযানের আড়ালে নতুন করে চাঁদাবাজির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

হযরত আলীর মতে, নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ করে হকারদের ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাবে, অন্যদিকে হকারদের জীবিকাও নিশ্চিত হবে। হঠাৎ উচ্ছেদে হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ইরানে পারমাণবিক হামলার গুঞ্জন, হোয়াইট হাউসের তীব্র প্রতিবাদ

এভারকেয়ার হাসপাতালে চাকরির সুযোগ, এসএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ

বোর্ড ভাঙার খবর শুনে বিসিবি ছাড়লেন বুলবুল

তামিমের কমিটির ১১ জনের পাঁচজন চট্টগ্রামের, তিন মন্ত্রীর সন্তান, আছেন প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রীও

অচেতন মোজতবার চিকিৎসা চলছে ইরানেই, জড়িত নেই সিদ্ধান্ত গ্রহণে—টাইমসের প্রতিবেদন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত