Ajker Patrika

বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দেখার দায়িত্ব সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের: আইনমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দেখার দায়িত্ব সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের: আইনমন্ত্রী
রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: আইন মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের নয়। সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে যদি কোনো মিসকন্ডাক্টের অভিযোগ ওঠে, সেটি দেখার বিষয় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের। এ বিষয়ে সরকার বা আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্তব্য ও দায়িত্ব নেই।

আজ শনিবার ঢাকার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এক বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা এবং উক্ত প্রতিবন্ধকতাসমূহ নিরসনের কার্যকর উপায় চিহ্নিতকরণ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে এই গবেষণা পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী।

গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ। অন্যদিকে ৭০ শতাংশ মামলাতেই খালাস পাচ্ছেন আসামি। গবেষণাটি দেশের ৩২টি জেলায় ৪৬ ট্রাইব্যুনালে জানুয়ারি ২০২৫ থেকে জুন ২০২৫ সময়কালে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়া ৪ হাজার ৪০টি মামলার নথি ও রেজিস্টার পর্যালোচনার ভিত্তিতে করা হয়।

গবেষণায় নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর ক্ষেত্রে মামলার সময়সীমা, মুলতবির সংখ্যা, সময় আবেদনের পুনরাবৃত্তি, মামলার ধরন ও নিষ্পত্তি, সাক্ষী ও অভিযুক্ত ব্যক্তির তথ্য, ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের গড় বয়স ও বৈবাহিক অবস্থা, ফরেনসিক ও ডাক্তারি পরীক্ষা, দণ্ড প্রাপ্তি ও খালাসের ধরন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন, ২০০০ প্রণীত হয়। ধর্ষণ ও যৌতুক-সংক্রান্ত সহিংসতা এবং যৌন হয়রানির মতো অপরাধগুলো এই আইনের অন্তর্ভুক্ত। আইনটিতে দ্রুত তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম শেষে দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির জন্য ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও গবেষণায় দেখা গেছে, ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা নিষ্পত্তির গড় সময়সীমা তিন বছর সাত মাস। প্রতিটি মামলার জন্য ট্রাইব্যুনালে তারিখ পড়েছে গড়ে ২২ বার।

গবেষণার তথ্যে দেখা যায়, ট্রাইব্যুনালগুলো আইনে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছে না। দুঃখের বিষয়, যে উদ্দেশ্য সামনে রেখে আইনটি করা হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। এত বছর পরও নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে।

অভিযোগকারী ও সাক্ষীর অনুপস্থিতি, ঘন ঘন সময় প্রার্থনা, তদন্তে বিলম্ব, দুর্বল প্রমাণ ব্যবস্থা এবং সাক্ষী সুরক্ষার অভাব বিচার বিলম্বের প্রধান কারণ হিসেবে গবেষণায় চিহ্নিত হয়েছে। আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য এই প্রতিবন্ধকতাগুলোর যথাযথ সমাধান না করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-তে এই সময়সীমা কমিয়ে ৯০ দিন করা হয়েছে।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন। পরামর্শ সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা এবং জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব। কনসালট্যান্ট হিসেবে সভায় গবেষণা পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেন সাবেক জেলা ও দায়রা জজ উম্মে কুলসুম।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাকে ঢাকায় রেখো না, ঢাকার বাইরে নিয়ে যাও’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হঠাৎ রমনা থানা পরিদর্শন, ১০ মিনিটে যা যা করলেন

ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন: সব পদে বিএনপি-সমর্থক আইনজীবী প্যানেলের জয়

ইরানের সঙ্গে স্থল বাণিজ্য পথ খুলে দিল পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র কি মেনে নেবে

আজকের রাশিফল: বিকেলের সারপ্রাইজ কল মুড বদলে দেবে, অতি চালাকি বিপদ আনবে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত