Ajker Patrika

ঢাকায় হবে ১১০ মেগাওয়াটের লোডশেডিং: সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ১৪
ঢাকায় হবে ১১০ মেগাওয়াটের লোডশেডিং: সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

কৃষকেরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটা নিশ্চিত করা এবং গ্রাম ও শহরে বৈষম্য কমাতে সরকার ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান।

লোডশেডিংয়ে মানুষের কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। সে সঙ্গে তিনি বলেন, আজ যে রকম প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে, যে কষ্ট স্বীকার করতে হচ্ছে, এটি আগামী সাত দিনের মধ্যে কমে যাবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্বীকার করতে কোনো দ্বিধা নেই, এই উত্তপ্ত গরমে, গ্রীষ্মে আমাদের অনেককেই বিদ্যুৎ সমস্যায় নাজেহাল হতে হয়েছে। যে কথাটি স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হচ্ছে—এই সমস্যা এক দিনের নয়। এই পুঞ্জিভূত সমস্যার দায় কোনোভাবেই বর্তমান নির্বাচিত সরকার কিংবা কারও নয়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অব্যবস্থাপনার দায় আমাদের সকলকে নিতে হচ্ছে।’

বর্তমানে উৎপাদনক্ষমতা কাগজে-কলম অনেক বেশি থাকলেও বাস্তবতার সঙ্গে সেটির গরমিল রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গতকাল বুধবার বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট, তার বিপরীতে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি ১৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ আমাদের ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে বাধ্য হতে হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে একটি নীতি এই সরকার প্রথম থেকে গ্রহণ করেছিল। যেহেতু ফসল ওঠার মৌসুম, অর্থাৎ, কোনোভাবেই আমাদের কৃষকেরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, ফসলের ক্ষেত্রে সেচের জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল ও বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিয়েছিলেন; আমরা সেটি নিশ্চিত করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাবে হয়তোবা কিছু কিছু জায়গায় লোডশেডিং হচ্ছে। বিষয়টি সহনীয় মাত্রায় আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে এবং বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনাক্রমে আমরা রাজধানী ঢাকায় ১১০ মেগাওয়াট প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।’

অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি, শহরের মানুষ আরামে থাকবে এবং গ্রামের মানুষ অর্থাৎ, খেটে খাওয়া কৃষক কষ্টে থাকবে, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, সমাজ অর্থাৎ, শহর এবং গ্রামের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকতে পারে না, সেই বৈষম্যমুক্ত করার জন্য আমরা শহরেও প্রয়োজনে লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাতে কৃষকেরা তাদের সেচের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পেতে পারে।’

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্ন উঠবে যে, যদি আমরা বলেই থাকি যে, জ্বালানি সক্ষমতা থাকলে তাহলে কেন এই সমস্ত পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো পরিমিত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। একটি বার্তা স্পষ্ট করতে চাই, প্রতিদিন বাংলাদেশে ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সকল গ্যাসকূপ মিলে প্রতিদিন আমরা ১ হাজার ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করতে পারি। আর আমরা প্রতিদিন গড়ে আমদানি করি ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, অর্থাৎ, প্রতিদিন ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থাকে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থ থাকলেও, সামর্থ্য থাকলেও গ্যাসের আমদানি বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। কারণ, এর জন্য যে অবকাঠামো রয়েছে, সেই অবকাঠামোতে দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। তারপরেও অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে, অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে আমরা জানাতে চাই, এই অবকাঠামো বাড়ানোর জন্য বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের যে অগ্রাধিকার তালিকা রয়েছে, তার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেশবাসী দেখতে সক্ষম হবে।’

অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘দুটি আমদানিকৃত বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি এবং আরেকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিজেদের মেইনটেনেন্সের কারণে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। আশা করছি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তারা পূর্ণ উৎপাদনে যাবে। সে ক্ষেত্রে আজ যে রকম প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং আমরা দেখতে পাচ্ছি কিংবা কষ্টের শিকার হচ্ছি, এটি আগামী সাত দিনের মধ্যেই কমে যাবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশবাসীর কাছে আজকে এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে তাদের এই কষ্টের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে বিনয়ের সঙ্গে, আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি শুধু আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা রয়েছে জনগণের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে।’

জ্বালানি সংকট সমাধানে আন্তরিক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারি ও বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। গতকাল বুধবার সংসদে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিটি তথ্য ও অঙ্কের পেছনে যুক্তি, তথ্য, উপাত্ত ও দায়িত্বশীলতা ছিল বলেও জানান অমিত।

বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাওয়ার কারণে এখন সরকারের তরফ থেকে কোনো বক্তব্য এলে স্বাভাবিকভাবে সেখানে আস্থা অর্জন করতে দেশবাসীর কিছুটা হলে সময় লাগবে। সরকারের প্রতিটি বক্তব্যের মধ্যে স্বচ্ছতা রয়েছে বলেও দাবি করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে যে ঘটনাটি কখনো ঘটেনি, তেমন একটি নজির আজকের সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী রাখতে চলেছেন। অর্থাৎ, বর্তমানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, এ ব্যাপারে আমরা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গেও আলোচনা করেছি, তাঁর পরামর্শও গ্রহণ করেছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত