
সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার গণভবনে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুব মহিলা লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এই আন্দোলন নিয়ে কথা বলেন তিনি।
কোটাবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি জিনিস আমি না বলে পারছি না। আমি দেখেছি কোটা আন্দোলন! আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যে কোটা, সেটা বাতিল করতে হবে, নারীদের কোটা বাতিল করতে হবে, অমুক-সমুক। সেটা কিন্তু একবার বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু ফলাফলটা কী? পাবলিক সার্ভিস কমিশনের হিসাবে পরীক্ষায় আগে যেখানে কোটা থাকতে মেয়েরা যে পরিমাণ সুযোগ পেত, সেই পরিমাণ সুযোগ এ কয় বছরে পায়নি। এটা হলো বাস্তবতা। এমনকি অনেক অনেক জেলা, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষগুলো কিন্তু বঞ্চিত থেকে গেছে। তারাও চাকরি পাচ্ছে না।’
বঞ্চিত হওয়ার কারণে মামলার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট একটা রায় দেয়। হাইকোর্টের রায় আমরা সব সময় মেনে নিই। আমরা দেখলাম এখন আবার কোটাবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। এটা নিয়ে লেখাপড়া বাদ দিয়ে কোটাবিরোধী আন্দোলন, সেখানে মেয়েরাও করে। এখানে আমার প্রশ্ন, যারা এর আগে কোটাবিরোধী আন্দোলন করেছিল, তারা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের অধীনে কতজন পরীক্ষা দিয়েছিল, কতজন পাস করেছিল, সেই হিসাবটা বের করা দরকার। তারা দেখাক পরীক্ষা দিয়ে বেশি পাস করেছিল, মেয়েরা বেশি পাস করে বেশি চাকরি পেয়েছে কি না, সেটা আগে তারা প্রমাণ করুক।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে এইভাবে আন্দোলন করা, এটা তো বিচারধীন। আমরা সরকারে থেকে কথা বলতে পারি না। হাইকোর্ট রায় দিলে সেখান থেকেই আসতে হবে। কিন্তু আন্দোলনের নামে পড়াশোনা ও সময় নষ্ট করার যৌক্তিকতা আছে বলে আমি মনে করি না।’
সবার জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম দেওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল (২০০৮ সালের নির্বাচনে)। শুধু সরকারি চাকরিজীবীরা পেনশন পায়, বাকিরা বঞ্চিত থাকে। কেউ যাতে বঞ্চিত না থাকে, সে জন্য বিভিন্ন স্তরভেদে সার্বজনীন পেনশনের ব্যবস্থা করা আছে।’
যুব মহিলা লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘যুব মহিলা লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী সর্বজনীন পেনশন স্কিমে যুক্ত হতে পারে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য। যখন মানুষ বয়স্ক হয়ে যাবে, কর্মক্ষম থাকবে না, তখন একটা নিশ্চিত অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ আছে। জীবন-জীবিকা চালাবার সুযোগ আছে। সেটা একেবারে নিম্ন স্তরের তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছি। তারা যদি ৫০০ টাকা রাখে, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে আরও ৫০০ টাকা দিয়ে তারাও যেন ভালোভাবে পেনশন পায় এবং আজীবন পাবে।’
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের রাজনীতির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ঢোকা দরকার। তাহলে অন্তত জীবনের একটা নিশ্চিয়তা পাওয়া যাবে। বৃদ্ধ বয়সে কারও মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। ছেলের ঘাড়ে বোঝা হবে না, মেয়ের ঘাড়েও বোঝা হবে না, নিজেরটা নিজে করে খেতে পারবে, সেই ব্যবস্থাটা করা।’
মেয়েরা সমাজের অর্ধেক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা পেছনে পড়ে থাকলে সেই সমাজ কখনো উঠে দাঁড়াতে পারে না, সেই দেশের উন্নতি হতে পারে না। এই কথাটা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই বলতেন। মেয়েদের শিক্ষা তিনি অবৈতনিক করে দিয়েছিলেন, সংসদে মেয়েদের জন্য আলাদা সিটের কোটা করে দিয়েছেন। চাকরির ক্ষেত্রে নির্যাতিত (মুক্তিযুদ্ধে) মেয়েদের ও নারীদের জন্য আলাদা ১০ শতাংশ কোটার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। এ জন্য নারীরা যাতে যথাযথভাবে নিজেদের স্থানটা করে নিতে পারে। নারীরা যদি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে এবং চাকরির ক্ষেত্রে তাদের মেধা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পেলে দেশ গড়ে উঠবে।’
গত ৬ জুলাই যুব মহিলা লীগের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল—এ উপলক্ষে সংগঠনটির নেতারা আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুব মহিলা লীগের সভাপতি আলেয়া সরোয়ার ডেইজী, সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানা লিলিসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতা-কর্মীরা।

‘সব দল এমনকি স্বতন্ত্রদের নিয়ে আমরা কাজটা করব। সে জন্য আমরা বিশেষ কমিটির প্রস্তাব করেছি। কিছু নাম আমাদের আছে। তারা (বিরোধী দল) যখন নাম দেবে, তখন আমরা একত্র হয়ে সংবিধান সংশোধন করব। আমরা সকলকে নিয়ে চলতে চাই। আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ইচ্ছে করলেই করতে পারি, কিন্তু করব না...
৩ ঘণ্টা আগে
লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি কর্মীর মরদেহ আজ শনিবার দিবাগত রাতে দেশে পৌঁছাবে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহ গ্রহণ করবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
৩ ঘণ্টা আগে
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী...
৫ ঘণ্টা আগে
মাটির গুণগত মান বজায় এবং স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘দেশের সব অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য এক নয়। যে এলাকায় যে ধরনের মাটি ও পরিবেশ রয়েছে, সে অনুযায়ী গাছ নির্বাচন করে লাগাতে হবে...
৬ ঘণ্টা আগে