পায়রায় কমছে বিদেশি জাহাজের আনাগোনা—দুই বছর আগে ভিড়েছিল ১২৩টি, গত বছর ২৯

দেশের অন্যতম বন্দর পায়রায় বিদেশি জাহাজ আসা উল্লেখজনক পরিমাণে কমছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বন্দরটিতে বিদেশি জাহাজ আসে ১২৩টি। পরের অর্থবছরে যা কমে দাঁড়ায় ৮৫টিতে এবং সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই বন্দরে এসেছে মাত্র ২৯টি বিদেশি জাহাজ।
আজ রোববার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে কিছু সীমাবদ্ধতা ও সংকট উত্তরণের পরামর্শসহ প্রতিবেদন কমিটির কাছে তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন।
স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে বর্তমানে ২১টি স্থলবন্দর রয়েছে। যার মধ্যে কার্যক্রম চালু আছে ১৭টির। সেই সঙ্গে এসব স্থলবন্দর দিয়ে চলমান অর্থবছরসহ বিগত কয়েকটি অর্থবছরের আমদানি-রপ্তানি ও যাত্রী আসা-যাওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে পায়রা বন্দরের তথ্যে জানানো হয়, পায়রা বন্দরে বিদেশি জাহাজ আসার সংখ্যা কমছে। ২০২২–২৩ অর্থবছরে এই বন্দরে বিদেশি জাহাজ এসেছিল ১১১ টি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদেশি জাহাজ আসে ১২৩ টি। এর পরের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশি জাহাজ আসে ৮৫টি এবং সর্বশেষ গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এসেছে মাত্র ২৯টি বিদেশি জাহাজ।
প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩–২৪ অর্থবছর থেকে পরের অর্থবছরে বিদেশি জাহাজ কমে আসার পেছনে কিছু সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো—রাবনাবাদ চ্যানেলের পলি প্রবণতা। রাবনাবাদ চ্যানেলটি অত্যন্ত পলিপ্রবণ হওয়ায় চ্যানেলের নাব্যতা বজায় রাখা এবং নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।
সংকট উত্তরণের বিষয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়—পণ্য ছাড়করণের প্রক্রিয়াটি শুধু বন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর নয়, এটি কাস্টমস হাউস, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং বিভিন্ন শিপিং লাইনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমানে পায়রা বন্দর ব্যবহারকারীদের এই কার্যক্রমগুলো সম্পাদনে বরিশাল ও খুলনা কাস্টম হাউসের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়। বন্দর ব্যবহারকারীদের আকৃষ্টকরণে পায়রা বন্দর সংলগ্ন এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ কাস্টম হাউস স্থাপন করা প্রয়োজন।
সড়ক যোগাযোগ প্রতিবন্ধকতার কথাও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো দুই লেনবিশিষ্ট হওয়ায় পায়রা বন্দরের সঙ্গে নির্বিঘ্ন সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণের বিষয়টি ইতিমধ্যে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
এ ছাড়া ঢাকা-পায়রা রুটে মোট ৬টি স্থানে টোল আদায় করা হয়। এতে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পায়রা বন্দরের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
বৈঠকে কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়নকাজ শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ ছাড়া সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও রপ্তানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ সময় দুই দেশের মধ্যে রপ্তানি বাণিজ্যের বিদ্যমান ব্যবধান, বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা এবং এ ক্ষেত্রে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলবন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যচুক্তিগুলোর বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সভাপতি জয়নুল আবদিন ফারুকের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, হাফিজ ইব্রাহিম, আনিছুর রহমান, সাঈদ আহমেদ, সানজিদা ইয়াসমিন, নাজমুল হুদা এবং আবদুল হান্নান মাসউদ।










