Ajker Patrika

জলবায়ু সম্মেলনে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন চাইবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১: ২৪
জলবায়ু সম্মেলনে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন চাইবে বাংলাদেশ
সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ, প্রস্তুতি ও অগ্রাধিকার তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন বাড়ানোর দাবি জানাবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় দ্রুত ও সহজে তহবিল পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-এ এসব দাবি তুলে ধরবে বাংলাদেশ।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ, প্রস্তুতি ও অগ্রাধিকার তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, অভিযোজন ও জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে অনুদান বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু তহবিলের আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানাবে বাংলাদেশ।

মন্ত্রী জানান, তুরস্ক সরকারের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নেবেন। এর মাধ্যমে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা মানুষের স্বার্থ, বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, লবণাক্ততা, খরা ও তাপপ্রবাহ মানুষের জীবন-জীবিকা এবং উন্নয়নকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সুরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাংলাদেশ।

মিন্টু বলেন, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বৈশ্বিক অভিযোজন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ। বিশেষ করে উপকূল, হাওর, চর ও খরাপ্রবণ এলাকার মানুষের পানি, খাদ্য, স্বাস্থ্য ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার এবং স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোজন কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ক্ষয়ক্ষতি তহবিল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত এবং সহজে অনুদান পাওয়ার ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানানো হবে। মন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি বাস্তুচ্যুতি, জীবিকা হারানোসহ অন্যান্য অ-অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় নতুন ও অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন।

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার লক্ষ্য অর্জনে বিজ্ঞানভিত্তিক ও দ্রুত নির্গমন কমানোর ওপরও জোর দেবে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি প্রধান নির্গমনকারী দেশগুলোকে নিজেদের দায়িত্ব ও সক্ষমতা অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মন্ত্রী জানান, কৃষি, শিল্প, পরিবহন ও জ্বালানি খাতে পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের জন্যও সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে রূপান্তরের ব্যয় ও সুফলের ন্যায্য বণ্টন, শ্রমিকের অধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং নারী ও তরুণদের শোভন কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা, পরিচ্ছন্ন শিল্প ও পরিবহন এবং জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাও বাংলাদেশের অগ্রাধিকারে থাকবে। পাশাপাশি বন, ম্যানগ্রোভ, জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রকৃতিনির্ভর সমাধানে অর্থায়ন বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নেবে বাংলাদেশ। নারী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে পরিচালিত জলবায়ু উদ্যোগেও সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানানো হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মতামত এবং জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশের অবস্থানপত্র তৈরি করা হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোট, জি-৭৭ এবং সমমনা জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে জাতীয় স্বার্থে কাজ করবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। কপ-৩১ থেকে বাংলাদেশের প্রত্যাশা হলো জলবায়ু অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন সহায়তার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত