Ajker Patrika

বিডিআর হত্যাকাণ্ড দেখে ফেলায় স্বামীকে গুম করে হত্যা করা হয়: জবানবন্দিতে স্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বিডিআর হত্যাকাণ্ড দেখে ফেলায় স্বামীকে গুম করে হত্যা করা হয়: জবানবন্দিতে স্ত্রী

বিডিআর হত্যাকাণ্ড সচক্ষে দেখার কারণে স্বামীকে গুম করে হত্যা করা হয়েছিল বলে জবানবন্দি দিয়েছেন নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী। মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দিতে এ কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করে হত্যার ঘটনায় করা একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।

নিহত নজরুলের স্ত্রী জানান, র‍্যাবের তৎকালীন গোয়েন্দাপ্রধান জিয়াউল আহসান তাঁর স্বামীকে গুম করে হত্যা করেছেন বলে পরে জানতে পারেন। তিনি বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত হাত-পা বাঁধা, মাথায় যমটুপি পরানো বিকৃত এক লাশের ছবি দেখে মো. নজরুল ইসলামের লাশ শনাক্ত করেছিলেন তাঁরা। এ সময় স্বামীর লাশ শনাক্ত করা সেই ছবি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এ সময় তিনি তাঁর স্বামীকে গুম ও হত্যার বিচার দাবি করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। এ মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসান গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। শুনানির সময় তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

নিহতের স্ত্রী জবানবন্দিতে জানান, তিনি বাসায় বাসায় প্রাইভেট পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁর স্বামী মো. নজরুল ইসলাম বিডিআর হাসপাতাল পিলখানায় মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের সময় হত্যাকাণ্ড দেখে প্রাণের ভয়ে তিনি দেয়াল টপকে বের হয়ে যান। কেরানীগঞ্জে তিনি তাঁর এক আত্মীয়ের বাসায় যান। ২০১০ সালে তাঁর স্বামী গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মধুমতি ক্লিনিকে চাকরি নেন। ওই বছরের ১৫ মার্চ ডিউটিতে গিয়ে আর বাসায় ফেরত আসেননি নজরুল ইসলাম। পরদিন মধুমতি ক্লিনিকে গিয়ে জনৈক রুহুল আমীন শেখের কাছ থেকে জানতে পারেন, কোটালীপাড়া বামতার মোড় এলাকা থেকে সাদা পোশাকে পাঁচ-ছয়জন লোক তাঁর স্বামীকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গেছেন।

নিহত নজরুলের স্ত্রী বলেন, পরে ১৭ মার্চ কোটালীপাড়া থানায় গিয়ে স্বামীর অপহরণের বিষয়ে মামলা করেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তাঁদের বাড়িতে যেতেন। একদিন ঝালকাঠি থেকে ডিএসবির লোক গিয়ে তাঁর শ্বশুরকে বলেন, নজরুল ইসলামের লাশ বাগেরহাট শরণখোলা বলেশ্বর নদী থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। শ্বশুর বিষয়টি তাঁর অন্য ছেলেদের জানান। তাঁর দেবর জাহিদুল ইসলাম শাহীন বিডিআরে চাকরি করতেন। তিনি পত্রিকায় তাঁর স্বামীর লাশের ছবি দেখতে পেয়ে তা শনাক্ত করেন। তিনি আত্মীয়স্বজনসহ শরণখোলা থানায় গিয়ে তাঁর স্বামীর পরিধেয় পোশাক শনাক্ত করেন। লাশ ফেরত চাইলে পুলিশ জানায়, আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ দাফন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সহায়তায় ডিএনএ পরীক্ষার পর স্বামীর লাশ কবর থেকে তুলে বাড়িতে নিয়ে পুনরায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ: শেষ মুহূর্তে সময় চাইলেন বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার বললেন—সুযোগ নেই

ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব—শান্তির রূপরেখা নাকি ট্রাম্পের জন্য কূটনৈতিক ফাঁদ

হরমুজ প্রণালিতে কি ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেই সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংসদে পাস

যুদ্ধবিরতি: হরমুজ থেকে টোল আদায় করবে ইরান-ওমান

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত