Ajker Patrika

স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে: ড. কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ২১: ২৯
স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে: ড. কামাল
আলোচনা সভায় অতিথিরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন। সংবিধান দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

‘মানবাধিকার, গণতন্ত্র, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং ৭২-এর সংবিধানের মূলনীতি’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি। ড. কামাল হোসেনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সানজিদ রহমান শুভ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান জাতির সংগ্রামের ফসল। জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা ১৯৭২ সালের সংবিধানের চার মূলনীতি। জনগণই রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার মালিক। মানুষের অধিকার রক্ষার কাজ এখনো শেষ হয়নি। স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ম, গোষ্ঠী, লিঙ্গ, বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো বৈষম্য হতে দেওয়া যাবে না।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘ক্ষমতা পাকাপোক্তের জন্য কেউ যদি সংবিধান সংশোধন করে অতীতে সেটা টেকেনি, ভবিষ্যতেও টিকবে না। আর যদি গণভোটের জন্য করতে চান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থার জন্য করতে চান, সম্পদের সুষম বণ্টনের জন্য করতে চান–সার্বজনীন হলে হয়তো টিকে থাকবে। আমরা চাচ্ছি যে, বিএনপি যে সংবিধান সংশোধনটা করতে চায়, সেটা যেন সার্বজনীন হয়, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। যদি বিচার বিভাগ শক্তিশালী না করতে পারি তাহলে সবকিছু দুর্বল হয়ে যাবে। শক্তিশালী বিচারব্যবস্থা গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, সম্পদের সুষম বণ্টনের জন্য রক্ষাকবচ। যদি বিচার বিভাগ শক্তিশালী থাকত তাহলে ব্যাংকগুলো খালি হয়ে যেত না। যারা লুট করবে তারা সব সরকারের সময়ই সজাগ থাকে।’

সভাপতির বক্তব্যে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘৫৪ বছর ধরে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করছি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য। এক এগারো সরকার কিছুটা করেছে। সচিবালয় (সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়) এখান থেকে তুলে নিয়ে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। তারপরে বিচারপতিদের নিয়োগের যে বিধি সেটার জন্য বহুবছর আমরা অপেক্ষা করেছি। সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়েও বলেছে যে বিধি করতে হবে। যেনতেনভাবে বিচারপতি নিয়োগ করা যাবে না। এখন দেখছি সেই বিধিটাও বাতিল করে দিয়েছে। তাহলে আমরা যেখানে ছিলাম সেখানেই রয়ে গেছি। আমরা শুধু ঘুরপাক খাচ্ছি। এরকম বিভক্তি থাকলে ভবিষ্যতে আবার আমরা হোঁচট খাব। এই সরকারকে বলতে চাই, অনেক চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে সর্বশেষ জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা এখন একটা জায়গায় এসেছি। আপনারা জাতিকে আর বিভক্তি করবেন না।’

সুব্রত চৌধুরী আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করতে হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন। সেই জায়গায় আমাদের থাকতে হবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি মাঠে ময়দানে বিরোধী দল এখন ৪৭কে নিয়ে আসতে চায়। তাঁরা মুক্তিযুদ্ধকে মুছে দিতে চায় এবং তাঁদের সহযোগী ছিল প্রফেসর ইউনূস। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের “বাংলাদেশকে রিসেট” করার মধ্য দিয়ে ১৯৫২, ১৯৬২, ১৯৬৯, ১৯৭১ ও ১৯৯০ সালের ইতিহাসকে বাতিল করার কথা বলা হয়েছিল। ওই সময়ে দেশে মবতন্ত্র ও মৌলবাদের উত্থান ঘটেছে, যার প্রভাব এখনো মানুষকে ভোগাচ্ছে। মৌলবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে। যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধভাবে মৌলবাদী গোষ্ঠিকে নিশ্চিহ্ন করতে হবে।’

সভায় আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, ব্যারিস্টার সারা হোসেন প্রমুখ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইনজীবী হাসান তারিক চৌধুরী।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত