Ajker Patrika

আদ-দ্বীনের ১৫০০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে সংসদে উদ্বেগ জানালেন শফিকুর রহমান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আদ-দ্বীনের ১৫০০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে সংসদে উদ্বেগ জানালেন শফিকুর রহমান
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত

কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে ঢাকার বেসরকারি আদ-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার কারণে অন্তত দেড় হাজার মেডিকেল ও নার্সিং শিক্ষার্থীর একাডেমিক জীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘কেবল বই পড়ে কেউ ডাক্তার বা নার্স হতে পারে না; তাদের হাতে-কলমে শেখার জন্য সচল হাসপাতাল ও রোগীর উপস্থিতি অপরিহার্য। হাসপাতালের কোনো প্রশাসনিক বা কারিগরি দুর্বলতা থাকলে তা অবশ্যই তদন্তের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হোক, কিন্তু কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না।’

সম্প্রতি লাইসেন্স বাতিল হওয়া আদ-দ্বীন হাসপাতালের সংকট তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘এই হাসপাতালের সঙ্গে প্রায় ৭৫০ জন মেডিকেল শিক্ষার্থী এবং সমপরিমাণ (৭৫০ জন) নার্সিং শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িত। কোনো পূর্বপ্রস্তুতি বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই হঠাৎ হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখন বিপাকে পড়েছেন।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যা থেকে দেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা বা রেমিট্যান্স অর্জন করে। মাঝপথে এভাবে হাসপাতাল বন্ধ করার মতো হঠকারী সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন করবে এবং বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।

মানবিক ও যৌক্তিক কারণে অতি দ্রুত আদ-দ্বীন হাসপাতালটি খুলে দেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।

দেশের চিকিৎসকদের মেধা ও প্রতিভার প্রশংসা করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের তদারকি ব্যবস্থায় দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি অভিযোগ করেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজগুলোর পরিদর্শনে রেগুলেটরি বা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো যতটা কঠোর ও তৎপরতা দেখায়, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বেলায় তাদের ভূমিকা ততটাই নিষ্ক্রিয়।

বক্তব্যের অন্য অংশে নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) আসনের তীব্র পানি সংকটকে ‘কারবালার মতো’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি অভিযোগ করেন, একটি অসাধু রাজনৈতিক চক্র রাতের বেলা পানির মূল পাইপ কেটে অবৈধ সংযোগের বাণিজ্য চালাচ্ছে, যার কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে বাধ্য হচ্ছে।

একই সঙ্গে তিনি ঢাকা-সিলেট চার লেন মহাসড়কের ধীর গতির কাজের তীব্র সমালোচনা করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত