Ajker Patrika

পি কে হালদারের ভাই প্রিতিশের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ৩৩
পি কে হালদারের ভাই প্রিতিশের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট
ছবি: বাসস

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পি কে হালদারের ভাই প্রিতিশ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আজ রোববার দুদকের জনসংযোগ শাখার উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম চার্জশিট অনুমোদনের বিষয়টি জানান।

দুদক জানায়, আনান কেমিক্যাল লিমিটেডের পরিচালক প্রিতিশ কুমার হালদারের নামে ক্রয় ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ৪ কোটি ৮৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এসব সম্পদের বিপরীতে তিনি আগের ব্যবসার পুঁজি এবং ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিবিধ ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ঋণ খাতে মোট ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা আয় দেখিয়েছেন।

তবে দুদকের তদন্তে তাঁর ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ঋণ হিসেবে দেখানো ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার পক্ষে কোনো রেকর্ডপত্র বা গ্রহণযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ওই অর্থকে বৈধ আয় হিসেবে গ্রহণ করেনি দুদক। দুদক মনে করে, অবৈধ আয়কে বৈধ দেখানোর উদ্দেশ্যেই অর্থের উৎস হিসেবে ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ঋণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে প্রিতিশ কুমার হালদার ও তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে-বেনামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা এবং আয়ের উৎসের বিবরণী চেয়েছিল দুদক। ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হয়। নির্ধারিত ঠিকানায় তাঁকে পাওয়া না যাওয়ায় একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর সম্পদবিবরণীর মূল ফরমসহ নোটিশ তাঁর ঠিকানায় লটকে (বাড়ির দেয়াল বা ফটকে নোটিশ ঝোলানো) জারি করা হয়। এরপরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি সম্পদবিবরণী জমা দেননি। এতে দুদক আইনের ২৬(২) ধারায় অপরাধ হয়েছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।

দুদক আরও জানায়, প্রিতিশের নামে ব্যাংক এশিয়ার করপোরেট শাখায় থাকা একটি হিসাবেও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত ওই হিসাবে মুনাফাসহ ৪ কোটি ১৩ লাখ ১৯ হাজার ৬৩০ টাকা ৮৫ পয়সা জমা হয়। একই সময়ে বিভিন্ন কর্তনসহ উত্তোলন করা হয় ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৭৩ হাজার ৭৩৫ টাকা ৪৩ পয়সা। সব মিলিয়ে হিসাবে ৭ কোটি ৭১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬৬ টাকা ২৮ পয়সার লেনদেন হয়েছে।

এর মধ্যে ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে ওই হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে এসব লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে অবৈধ আয় বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলা করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান। মামলাটি তদন্ত করেন দুদকের উপপরিচালক মো. শহীদুল আলম সরকার। কমিশনের তদন্ত শেষে প্রিতিশ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় আদালতে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত