Ajker Patrika

‘হত্যাচেষ্টার’ শিকারদের খোঁজ মেলেনি, শেখ হাসিনা ও জয়সহ ১১৩ আসামির অব্যাহতি চায় পিবিআই

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭: ৫৫
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়। ফাইল ছবি
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়। ফাইল ছবি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১১৩ জনের অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ বিষয়ে সম্প্রতি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ধানমন্ডি থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই আবুল বাশার বিষয়টি জানান। তিনি জানান, সম্প্রতি আদালতে ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে পিবিআই। এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ৪ অগাস্ট ধানমন্ডির সীমান্ত স্কয়ার থেকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ধানমন্ডি-২৭ নম্বরে আহত হন সাহেদ আলী। সে সময় ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ ৯ জন আহত হন। এ ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে আসামি করে সাহেদের ভাই দাবি করে শরীফ নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। থানা-পুলিশ মামলার তদন্তকালে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

আহতদের খুঁজে পাওয়া যায়নি

মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআইর পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞাঁ। তথ্যগত ভুল উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তিনি।

তদন্ত প্রতিবেদনে যা আছে

জুলাই আন্দোলনে আহতদের নিয়ে গেজেট হয়েছে। এ মামলায় যেসব আহতের কথা বলা হয়েছে, গেজেটে তাদের নাম পাওয়া যায়নি। অবশ্য তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি পরবর্তী সময়ে আহতদের তথ্য পাওয়া যায়, পরে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।

এজাহারে সাহেদ আলী, রাশেদ, জুয়েল, মাহমুদ, নাহিদ, রাসেল, মিরাজ, জান্নাতুল ফেরদৌস নাঈমা, আইশ আক্তার, সাম্মি আক্তার আহত হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে এ ধরনের কোনো আহত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তদন্তে বাদীর সহযোগিতা নেই

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলা সংক্রান্তে তথ্য দেওয়ার জন্য হাজারীবাগ বাদী শরীফের ভাড়া বাসায় নোটিশ পাঠানো হয়। তবে বাড়িওয়ালা জানান, শরীফ নামে কাউকে চেনেন না এবং সেখানে থাকেন না। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে বের করেন, বাদীর নাম শরিফুল ইসলাম। লক্ষ্মীপুর সদরের ১৪ নম্বর মান্দারী এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে তিনি।

সেখানে খবর নিলে কেউ তাঁকে চিনতে পারেননি। তাঁর মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। তবে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর কখনও খোলা, কখনও বন্ধ থাকে। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

বেশ কয়েকদিন অপেক্ষার পর শরীফ ধানমন্ডি লেকের পাশে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা ভুক্তভোগীকে হাজির করতে এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র সরবরাহের অনুরোধ জানান। তবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও ভুক্তভোগীকে হাজির বা চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র সরবরাহ করেননি তিনি। চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও তথ্য এজাহারেও উল্লেখ করা হয়নি। মামলার সাক্ষীদেরও পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

প্রযুক্তি ও অর্থনীতিতে দুর্বল পাকিস্তান কীভাবে আধুনিক যুদ্ধবিমান বানাল

ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় ৩৪ বছরের নারীকে খুন ১৮ বছরের তরুণের

আজকের রাশিফল: চোখের পানি মুছতে সঙ্গে রুমাল রাখুন, পেটের চর্বিটা আজ খুব ভাবাবে

বিদেশ থেকে মেশিন এনে টঙ্গিবাড়ীতে ইয়াবা তৈরি, বিপুল সরঞ্জামসহ যুবক আটক

বনশ্রীতে স্কুলছাত্রীকে হত্যা: নিজেদের হোটেলের কর্মচারী আটক

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত