Ajker Patrika

ই-হেলথ কার্ড ও ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ২০: ৪০
ই-হেলথ কার্ড ও ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। সংগৃহীত

দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর স্বাস্থ্য অপারেটিং সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বহু প্রতীক্ষিত ই-হেলথ কার্ড ও ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) কনফারেন্স রুমে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে এআই-সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানবিষয়ক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা উদ্বোধন’ বা ‘এআইচালিত স্বাস্থ্য অপারেটিং সিস্টেম’-বিষয়ক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করছে। নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন অনেক দূর এগিয়েছে। গত দেড় থেকে দুই বছর ধরে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এম এ মুহিত বলেন, ‘প্রযুক্তি যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে স্বাস্থ্য খাতে এআইয়ের ব্যবহার এখন আর ভবিষ্যতের বিষয় নয়, বরং বর্তমানের প্রয়োজন। আমাদের লক্ষ্য ই-হেলথ কার্ড ও ডিজিটাল প্রেসক্রিপশনের মতো আধুনিক সেবা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও পৌঁছে দেওয়া।’

গবেষকেরা জানান, এআই-চালিত স্বাস্থ্য অপারেটিং সিস্টেম চালু হলে শুধু হাসপাতাল নয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবায়ও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে একজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে তার চিকিৎসার তথ্য বিচ্ছিন্নভাবে সংরক্ষিত থাকে। এতে একই পরীক্ষা একাধিকবার করাতে হয়, রোগীর পূর্ব ইতিহাস জানা কঠিন হয় এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়। দেশের কোন এলাকায় কোন রোগ বেশি হচ্ছে, কোথায় ওষুধের চাহিদা বাড়ছে, কোন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের সংকট রয়েছে কিংবা কোথায় রোগীর চাপ বেশি—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। ফলে স্বাস্থ্য বাজেট পরিকল্পনা, জনবল বণ্টন ও ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও কার্যকর হতে পারে।

কর্মশালায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও গবেষকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য।

কর্মশালায় স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মোহাম্মদ এনামুল হকের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত