Ajker Patrika

হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটে দুদকের অভিযান, স্টেন্টের দামে অনিয়ম খতিয়ে দেখবে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটে দুদকের অভিযান, স্টেন্টের দামে অনিয়ম খতিয়ে দেখবে
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে দুদক টিমের অভিযান। ছবি: আজকের পত্রিকা

জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে হৃদ্‌রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্টেন্ট বা হার্টের রিং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি এবং রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ রোববার হাসপাতালটিতে এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়ে স্টেন্টের মূল্য তালিকা, সরবরাহব্যবস্থা ও রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়াসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে দুদক।

দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্টেন্ট সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য নেওয়া হয়। পাশাপাশি স্টেন্টের মূল্য নির্ধারণ ও বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও সংগ্রহ করা হয়েছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় রোগীদের হৃদ্‌যন্ত্রে ব্যবহৃত স্টেন্টের মূল্য, সরবরাহব্যবস্থা, রোগীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া এবং এ-সংক্রান্ত কাজে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে সংগৃহীত তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযানের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়েছে, হৃদ্‌রোগের চিকিৎসায় রোগীর হার্টে স্টেন্ট বসানোর প্রয়োজন হলে অনেক সময় স্বজনদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এ সুযোগে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে স্টেন্ট বিক্রি করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীর স্বজনদের স্টেন্টের কোম্পানি, নির্ধারিত মূল্য ও বিকল্প সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না দিয়ে নির্দিষ্ট কোম্পানির স্টেন্ট কিনতে বলা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, স্টেন্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসকদের মধ্যে কমিশনভিত্তিক লেনদেনের কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। একটি স্টেন্ট ব্যবহারের বিপরীতে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো যাচাই করেনি দুদক।

অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের স্টেন্ট সরবরাহ ও বিক্রির প্রক্রিয়া, কোন কোম্পানির স্টেন্ট কী দামে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং রোগীর কাছ থেকে কীভাবে মূল্য নেওয়া হচ্ছে–এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছে দুদক। নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে রোগীর কাছ থেকে আদায় করা অর্থের কোনো পার্থক্য রয়েছে কি না, থাকলে এর কারণ কী, সেটিও যাচাই করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, হৃদ্‌রোগের চিকিৎসায় স্টেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে রোগী ও স্বজনদের অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর নির্ভর করতে হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প পণ্য বা মূল্য যাচাইয়ের সুযোগও সীমিত থাকে। ফলে স্টেন্টের দাম নিয়ে অনিয়ম হলে রোগীদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

দুদকের অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শুধু স্টেন্টের বিক্রয়মূল্য নয়, এর সঙ্গে কোনো ধরনের অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অনিয়ম বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেন হয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হবে। সংগৃহীত নথি ও তথ্য বিশ্লেষণের পর অভিযোগের বিষয়ে কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে অভিযানে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত ও পরবর্তী যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানান দুদক কর্মকর্তা ও অভিযান পরিচালনা টিমের প্রধান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত