
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি বলেন, ‘যে প্রধানমন্ত্রী নিজে নির্যাতনের শিকার, তারা কেমন করে এ আইন বাতিলের পরামর্শ দেয়? আমাদের আবেদন, আইনটি যদি পরিশোধিত করতে চায়, তার আগে অনুমোদন দিয়ে আইনে পরিণত করুক। পরে সংশোধিত করা হোক। যদি সেটা না করা হয়, ১২ তারিখ অধ্যাদেশটি বাতিল হয়ে গেলে, ১৩ তারিখ থেকে গুমের সংজ্ঞা থাকবে না।’
আজ রোববার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে এ কথা বলেন ব্যারিস্টার আরমান। পরে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, বিলটি আরও যুগোপযোগী করে চলতি অধিবেশন বা পরে সংসদে উত্থাপন করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং জাতীয় মানবাধিকার অধ্যাদেশসহ আরও ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাই সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি। তবে ১১ এপ্রিলের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাশ না হলে বাতিল হয়ে যাবে। পরে সংসদে নতুন করে উত্থাপন করতে হবে।
এর আগে মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেন, ‘আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি একটি অন্ধকার ঘর থেকে ফিরে এসে। যেখানে আমার মতো আরও শত শত লোককে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের ফিরে আসার সৌভাগ্য হয়নি। আমি তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা সেই অন্ধকার ঘরে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলাম। ধরে নিয়েছিলাম, এ অন্ধকার ঘরে আমাদের মৃত্যু হচ্ছে। হয়তো আমাদের হত্যা করবে, এখানেই আমাদের মৃত্যু হবে। কথা বলার কেউ ছিল না। কীটপতঙ্গ-পিঁপড়া-টিকটিকির সঙ্গে কথা বলতাম। বুঝতে পারতাম না, বাইরে দিন নাকি রাত। ভাবতাম, আজকে রাতে হত্যা করা হবে।’
মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেন, ‘এ সংসদকে বলতে হয় মজলুমদের মিলন মেলা। এমন একজনকেও পাবেন না যারা গত ফ্যাসিস্ট আমলে জুলুমের শিকার হয়নি। গুমের ভুক্তভোগী পরিবারদের পক্ষ থেকে আমরা বলছি, আমি স্তম্ভিত হয়েছি। আমাদের সঙ্গে যে জুলুম করা হয়েছিল তা যেন বাংলাদেশের মাটিতে না হয়, সে জন্য গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ করা হয়েছিল। বিশেষ কমিটি আইনগুলো বাতিলের সুপারিশ করেছে।’
পরে পয়েন্ট অর্ডারে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যারা গুম হয়েছেন, তাদের কেউ আমার স্বজন-ভাই-বোন-আত্মীয়-প্রতিবেশী-বাংলাদেশের মানুষ। তাদের কেউ আমার জিয়া পরিবারের সদস্য। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের প্রতিবেশী।’ তিনি বলেন, ‘ওনারা (বিরোধী দল) যেটা নিয়ে হৈ-চৈ করছেন, ওনারা সেটা (আইন) বোধ হয়, ভালো করে দেখেননি। মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ যেভাবে করা হয়েছে, সেটা (আইনে) করা হলে গুমের শিকার সদস্যদের প্রতি অবিচার করা হবে। কারণ, আমরা একই সঙ্গে আইসিটি অ্যাক্টে গুমের সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করেছি। সেখানে বিচার ও তদন্ত হবে। আবার গুম আইনে ভিন্ন একটি তদন্তের কথা বলেছি। সেখানে (আইসিটি অ্যাক্টে) গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। কিন্তু গুমের আইনে ১০ বছর পর্যন্ত সাজা রাখা হয়েছে।
মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, অধ্যাদেশে তদন্তের নামে যে সময়সীমা রাখা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার মানুষজন অতিরিক্ত হয়রানির শিকার হবেন। যে কারণে এ দুটো আইন আরও বেশি যুগোপযোগী, জনকল্যাণমুখী, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য এ অধিবেশনের মাঝামাঝি বা পরবর্তীতে অংশীজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সুনির্দিষ্টভাবে বিল আনা হবে। যাতে অপরাধীরা কোনোভাবে ছাড়া না পায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের গুমের কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি গুমের শিকার হয়েছিলেন, মৃত্যুর প্রহর গুনেছিলেন প্রতিদিন। তাকে পার্শ্ববর্তী দেশে ডাম্পিং করা হয়েছিল, বিচারের মুখোমুখি হয়েছিলেন।’ তিনি বলেন, এটা মনে করার কারণ নেই, গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবেন। সে কারণে গুমের আইনে যে সাজা ও তদন্তের প্রস্তাব করা হয়েছিল, আইসিটি আইনের গুমের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, দুটোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থা বিরাজ না করে, সে জন্য আইনগুলো যাচাই-বাছাই করা দরকার।

বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, তৃতীয় পক্ষ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করার চেষ্টা করছে। সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আজ সোমবার দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে...
২ মিনিট আগে
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গাজীপুর, আবদুল্লাহপুর, বাইপাইল ও চন্দ্রা এলাকাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার। এসব এলাকায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, অস্থায়ী কাউন্টার ও অনিয়মিত পরিবহন নিয়ন্ত্রণে এবার ৬৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার...
১১ মিনিট আগে
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনীতির পটপরিবর্তনের পর এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ ও খুনোখুনির একাধিক ঘটনা ঘটেছে। কয়েক দশক ধরে এটি পাহাড়খেকো, ভূমিদস্যু ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাইবার ক্রাইম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে বিশেষায়িত ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠন করা হবে। আজ সোমবার সকালে রাজধানীর শাপলা হলে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক...
১ ঘণ্টা আগে