Ajker Patrika

খেলাপি সংস্কৃতির কারণে ব্যাংকিং খাত পুরো বেহাল: সংসদে রেজা কিবরিয়া

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
খেলাপি সংস্কৃতির কারণে ব্যাংকিং খাত পুরো বেহাল: সংসদে রেজা কিবরিয়া
জাতীয় সংসদে রেজা কিবরিয়া। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হবিগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়া বলেছেন, তিনি ৩৫টি দেশে কাজ করেছেন। এসব দেশে মোট ঋণের ৬ শতাংশ খেলাপি হলে তাঁরা ঘাবড়ে যেতেন। কিন্তু বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ ৬১ শতাংশ। এতে বোঝা যায় এদেশের ব্যাংকিং খাত সম্পূর্ণভাবে বেহাল।

জ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘ব্যাংকের বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ না নিলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি আশা করাটা ভুল। আমাদের ব্যাংকিং দক্ষতা বাড়াতে হবে।’ বিরোধী দলের সদস্যরা তাঁর কথায় হাততালি দেন।

রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের দক্ষতা খুবই কম। কারণ, আমরা জনগণ থেকে টাকা নিয়ে ৫ শতাংশ সুদ দিই। অন্যদিকে, তারা ঋণ নিতে এলে ১৪ বা ১৬ শতাংশ চাই। সৎ ব্যবসায়ীরা ঋণ পাচ্ছে না। আমরা ব্যাংকের খেলাপির সংজ্ঞা পাল্টে দিয়েছি। আগে ছিল ৯০ দিন সুদ না দিলে খেলাপি, কিন্তু এখন এক বছর সুদ না দিলে খেলাপি বলি।’

পেশায় অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া এ সময় উল্লেখ করেন, তিনি ১৯৮৪ সালে আইএমএফে কর্মজীবন শুরু করেন। অর্থনীতি খাতে তিনি দীর্ঘ ৪৫ বছর কাজ করেছেন।

মুদ্রাস্ফীতির বিষয়ে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি কম রাখাটা শ্রেয়। আমাদের বিনিময় হার প্রতিবছর কমে, কারণটা হচ্ছে—বাণিজ্য সহযোগীর মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে আমাদের মুদ্রাস্ফীতির তফাতের ওপর সবকিছু নির্ভর করে।...এখন ছয় মাস অন্তর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে আনা হচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বাজেট বিস্ময়ের কিছু নয়।’

দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিএনপির এই সংসদ সদস্য। মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ এখনো নিয়ন্ত্রণযোগ্য মনে করলেও বাণিজ্যিক বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।

রেজা কিবরিয়া আয়বৈষম্যের প্রসঙ্গে বলেন, আগের সরকারগুলো আয় বণ্টনের বৈষম্য কমাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত