Ajker Patrika

আমাদের সমুদ্রবন্দর-নৌপথ-উপকূলীয় অর্থনীতি পুরো বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১: ৪১
আমাদের সমুদ্রবন্দর-নৌপথ-উপকূলীয় অর্থনীতি পুরো বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে: প্রধানমন্ত্রী
বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: ফেসবুক থেকে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছে, ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতি পুরো বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। ভৌগোলিক এই অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে হবে।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর ঢাকায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক সম্মেলন বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন চলবে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তা প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে চলেছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে আমাদের সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতি পুরো বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আঞ্চলিকভাবে আমাদের এই অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে হবে। আর সে জন্য প্রয়োজন আরও গভীর দ্বিপক্ষীয় ও বহু পাক্ষিক সম্পৃক্ততা।’

বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করতে পারি। আমরা নতুন বাজার উন্মুক্ত করতে পারি এবং আমাদের তরুণদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি। সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আমরা আরও শক্তিশালী সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের একত্রিত করেছে; আর আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের সঙ্গে জনগণের নিবিড় সম্পর্ক আমাদের আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব। একই সঙ্গে আমরা আমাদের সকল আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাব। কারণ, শান্তি ও সম্প্রীতিই হলো যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি।’

তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলটি এমন একটি এলাকায় পরিণত হোক— যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসঙ্গে বিকশিত হবে, পারস্পরিক সমান সুবিধা গ্রহণ করবে এবং নাগরিকেরা অর্থবহ সহযোগিতার হাতকে প্রসারিত করবে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে তার যথাযথ ভূমিকা পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করছি। একই সঙ্গে দেশকে একটি শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছি। উৎপাদন, সেবা, রপ্তানিসহ সকল খাতে আমরা ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তা অপরিহার্য, আর আমাদের দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতাই সেই নিশ্চয়তা প্রদান করবে।’

এ দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী জাতীয় অগ্রগতির এক অনন্য চালিকাশক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে প্রয়োজন দক্ষতা ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান। আমরা ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে গ্রহণ করছি। আমরা উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং স্টার্ট-আপগুলোকে সহায়তা দিচ্ছি। আমরা চাই আমাদের তরুণেরা বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করুক এবং ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে রূপান্তর করুক।’

সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান জানান, এবারের বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে শতাধিক দেশের দুই শতাধিক আলোচক, তিন শতাধিক ডেলিগেট ও এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিচ্ছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, সামরিক বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত