Ajker Patrika

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। ছবি: পিএমও

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কৃষি, বাণিজ্য, শ্রম অধিকার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে উভয় পক্ষ।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষির আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গ্রামীণ মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের ‘কৃষি কার্ড’কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি চরাঞ্চলসহ দুর্গম এলাকায় কৃষির উন্নয়নে সৌরবিদ্যুৎসহ পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে আমসহ বাংলাদেশের কৃষিপণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, কৃষিপণ্য রপ্তানির জন্য কার্যকর কোল্ড চেইন ও রেফ্রিজারেটেড পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি এবং এই অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা করতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। তবে বাংলাদেশে মার্কিন পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা দূর করার আহ্বান জানান তিনি। জবাবে উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকার বাণিজ্য সহজীকরণ ও বন্দরের কার্যক্রমে গতি আনতে কাজ করছে এবং দ্রুতই এসব সমস্যার সুরাহা হবে।

জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের প্রশংসা করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমমানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা জোরদার করার এই উদ্যোগ ইতিবাচক। জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। শিল্পের উৎপাদন ও বিনিয়োগের পরিবেশ বজায় রেখে মালিক-শ্রমিকের আস্থা বৃদ্ধি এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এই সংকটের একটি নিরাপদ ও টেকসই সমাধান জরুরি এবং এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা ও মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা দরকার। মার্কিন রাষ্ট্রদূতও এটিকে একটি জটিল সংকট আখ্যা দিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন।

এ ছাড়া শিক্ষা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি এবং স্বাস্থ্য খাতে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কার্যক্রম চালুর বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন ও সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন দূতাবাসের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট, পলিটিক্যাল অফিসার জেমস এ. স্টুয়ার্ট এবং লেবার অ্যাটাশে লিনা খান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত