Ajker Patrika

জ্বালানি সংকট: ফুয়েল পাস অ্যাপে ত্রুটি, পাম্পে লাইন কমছে না

ফয়সাল আতিক, ঢাকা
জ্বালানি সংকট: ফুয়েল পাস অ্যাপে ত্রুটি, পাম্পে লাইন কমছে না
পাম্পের লাইনে ও জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা আনতে কিছু কিছু জায়গায় চালু করা হয়েছে ফুয়েল পাস অ্যাপ। তারপরও পাম্পের সামনে চালকদের দীর্ঘ লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা। গতকাল ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকা থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফিলিং স্টেশনে ভিড় কমাতে চলতি মাসের শুরু থেকে সরকার ফুয়েল পাস চালুর চেষ্টা করলেও কারিগরি প্রস্তুতির অভাবে তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ঢাকার সাতটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ফুয়েল পাসের মাধ্যমে তেল বিক্রি করতে গত শনিবার মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দিলেও পাম্পগুলোতে তার প্রয়োগ নেই। ক্রেতা ও পাম্প ব্যবস্থাপকেরা বলছেন, ফুয়েল পাসের সার্ভার ডাউন থাকছে, কিউআর কোডের মাধ্যমে তেল দিতে গিয়েও ভোগান্তিতে পড়ছেন তাঁরা।

বৈধ কাগজপত্রধারী মোটর সাইকেলচালকদের জন্য ফুয়েল অ্যাপে পাস ইস্যু করার মাধ্যমে যৌক্তিক পরিমাণ তেল সরবরাহের পরিকল্পনা করে সরকার। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একই ব্যক্তির বারবার তেল সংগ্রহ করে মজুতের পথ বন্ধ এবং পাম্পে অযাচিত ব্যক্তিদের ভিড় কমে যাবে বলে ধারণা করা হয়।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, গতকাল সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৭১ হাজার ৩৯৮ জন চালক ফুয়েল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করছেন। তবে গতকাল বিকেলের দিকে ওয়েবসাইট ও অ্যাপ থেকে বৈধ কাগজপত্রের তথ্য দিয়ে নিবন্ধনের চেষ্টা করেও অনেকেই সফল হননি। ওয়েবসাইটে লেখা রয়েছে, এই অ্যাপটি বর্তমানে পাইলট বা টেস্টিং পর্যায়ে রয়েছে এবং এখনো সব সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত নয়। অ্যাপটি সবার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলে এটি উন্মুক্ত করা হবে।

শনিবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) দেওয়া জ্বালানি বিভাগের চিঠিতে বলা হয়, বিপিসি কর্তৃক কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। পাইলটিং কার্যক্রম ঢাকার সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশন, ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, গুলশান সার্ভিস স্টেশন, মেঘনা মডেল পাম্প, নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার, খালেক সার্ভিস স্টেশন এবং তালুকদার ফিলিং স্টেশনে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১২ এপ্রিল থেকে আবশ্যিকভাবে এসব পেট্রলপাম্পকে সব মোটরসাইকেলচালককে জ্বালানি দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেবল আসাদ গেটে সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন ও বিজয় সরণি ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে আংশিকভাবে ফুয়েল পাস সচল রয়েছে। সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল পাসের মাধ্যমে আলাদা লাইনে অগ্রাধিকারভিত্তিতে তেল দেওয়া হলেও ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে পাসধারী ও সাধারণ চালকদের জন্য একই লাইনে আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতে তেল দেওয়া হচ্ছে।

মহাখালীর গুলশান সার্ভিস স্টেশনের ব্যবস্থাপক গত রোববার রাতে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিকেলে ফুয়েল অ্যাপ উদ্বোধনের জন্য সরকারি কর্মকর্তার আসার কথা ছিল। কিন্তু তাঁরা আসার আগেই তেল শেষ হয়ে যায়। মানুষ অপেক্ষা করতে করতে ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে অনেকটা অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে আমাদের উদ্ধার করেছে। শেষ পর্যন্ত আর অ্যাপ উদ্বোধন করা হয়নি।’

আসাদ গেটে সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক রুবাইয়েত হাসান বলেন, ‘ফুয়েল অ্যাপের সার্ভার ডাউন থাকে। ফলে পরীক্ষামূলক সময়েও ফুয়েল অ্যাপে তেল নিতে চালকদের অনেক ভোগান্তি হচ্ছে। তবে যাঁরা আসছেন আমরা পৃথক লাইনের মাধ্যমে তাঁদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে তেল দিচ্ছি। দৈনিক ১০০ থেকে ২০০ মানুষ অ্যাপের মাধ্যমে তেল নিচ্ছেন। অ্যাপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও স্পটে উপস্থিত থাকছেন।’

ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ফুয়েল অ্যাপের জন্য পৃথক কোনো লাইন নেই। নিয়মিত লাইনে এসে অনেকে ফুয়েল অ্যাপে তেল নিচ্ছেন, আমরাও দিচ্ছি। এটি এখনো বাধ্যতামূলক করা হয়নি।’

খালেক ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক তোফাজ্জাল হোসেন জানান, ফুয়েল অ্যাপের কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি, তবে তাঁরা যোগাযোগ করেছিলেন। কাল বুধবার থেকে ফুয়েল অ্যাপের কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা সাজ্জাদ বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার আমি ফুয়েল অ্যাপে নিবন্ধন করে কিউআর কোড নিয়ে ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি সেখানে শত শত মোটরসাইকেলের সারি। পাম্পের লোকজন সেই সারির পেছনের দিকে আমাকে দাঁড়াতে বলায় তেল না নিয়ে চলে আসি।’

পাম্পের লাইন কমছেই না

সরকার গত বছরের গড় বিক্রির সঙ্গে মিল রেখে চলতি সময়েও সমপরিমাণ তেল সরবরাহ করছে। কিছু কিছু পাম্পে গুরুত্ব বিবেচনায় আগের বরাদ্দ থেকে কিছুটা বাড়িয়েও তেল দেওয়া হচ্ছে। তবুও পাম্পগুলোতে ক্রেতার চাপের কারণে প্রায় প্রতিদিনই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই দুপুরে তেলের লরি আসার পর শুরু হচ্ছে দিনের বেচাবিক্রি। কিন্তু মোটরসাইকেলচালকেরা সকাল থেকেই পাম্পে অপেক্ষায় থাকেন। আগে এক থেকে দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পর তেল পেলেও বর্তমানে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লাগছে বলে জানান অনেক ক্রেতা।

রোববার রাত সাড়ে ১০টার রাজধানীর সাতরাস্তায় সিটি ফিলিং স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ওই সময়েও পাম্পটিতে কয়েক শ মোটরসাইকেল তেলের জন্য অপেক্ষা করছিল। মোটরসাইকেলের সারির শেষ মাথা চ্যানেল টুয়েন্টিফোর এর ভবনের সামনে হয়ে তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড দিয়ে রেলক্রসিংয়ে চলে গেছে। ট্রাকস্ট্যান্ডের কাছে থাকা এক মোটরসাইকেলচালক জানান, তিনি আধা ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে এই পর্যন্ত এসেছেন। সামনে কয়েক শ মোটরসাইকেল থাকায় আরও কয়েক ঘণ্টা লাগবে বলে ধারণা করছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত