Ajker Patrika

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সব এজেন্সির সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় সরকার

• ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন এমওইউ স্বাক্ষরের প্রত্যাশা

• বিজয়ের মাসে বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সব এজেন্সির সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় সরকার
রিক্রুটিং এজেন্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অতিথিরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির একচেটিয়া প্রভাব ভেঙে দেশের সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রত্যাশা করছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। নতুন সমঝোতার মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বেশি এজেন্সিকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের প্রবাসী মিলনায়তনে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণকারী এফডব্লিউসিএমএস-এ তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ব্যবসা যেন নির্দিষ্ট কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। দেশের সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি যাতে সমান সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতে চান তাঁরা। এ বিষয়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন এমওইউ স্বাক্ষরিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী আরও জানান, আগামী ডিসেম্বর বিজয়ের মাসেই সম্পূর্ণ বিনা খরচে বিদেশে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে দুই থেকে তিনটি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় বিদেশে কর্মী পাঠানোর সব ব্যয় বহন করবেন বিদেশি নিয়োগকর্তা বা তাঁদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। কর্মীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হবে না। কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কিছু সার্ভিস চার্জও বাদ দেওয়া হয়েছে।

বিদেশে কর্মী পাঠানোর পর তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে পৃথক সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। এসব সেলের মাধ্যমে বিদেশে কর্মরত কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার ফি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ পরীক্ষার জন্য আট হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বেশি অর্থ আদায় করা যাবে না। নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসাকে মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানজনক অবস্থানে নিতে হবে। কয়েকজনের অনিয়মের কারণে যেন পুরো খাত বিতর্কিত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ব্যবসায়িক স্বার্থের পাশাপাশি দেশের মানুষের কর্মসংস্থান, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং বিদেশে কর্মীদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন সম্পর্কে সচেতন করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এজেন্সির অবহেলা বা অনিয়মের কারণে যেন দরিদ্র মানুষ সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক, রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত