Ajker Patrika

অচল কমিশন সচলে উদ্যোগ, শিগগির নিয়োগ দুদক কমিশনার

সৈয়দ ঋয়াদ, ঢাকা 
আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ১৯: ১৪
অচল কমিশন সচলে উদ্যোগ, শিগগির নিয়োগ দুদক কমিশনার

টানা তিন মাস কমিশনশূন্য থাকার পর দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কমিশনার নিয়োগের জন্য সুপারিশ দিতে আইন অনুযায়ী যে বাছাই (সার্চ) কমিটি গঠন করতে হয়, সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের একজন করে বিচারক মনোনয়নের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি নীতি শাখা থেকে সম্প্রতি পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে। সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আরিফুল হক মৃদুল স্বাক্ষরিত চিঠিটি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে উল্লিখিত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাছাই কমিটি গঠনের লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতি কর্তৃক বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন ও হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারককে মনোনয়ন দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী কমিশনার নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদানে পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠন করতে হয়। ওই কমিটির সভাপতি থাকেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারক এবং সদস্য হিসেবে থাকেন হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক। এ দুই সদস্যের মনোনয়ন দেন প্রধান বিচারপতি।

আইন অনুযায়ী, বাছাই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—বাংলাদেশের মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান এবং সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তবে পূর্ববর্তী মন্ত্রিপরিষদ সচিব না পাওয়া গেলে তাঁর পূর্ববর্তী মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে এই দায়িত্ব পালন করতে হয়। যদি এই ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটে, তবে বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব সার্চ কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিচারক মনোনয়নের পরই বাছাই কমিটি গঠন করা হবে। এরপর কমিশনার পদে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম বিবেচনা করে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সার্চ কমিটি গঠনের বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ফলে দীর্ঘদিনের শূন্যতা কাটিয়ে দ্রুতই নতুন কমিশন গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’

এ কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি দুদক আইন সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছিল। এ কারণে কমিশন গঠন বিলম্বিত হতে পারে—এমন ধারণা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ছিল। তবে সার্চ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়ায় এখন নতুন কমিশন গঠনের পথ অনেকটাই পরিষ্কার।

তবে দুদক-সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে কমিশন গঠন করতে বিএনপির সরকার সম্মত না হওয়ার কারণে অধ্যাদেশটি বাতিল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। এসব কারণেই বেশ বড় একটা সময় সংস্থাটিকে কমিশনশূন্য থাকতে হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের একযোগে পদত্যাগের পর থেকে দুদক কার্যত কমিশনশূন্য অবস্থায় রয়েছে। ফলে কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন—এমন অনেক নীতিগত সিদ্ধান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেয়।

নতুন কমিশন গঠিত হলে সংস্থাটির স্বাভাবিক কার্যক্রমে গতি ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত