Ajker Patrika

আদালতের স্বল্পতায় মামলাজটের শিকার গ্রাহক

  • এক জেলার সমস্যায় যেতে হয় অন্য জেলায়।
  • মামলাজটে ভোগান্তি গ্রাহকদের।
  • আইন মন্ত্রণালয়কে সুপ্রিম কোর্টের চিঠি।
  • কোম্পানি পারলেও গ্রাহকদের মামলার সুযোগ নেই।
এস এম নূর মোহাম্মদ, ঢাকা  
আপডেট : ০১ মে ২০২৫, ১২: ০২
আদালতের স্বল্পতায় মামলাজটের শিকার গ্রাহক

দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির আওতাধীন জেলাগুলোয় বিদ্যুৎ আইনে অপরাধের বিচারে আদালত রয়েছে মাত্র ১৯টি। সব জেলায় আদালত না থাকায় এক জেলার গ্রাহকদের মামলাসংক্রান্ত কাজে যেতে হচ্ছে অন্য জেলায়। আদালতের সংখ্যা কম থাকায় ভুগতে হচ্ছে মামলাজটে। সমস্যার সমাধানে আদালতের সংখ্যা বাড়াতে সম্প্রতি আইন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

সুপ্রিম কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে বিদ্যুৎ আইনে করা মামলা নিষ্পত্তির জন্য আদালত রয়েছে মাত্র ১৯টি। প্রয়োজন আরও ৯৮টি। তাই নতুন করে ৯৮টি আদালত স্থাপন এবং এসব আদালতে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের পদায়ন করতে আইন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

প্রধান বিচারপতির নির্দেশে আইন মন্ত্রণালয়কে গত ১৩ মার্চ চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ২১ জেলার জন্য বিদ্যুৎ আদালত রয়েছে ৮টি। এসব জেলার জন্য প্রয়োজন আরও ১৩টি আদালত। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় ৫৭ জেলার জন্য আদালত রয়েছে ২টি। প্রয়োজন আরও ৫৫টি। নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির আওতায় ১৬টি জেলার জন্য আছে ৫টি আদালত। এসব জেলার জন্য আরও প্রয়োজন ১১টি আদালত।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির আওতায় ২১টি জেলার জন্য বিদ্যুৎ আদালত রয়েছে ৪টি। আরও প্রয়োজন ১৭টি। ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের আওতায় থাকা দুটি জেলার জন্য কোনো আদালত এখনো স্থাপন করা হয়নি। তাই দুই জেলার জন্য আদালত প্রয়োজন দুটি।

সুপ্রিম কোর্টে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশের বিদ্যুৎ আদালতগুলোতে বিচারাধীন ছিল ১৬ হাজার ৯৬৬টি মামলা। ২ হাজার ২৭৮টি মামলা ৫ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন। আর উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে ২৪টি মামলা।

বিল বেশি আসা, কারণ ছাড়া সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাসহ নানা ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় বিদ্যুতের গ্রাহকদের। তবে বিদ্যুৎ আদালতে কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারলেও গ্রাহকরা সেই সুযোগ পান না।

বিদ্যুৎ আদালতে কাজ করা সাবেক একজন বিচারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিচারকেরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সুযোগ পেলেও অনিয়মের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা করতে পারেন না। এই সুযোগে কোম্পানির প্রতিনিধিরা গ্রাহকদের সঙ্গে দেন-দরবারের সুযোগ পান। এতে অনেক সময় জরিমানা আদায় না হওয়ায় রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই বিচারক মত দেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার চাক্ষুস প্রমাণ থাকলে মোবাইল কোর্টের মতো বিদ্যুৎ আদালতের বিচারকদেরও জরিমানা করার সুযোগ দিতে এবং গ্রাহকদের মামলা করার অধিকার দিতে আইন সংশোধন করা উচিত।

বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-এর ৪৮(১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো গ্রাহকের বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা জানার পর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তার বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করবে এবং সাত কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে লিখিতভাবে অভিযোগ করবে। তবে গ্রাহক চুরি করা বিদ্যুতের মূল্যের তিন গুণ অর্থ, কোম্পানির সরবরাহকৃত মিটারের মূল্য, বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ও পুনঃসংযোগ ফি এবং প্রযোজ্য অন্যান্য ফি পরিশোধ করলে এবং কর্তৃপক্ষের কাছে তা উপযুক্ত বলে বিবেচিত হলে মামলা দায়ের এড়ানো যাবে। অনিয়মকারী গ্রাহক দণ্ডের অর্থ পরিশোধের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আবার বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া যাবে। তবে এই বিধান শুধু অভিযুক্ত গ্রাহকের প্রথম অপরাধের ক্ষেত্রে বিবেচনাযোগ্য হবে।

বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-এর ৪৮(২) ধারায় বলা হয়েছে, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী ব্যক্তি এই আইনের অধীনে তার বিরুদ্ধে গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবে না।

৪৯(২) (ক) ধারায় বলা হয়েছে, প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এই আইনের অধীনের অপরাধসমূহের বিচার করবেন। এ ছাড়া ৪৯(২) (খ) ধারায় বলা হয়েছে, প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য এই আইনে বর্ণিত যেকোনো অর্থদণ্ড আরোপ করতে পারবেন।

সার্বিক বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মোয়াজ্জেম হোসাইন আজকের পত্রিকাকে বলেন, গ্রাহকদের ভোগান্তি বিবেচনায় আরও ৯৮টি বিদ্যুৎ আদালত স্থাপন করতে সুপ্রিম কোর্ট থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এসব আদালত স্থাপন হলে গ্রাহকেরা নিজ জেলার আদালতে মামলা করতে পারবেন, ভিন্ন জেলায় যেতে হবে না। আর মামলা নিষ্পত্তিও বাড়বে।

অন্যদিকে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ আবু তাহের আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কাজ চলছে। সুপ্রিম কোর্টের চিঠি অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গ্রামীণফোনে চাকরির সুযোগ, আবেদন শেষ ২৮ জানুয়ারি

‘আপু’ বলায় খেপলেন ইউএনও

বাকৃবিতে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা

ডালে ৩০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন মোদি, টেরই পাননি ট্রাম্প

কুমিল্লা-৪: বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল অবৈধ, হাসনাত বৈধ— আপিলে ইসির সিদ্ধান্ত

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে মাঠে ইইউর ৫৬ পর্যবেক্ষক

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে মাঠে ইইউর ৫৬ পর্যবেক্ষক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ৫৬ জন পর্যবেক্ষক মাঠে নেমেছেন।

রাজধানীর একটি হোটেলে আজ শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইইউ ইওএম) উপপ্রধান ও পর্যবেক্ষক ইনতা লাসে বলেন, ‘আমাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে দিন এবং একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করি। এ কথা সবারই জানা, পৃথিবীর কোথাও নিখুঁত নির্বাচন নেই। মিশনের মূল্যায়ন প্রস্তুতের সময় পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে এর সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা জরুরি।’

বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে প্রণীত মিশনের মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও সুপারিশ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করতে সহায়ক হবে বলে এ সময় মন্তব্য করেন ইনতা লাসে।

পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে ইনতা লাসে বলেন, ‘আপনারাই মাঠে থাকবেন। বাস্তবতা দেখবেন। প্রতিটি জেলায় পরিস্থিতি কীভাবে এগোচ্ছে, তা ঢাকায় আমাদের জানাবেন। আপনাদের মাঠপর্যায়ের মূল্যায়ন ও প্রতিবেদন আমরা গুরুত্বের সঙ্গে প্রত্যাশা করছি। দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকেরা আমাদের মিশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন করা হবে।’

লাসে জানান, পর্যবেক্ষকেরা দুই সদস্যের দলে কাজ করবেন। তাঁরা শুধু শহরে নয়; ছোট শহর ও গ্রামেও ভোটার, নির্বাচনী কর্মকর্তা, প্রার্থী, রাজনৈতিক দল, নাগরিক পর্যবেক্ষক ও তরুণ কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

ইইউর সদস্য রাষ্ট্রগুলো ছাড়া কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকেও পর্যবেক্ষক এসেছেন। মাঠপর্যায়ে কাজ শুরুর আগে তাঁদের বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনগত কাঠামো এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং করা হয়।

মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইজাবস। তিনি ১১ জানুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মিশনের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

নির্বাচনের দিন এগিয়ে এলে ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েনের মাধ্যমে মিশনের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। তাঁদের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকেরাও যুক্ত হবেন। তাঁরা ভোট গ্রহণ, ভোট গণনা ও ফল ট্যাবুলেশন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।

এ ছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের একটি প্রতিনিধিদলও মিশনে অংশ নেবে। সব মিলিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনে ২৭টি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রসহ কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক কাজ করবেন।

ইইউ ইওএম আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে তাঁদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। এরপর পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবে।

ইইউ কর্মকর্তারা জানান, উভয় প্রতিবেদনই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে এবং মিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গ্রামীণফোনে চাকরির সুযোগ, আবেদন শেষ ২৮ জানুয়ারি

‘আপু’ বলায় খেপলেন ইউএনও

বাকৃবিতে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা

ডালে ৩০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন মোদি, টেরই পাননি ট্রাম্প

কুমিল্লা-৪: বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল অবৈধ, হাসনাত বৈধ— আপিলে ইসির সিদ্ধান্ত

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

জুলাইয়ের চেতনার নামে গরু কোরবানি, মধ্যরাতে অফিসে হামলা, আগুন দেওয়া নজিরবিহীন: হাসান হাফিজ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
গণমাধ্যম সম্মিলনে বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
গণমাধ্যম সম্মিলনে বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

জুলাইয়ের চেতনার নামে গরু কোরবানি দেওয়া, মধ্যরাতে অফিসে হামলা করা, আগুন দেওয়া নজিরবিহীন ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ। আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের (কেআইবি) মিলনায়তনে গণমাধ্যম সম্মিলনে তিনি এ কথা বলেন।

হাসান হাফিজ বলেন, ‘আমরা জুলাইয়ের চেতনার নামে যা দেখেছি—গরু কোরবানি দেওয়া, মধ্যরাতে অফিসে আক্রমণ করা, আগুন দেওয়া, এটা নজিরবিহীন। জুলাই আন্দোলনে আমরা যতটা অর্জন করেছি, ততটা আমাদের জন্য কলঙ্ক। ঘৃণায় বিশ্ববাসীর কাছে মুখ দেখানোর মতো অবস্থা আমাদের নেই। এটি খুব মর্মান্তিক। আমরা বিচ্যুত হতে চাই না। আমরা জুলাই চেতনাকে সম্মান করতে চাই, সেটিকে এগিয়ে নিতে চাই। আমরা গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে সুগম করতে চাই।’

বিগত দেড় দশকে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও দমন-পীড়নের কথা তুলে ধরেন প্রেসক্লাব সভাপতি। তিনি বলেন, ‘বিগত দেড় দশকে অনেক মিডিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ‍নিপীড়ন ও নিষ্পেষণ করা হয়েছে, অনেক অফিসে ভাঙচুর করা হয়েছে, সম্পাদকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য যত দিন আকাঙ্ক্ষা থাকবে, এই লড়াইটা কিন্তু আমাদের চলবে। আমরা সেটি জেনেশুনেই মিডিয়াতে এসেছি। অন্য ১০টা পেশার থেকে এটা ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। এটি মহৎ পেশা, সে জন্য এটার যেমন রোমাঞ্চ আছে, একই রকম চ্যালেঞ্জও আছে।’

হাসান হাফিজ বলেন, ‘সাংবাদিকতায় একটা অজানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে হয়। সামনে যে নির্বাচন, আমি দাবি করব, জুলাইয়ের যে গণপ্রত্যাশা সেটির প্রতিফলন আমরা দেখতে চাই। আমরা সেটির হিসাব কড়ায়গন্ডায় নিতে চাই। এই চ্যালেঞ্জটা শুধু কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, কিংবা ২৩ জন উপদেষ্টার নয়। এটি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমরা যেন নিজেদের ভেতর থেকে বদলাতে পারি।’

প্রেসক্লাব সভাপতি আরও বলেন, ‘আমার স্বাধীন গণমাধ্যম চাই, আমরা শত মতের বিকাশ চাই, আমরা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে চাই, দেশপ্রেমের পরিচয় দিতে চাই। আমরা সততা, নিষ্ঠা আন্তরিকতার পরিচয় দিতে চাই। এটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মুক্তিযুদ্ধ, জুলাইয়ের চেতনা—সবকিছুই সম্পর্কযুক্ত।’

এদিন সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে গণমাধ্যম সম্মিলন শুরু হয়। সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এবং সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এ সম্মিলনের আয়োজন করে।

নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের সদস্য, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এবং ঢাকার বাইরে কর্মরত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সম্পাদক-প্রকাশকেরা সম্মিলনে অংশ নেন।

দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার জন্য একসঙ্গে দাঁড়ানোর এ আয়োজনে বিভিন্ন পর্যায়ের গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও কলাম লেখকেরাও অংশ নেন। গণমাধ্যমের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সাংবাদিকেরা তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গ্রামীণফোনে চাকরির সুযোগ, আবেদন শেষ ২৮ জানুয়ারি

‘আপু’ বলায় খেপলেন ইউএনও

বাকৃবিতে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা

ডালে ৩০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন মোদি, টেরই পাননি ট্রাম্প

কুমিল্লা-৪: বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল অবৈধ, হাসনাত বৈধ— আপিলে ইসির সিদ্ধান্ত

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারের নৈতিক ভিত্তি জুলাইয়ের আত্মদান: আলী রীয়াজ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
অধ্যাপক আলী রীয়াজ। ছবি: সংগৃহীত
অধ্যাপক আলী রীয়াজ। ছবি: সংগৃহীত

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও সরকারের গণভোট প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেছেন, ‘এ সরকার রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আপনি এটাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার মনে করেন? যে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। এটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়, এটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সংবিধানের চার দেয়ালের মাধ্যমে নয়, বাংলাদেশের রাজপথে ১৪০০ মানুষের রক্তের মাধ্যমে এ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটা মনে রাখুন। নৈতিক জোর হচ্ছে মানুষের আত্মদান।’

আজ শনিবার রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশে ঢাকা বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

সরকারের মূল অ্যাজেন্ডা সংস্কার উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন নিয়ে একটি জাতীয় অ্যাজেন্ডা তৈরি হলো। তার চেয়েও বেশি নৈতিক ভিত্তি কিসে থাকতে পারে? কেউ যদি ভাবে এটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার, যার কাজ হচ্ছে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করে বাড়ি চলে যাবে, তাহলে বিশ্বাসঘাতকতা হবে জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে। জুলাই জাতীয় সনদ কাউকে ক্ষমতায় বসানোর অ্যাজেন্ডা নয়, কাউকে ক্ষমতা থেকে বাইরে রাখার অ্যাজেন্ডা নয়। সব মানুষের সম্মতি নেওয়ার জন্য গণভোট হচ্ছে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারি কর্মচারীদের প্রচারের বিষয়ে সংবিধান ও আইন বিজ্ঞদের পরামর্শ সরকার নিয়েছে বলে জানান অধ্যাপক আলী রীয়াজ। বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সাবেক বিচারপতি, সাংবিধানিক মামলা পরিচালনায় অভিজ্ঞ আইনজীবী ও আইন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। তাঁদের মতামতের বিষয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ওনারা (বিশেষজ্ঞ) আলাপ-আলোচনা করে জানিয়েছেন সংবিধানে কোনো ধরনের (সরকারি কর্মচারীদের প্রচারে) বাধাবিঘ্ন নেই। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে (আরপিও) বাধা নেই। অন্যদিকে সরকারের জারি করা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশে-২০২৫ ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য প্রচারে বাধা রাখা হয়নি। গণভোট-সংক্রান্ত অধ্যাদেশেও নিষেধাজ্ঞা নেই।

আলী রীয়াজ বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসক পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। দেশের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে জনগণের অভিপ্রায়ের কথা বলা হয়েছে। সেটা বাংলাদেশের রাজপথে প্রদর্শিত হয়েছে। যার ভিত্তিতে এ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সংবিধানের কোথাও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নেই। এ সরকার প্রথম দিন থেকে বলছে তাদের দায়িত্ব হচ্ছে প্রথমে সংস্কার, তারপরে মানবতা অপরাধের বিচার এবং সর্বশেষ নির্বাচন।

সরকার সংস্কার চাপিয়ে দিচ্ছে না দাবি করে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছে। সরকার সংস্কারের কিছুই বাস্তবায়ন করছেন না। কিন্তু গণভোটে যা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর পরের ১৮০ দিন সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব পালন করবে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মানুষকে বোঝাতে সরকারি কর্মচারীদের নির্দেশনা দেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, ‘যারা গণভোটকে পরাজিত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয়ভাবে নিজস্ব উদ্যোগে কথাবার্তা বলে বোঝাতে চেষ্টা করতে হবে। যারা ভুল বলছে, তারা বুঝতে পারছে না। আমি বিশ্বাস করতে চাই, তাদের অসৎ উদ্দেশ্য নেই, কিন্তু তারা বিভ্রান্ত হচ্ছে। ১৯৭২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত হতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ৪৮টি গণভোট হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেশগুলোর সরকার হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিল। সরকার আন্তর্জাতিক পথ-পদ্ধতির বাইরে কিছু করছে না।’

কর্মচারীদের উদ্দেশে আলী রীয়াজ বলেন, ‘মানুষকে জিজ্ঞেস করুন, রক্তে লেখা সনদ যে পথরেখা দেখাচ্ছে—আমি তার সঙ্গে আছি নাকি নেই। এটাই হচ্ছে হ্যাঁ ও না-এর বিষয়। আমরা সবাইকে বলি, আছি। কারণ, দেশের চাবি আপনাদের হাতে। সবাইকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের সুযোগ সকলের। আপনাদের কাজ হচ্ছে সকলের কাছে পৌঁছানো।’

গণভোটের ফলাফল নির্ধারণে ভোটের কোনো ন্যূনতম সীমা নেই বলে জানান আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের নির্বাচনে কোনো ন্যূনতম সীমা নেই।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গ্রামীণফোনে চাকরির সুযোগ, আবেদন শেষ ২৮ জানুয়ারি

‘আপু’ বলায় খেপলেন ইউএনও

বাকৃবিতে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা

ডালে ৩০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন মোদি, টেরই পাননি ট্রাম্প

কুমিল্লা-৪: বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল অবৈধ, হাসনাত বৈধ— আপিলে ইসির সিদ্ধান্ত

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

কুমিল্লা-৪: বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল অবৈধ, হাসনাত বৈধ— আপিলে ইসির সিদ্ধান্ত

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ৪২
মনজুরুল আহসান মুন্সী ও হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
মনজুরুল আহসান মুন্সী ও হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়নপত্র বহাল রাখা হয়েছে।

আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) একে অপরের বিরুদ্ধে দাখিল করা দুটি আপিল আবেদনের শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত দেয় কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে বিকেলে আদেশ ঘোষণা করা হয়।

ইসি হাসনাতের দাখিল করা আপিল মঞ্জুর করে মনজুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে। তবে মুন্সীর দাখিল করা আপিল খারিজ করে হাসনাতের মনোনয়নপত্রকে বৈধ ঘোষণা করে কমিশন।

আপিল আবেদনে মনজুরুল আহসান মুন্সী অভিযোগ করেন, হাসনাত মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় তাঁর আয়ের উৎস সঠিকভাবে উল্লেখ করেননি।

অন্যদিকে হাসনাত তাঁর আপিলে অভিযোগ করেন, মনজুরুল আহসান মুন্সী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

তবে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর ঋণখেলাপির বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তাকে ঋণখেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্তে হাইকোর্ট ৩ মাসের যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল তা স্থগিত রেখে এ–সংক্রান্ত রুল দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টকে গত বুধবার নিষ্পত্তি করতে বলেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এ অবস্থায় মঞ্জুরুল আহসান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়তে পারবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

এর আগে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সের করা পৃথক আবেদনের (লিভ টু আপিল) শুনানি নিয়ে ৮ জানুয়ারি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আট সপ্তাহের জন্য হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে মঞ্জুরুল আহসান আবেদন করেন, যা গত বুধবার চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য ওঠে।

আদালতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান ও আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন শুনানিতে ছিলেন। আইডিএলসি ফাইন্যান্সের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী বিভূতি তরফদার শুনানিতে ছিলেন।

পরে আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন জানান, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্স থেকে মাম পাওয়ার লিমিটেড ঋণ নেয়। মাম পাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুরুল আহসান। প্রিমিয়ার ব্যাংককে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। ব্যাংক ঋণ পুনঃ তফসিল করেছে। আইডিএলসির সঙ্গেও সেটেলমেন্ট হয়েছে; এর অংশ হিসেবে ডাউনপেমেন্ট দেওয়া হয়েছে। মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়নপত্র এখনো বৈধ। এ মামলার সঙ্গে তাঁর (মঞ্জুরুল আহসান) মনোনয়নের সম্পর্ক নেই।

আইডিএলসি ফাইন্যান্সের আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন জানান, চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে তাঁরা (মঞ্জুরুল আহসান) আবেদন করেন। আদালত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেননি, চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ বহাল রেখে লিভ টু আপিল (প্রিমিয়ার ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্স করা) নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। দেনা–পাওনা আছে, তিনি (মঞ্জুরুল আহসান) বাংলাদেশ ব্যাংকে অ্যাপ্রোচ করেছেন—এ রকম কিছু একটা কথা চলছে। আইডিএলসির ঋণ এখনো পুনঃ তফসিল হয়নি। সে হিসেবে সিআইবি প্রতিবেদনে তাঁর নাম থেকে যাবে। ফলে তাঁর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের আইনজীবী বিভূতি তরফদার জানান বলেন, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে মঞ্জুরুল আহসানের করা আবেদনের শুনানি হয়। ৮ জানুয়ারি দেওয়া স্থগিতাদেশ চলমান রেখে চেম্বার আদালত দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রিমিয়ার ব্যাংকে ১৩ জানুয়ারি দেড় কোটি টাকা জমা দিয়ে ঋণ পুনঃ তফসিল করেছেন মঞ্জুরুল আহসান। এ হিসেবে তিনি এখন ব্যাংকটির ঋণখেলাপির মধ্যে পড়েন না।

আইনজীবীর তথ্য অনুসারে, মাম পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুরুল আহসান। এই কোম্পানির ঋণ ঘিরে ঋণখেলাপি হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা না করতে এবং নাম সিআইবিতে (ঋণ তথ্য ব্যুরো) না পাঠাতে ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে কোম্পানি ও তিনি মামলা করেন। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হয়, যা গত বছরের ৫ নভেম্বর খারিজ হয়। এরপর তিনি হাইকোর্টে বিবিধ আপিল করেন। শুনানি নিয়ে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম তিন মাসের জন্য ঋণখেলাপির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ও প্রকাশ না করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে চেম্বার আদালত এই আদেশ স্থগিত করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গ্রামীণফোনে চাকরির সুযোগ, আবেদন শেষ ২৮ জানুয়ারি

‘আপু’ বলায় খেপলেন ইউএনও

বাকৃবিতে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা

ডালে ৩০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন মোদি, টেরই পাননি ট্রাম্প

কুমিল্লা-৪: বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল অবৈধ, হাসনাত বৈধ— আপিলে ইসির সিদ্ধান্ত

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত