Ajker Patrika

মৃত শিশুদের মায়েদের বক্তব্য ছাড়া আদ-দ্বীনের তদন্ত প্রতিবেদন নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
মৃত শিশুদের মায়েদের বক্তব্য ছাড়া আদ-দ্বীনের তদন্ত প্রতিবেদন নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। ফাইল ছবি

রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, মৃত শিশুদের মায়েদের বক্তব্য ছাড়া পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব নয়।

আজ শনিবার বিকেলে আদ-দ্বীন হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তদন্ত কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ দেখা হয়েছে। তবে যেসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে, মায়েদের সঙ্গে এখনো পুরোপুরি কথা বলতে পারেনি তদন্ত কমিটি। অনেকেই ঢাকার বাইরে থাকায় সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি তদন্ত প্রতিবেদন চাই, যেখানে কোনো ঘাটতি থাকবে না। মৃত শিশুদের মায়েদের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে তদন্ত কমিটি আরও সময় চেয়েছে। আগামী ৩ জুন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।’

মৃত শিশুদের ময়নাতদন্ত না হওয়ায় মৃত্যুর কারণ নির্ণয় কতটা সম্ভব হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এত ছোট শিশুদের ময়নাতদন্তে তাদের বাবা-মা কেউই রাজি হননি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে আমরা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

উল্লেখ্য, কোরবানির ঈদের আগের দিন বুধবার ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে থাকা ছয় শিশু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে একে একে তাদের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

ঘটনার পরদিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে শিশুদের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় ভবনের একটি ওপরের তলায় রুটি তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেখানে বৈদ্যুতিক ওভেনে রুটি তৈরি করা হতো। তবে সেখানে কোনো ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার পাওয়া যায়নি। ওই কারখানা থেকে এমন কোনো গ্যাস উৎপন্ন হয়েছিল কি না, যা শিশুদের সহ্যক্ষমতার বাইরে ছিল, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য আগামীকাল আবার বিশেষজ্ঞ দল হাসপাতালে যাবে।

রুটির কারখানা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাজারো শিক্ষার্থী, রোগী ও স্বজনের উপস্থিতি থাকে। এমন স্থাপনায় রুটির কারখানা থাকা সমীচীন নয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘এটি আমাদের পরিদর্শন ও নজরদারির ঘাটতির বিষয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের স্থাপনা যাতে হাসপাতালের ভেতরে পরিচালিত না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে।’ হাসপাতালে পানি জমে থাকা একটি স্থানও পরিদর্শন করা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রুটির কারখানা কিংবা জমে থাকা পানি থেকে কোনো ক্ষতিকর পদার্থ বা গ্যাস তৈরি হয়ে শিশুদের মৃত্যুর কারণ হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

তদন্ত কমিটির সদস্যসংখ্যা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে ছয় সদস্যের একটি দল তদন্তকাজ পরিচালনা করছে। কমিটি গঠনের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ সদস্য যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছিল। হাসপাতালের পরিবেশ, কারিগরি অবস্থা ও অন্যান্য বিষয় মূল্যায়নের জন্য বিভিন্ন বিশেষজ্ঞকে যুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আদ-দ্বীন হাসপাতাল অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন’-এর মালিকানাধীন। এই ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সেখ মহিউদ্দিন। তিনি আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম সেখ আকিজ উদ্দিনের বড় ছেলে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত