Ajker Patrika

শিশু একাডেমির জমি স্থায়ী বরাদ্দের আশা প্রধান তথ্য কর্মকর্তার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
শিশু একাডেমির জমি স্থায়ী বরাদ্দের আশা প্রধান তথ্য কর্মকর্তার
বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন উপলক্ষে এই সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাংলাদেশে শিশুদের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল বিকাশের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান শিশু একাডেমি। রাজধানীর শাহবাগে প্রতিষ্ঠানটির জমি নিয়ে বহু বছর ধরে চলছে আইনি জটিলতা। জমিটির ইজারার মেয়াদও শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় আইনি জটিলতা নিষ্পত্তির মাধ্যমে অনতিবিলম্বে জমিটি শিশুদের জন্য স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন।

আজ বুধবার রাজধানীর শাহবাগে শিশু একাডেমিতে’ শিশুর স্বপ্নে ৫০ বছর: অর্জন, অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন উপলক্ষে এই সেমিনার আয়োজন করা হয়।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। শিশু একাডেমির জমি নিয়ে জটিলতার বিষয়ে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেওয়া এই জায়গাটি নিয়ে আদালতের একটি রায়ের কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। জায়গাটির ইজারার মেয়াদও শেষ হয়েছে। সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে শিশু একাডেমির জন্য জায়গাটি স্থায়ীভাবে ইজারা দেওয়ার ব্যবস্থা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, এই দেশের ভবিষ্যৎ শিশুদের হাতে। আমরা তাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, দেশের সব জেলায় শিশু একাডেমির কার্যক্রম সমানভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়নি। ৬৪ জেলার পর দেশের সব উপজেলায় শিশু একাডেমির কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এ জন্য আলাদা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শিশুদের মানসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের পাশাপাশি খেলাধুলা ও পড়াশোনায় শিশু একাডেমি দায়িত্ব পালন করবে। শিশুদের বিকাশে শিশু একাডেমি ও মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীও নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যেই কাজ করা হচ্ছে।

শিশু একাডেমির বর্তমান পরিবেশের উন্নতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত সাড়ে সাত মাসে প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে। কয়েক দিন আগেও শিশু একাডেমির পরিবেশ যে অবস্থায় ছিল, সেখান থেকে সেটিকে বর্তমান অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সময় লেগেছে। এখন শিশুরা ও অভিভাবকেরা স্বাচ্ছন্দ্যে শিশু একাডেমির বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে পারছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান। তিনি শিশু একাডেমির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

সেলিমা রহমান বলেন, এত কিছু ধ্বংসের পরও শিশুদের মধ্যে যে প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটেছে, তা একটি অর্জন। গ্রামাঞ্চলের শিশুদের বিনোদনের সুযোগ খুবই সীমিত। জারি-সারি গান, লাঠিখেলা, নৌকাবাইচসহ দেশীয় ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির সঙ্গে শিশুদের পরিচিত করতে হবে। ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলার সুযোগও বাড়াতে হবে। এসবের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে দেশপ্রেম, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রধান আলোচক জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ শিশু একাডেমির কার্যক্রম দেশের সব উপজেলায় সম্প্রসারণের দাবি জানিয়ে বলেন, এখনো দেশের সব উপজেলায় শিশু একাডেমির শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ৬৪টি জেলায় কার্যক্রম থাকলেও অনেক উপজেলা এখনো এর বাইরে রয়েছে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় শিশু একাডেমির শাখা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া দরকার, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরাও সমান সুযোগ পায়।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এসএম আমানুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক সালমা আক্তার, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট অধ্যাপক ড. কামাল আহমেদ চৌধুরী।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত