Ajker Patrika

তাদের ছেড়ে দেব না, বাঁধনের ওপর হামলা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ৩৭
তাদের ছেড়ে দেব না, বাঁধনের ওপর হামলা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা
তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ফাইল ছবি

ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এই হামলার মাধ্যমে নিজেদের চরিত্র উন্মোচনের জন্য আওয়ামী লীগকে ধন্যবাদও জানান তিনি।

একটি চলচ্চিত্র উৎসব যোগ দিতে সপরিবারে ইতালিতে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ইতালির একটি পার্কে ঘোরাফেরার সময় তাঁর ওপর ‘আওয়ামী লীগ সমর্থক’ একজন প্রবাসী হামলা চালায়। তাঁরা বাঁধনকে শারীরিকভাবে আঘাত করে, তাঁর গায়ে ডিম, পানি ও কোমল পানীয় নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে বাঁধনকে জয় বাংলা স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয় বলে লাইভে জানান তিনি।

আজ মঙ্গলবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে ওই দেশে যা যা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তার প্রসেস শুরু হয়েছে। আমরা অবশ্যই এটা ছেড়ে দেব না, কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আমি বাঁধনের উদ্দেশ্যে বলব, আওয়ামী মাফিয়া গ্যাংয়ের হেনস্তা হওয়ার শিকার হওয়া এক ধরনের অর্জন। আপনি আসলে সঠিক পথে ছিলেন, এটা তার প্রমাণ।’

এই হামলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের আসল চরিত্র উন্মোচিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজমেরী হক বাঁধনের ওপরে হামলা হয়েছে। যাঁরা এটা করেছেন তাঁদের একটু ধন্যবাদও দেওয়ার আছে। আওয়ামী লীগ কী বস্তু? আওয়ামী লীগ কারা করেন? তাঁরা আমাদের সামনে আবার হাজির করছেন।’

জাহেদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল মনে করি না, ইটস এ মাফিয়া গ্যাং। আজমেরী হক বাঁধনের ওপরে যা হলো, এটা আবার বোঝাল। তাঁদের কোনোভাবে আমাদের মাটিতে রাজনীতি করতে দেওয়া উচিত হবে না। যদি রাজনীতিতে ফিরে আসার উদ্দেশ্য থাকত এই সহিংসতাগুলো হতো না।’

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হামলা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন। তিনি জানান, একদল বাংলাদেশি তাঁর দিকে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়ে মেরেছেন। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তাঁর মুঠোফোন ফেলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় সঙ্গে থাকা তাঁর ভাইয়ের শিশুসন্তানকেও ছাড় দেওয়া হয়নি। পরে স্থানীয় থানায় অভিযোগ করেন বাঁধন।

প্রকাশিত ভিডিওতে কয়েকজনকে বাঁধনের দিকে তেড়ে যেতে, তাঁর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করতে এবং উত্তেজিতভাবে কথা বলতে দেখা যায়। তাঁদের কয়েকজন বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে আখ্যা দেন। ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে একজনকে বাঁধনকে দেখিয়ে বলতে শোনা যায়, “সে একজন ‘জুলাই জঙ্গী’। সে এখন ভেনিসে, আমরা ভেনিস ছাত্রলীগ এই দেশদ্রোহী ‘জঙ্গি’কে ধরেছি।” তাঁকে ‘দেশকে ধ্বংস করেছে’ এমন অপবাদ-আখ্যা দিয়েও হেনস্তা করা হয়। পরে সঙ্গে থাকা তাঁর ভাই তাঁকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

ফেসবুক লাইভে বাঁধন বলেন, ‘এখানে আমি আমার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের অনেক বাঙালি ভাই এসে আমাকে ফিজিক্যালি হ্যারাস করেছে। আমার শরীরে পানি, কোক ছুড়ে মেরেছে। এতে আমি একদম ভিজে যাই।’ বাঁধন জানান, তাঁর ওপর হাত তোলা হয়েছে এবং কানের পাশেও আঘাত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তারা আমার শরীরে হাত তুলেছে, আমার ফোন ফেলে দিয়েছে। আমার কানের পাশে আঘাত করেছে।’

ঘটনার সময় বাঁধনের ভাইয়ের শিশুসন্তানও তাঁদের সঙ্গে ছিল। প্রকাশিত একটি ভিডিওতে শিশুটির কথা উল্লেখ করে হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করতে শোনা যায়। জবাবে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘কিসের আবার বাচ্চা, ওকে জয় বাংলা বলতে হবে।’ বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলার পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও হামলাকারীদের আক্রমণাত্মক মন্তব্য করতে শোনা যায় ভিডিওতে।

বাঁধন বলেন, ‘তারা বলেছে, আমি জুলাই যোদ্ধা। ইয়েস, আই অ্যাম। আমি অবশ্যই জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা বলেছে যে তারা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। তারা আমাকে বলেছে যে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে জোর করে। তো এবং তারা সেগুলো ভিডিও করেছে এবং সেগুলো তারা লাইভ করছিল, আপলোড করছিল।’

হামলার সময় বাঁধনের ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বাঁধন বলেন, ‘আমার গায়ে হাত তোলা হয়েছে। আমার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে।’ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বাঁধন বলেন, ‘একজন আজমেরী হক বাঁধনকে দমানো এত সহজ হবে না। আপনারা আজ সারা বিশ্বের মানুষকে দেখালেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী একজন অভিনেত্রীকে হেনস্তা করা হলো।’

হামলাকারীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের এই অসংলগ্ন আচরণ থেকে বেরিয়ে আসা উচিত ছিল, আপনারা তা করতে পারেননি। আপনারা ভেবেছেন, এভাবে করেই হয়তো পরবর্তীকালে নিজেদের জায়গাটা ফের সুগঠিত করতে পারবেন। সেটা আমার মনে হচ্ছে না।’

বাঁধন আরও বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মীরা হয়তো জানেন না, তিনি যে সিনেমাটি নিয়ে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে এসেছেন, সেটির পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন। রুবাইয়াত হোসেনের বাবা আওয়ামী লীগের একজন মন্ত্রী ছিলেন উল্লেখ করে বাঁধন বলেন, ‘আপনারা একটু খবর নিয়ে দেখবেন। সো আমি তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি এবং জুলাইয়ের পরেই কাজ করেছি।’

ভিডিও বার্তায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথাও উল্লেখ করেন বাঁধন। তিনি জানতে পেরেছেন, সজীব ওয়াজেদ জয়ও ভেনিসে আছেন। তাঁর কাছে এই ঘটনা পৌঁছে দেওয়ার কথাও বলেন অভিনেত্রী।

ঘটনার পর বাঁধনকে স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা যায়নি। তাঁর চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ দেখা যায়। আঘাতে তাঁর মুখ ফুলে ও লাল হয়ে যায়। সোমবার মধ্যরাতে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানান। ঘটনার পর ভেনিসের একটি থানায় অভিযোগ করেছেন বাঁধন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত